নিউইয়র্কের বেশিরভাগ করোনা রোগী বাড়িতে থেকেও আক্রান্ত

corona

আন্তর্জাতিক : করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ইয়র্ক রাজ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। আর বেশিরভাগই আক্রান্ত হয়েছেন ঘরের বাইরে বের না হয়েই। তারা কেউই কাজের জন্য বাইরে যাননি বা ভ্রমণে বের হননি এমন তথ্যই দিয়েছেন রাজ্যটির গভর্নর অ্যান্ড্রো কুমো।

মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। নিউইয়র্কের ১১৩টি হাসপাতালের ১২শ রোগীর ওপর করা জরিপে দেখা যায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই লকডাউনের কারণে বাড়িতেই ছিলেন। যাদের অধিকাংশের বয়স ৫১ এর বেশি, যারা বেকার ও অবসরপ্রাপ্ত। এবং তারা আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। নিউইয়র্কে থাকা আফ্রিকান আমেরিকান ও হিসপানিকরাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বেশি।

এর আগে, গত ৮ই এপ্রিল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের একটি গবেষণাতে দেখা যায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে আফ্রিকান-আমেরিকান এবং বয়স্কদের সংখ্যায় বেশি।

কেশবপুরে ৭ ব্যাবসায়ী ১৪ হাজার টাকা জরিমানা

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) : যশোরের কেশবপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারী নির্দেশনা না মানায় ৭ ব্যাবসায়ীর নিকট থেকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারী নির্দেশনা না মানায় কেশবপুর শহরের গারমেন্টস ব্যাবসায়ী মধুসূদন সেনকে ৫ হাজার টাকা ও গারমেন্টস ব্যাবসায়ী ইদ্রিস হোসেনকে ১ হাজার টাকা, মঙ্গলকোটের মাহাবুর রহমানকে ২ হাজার টাকা, মনোহরী ব্যাবসায়ী শিমুল হাজরাকে ১ হাজার টাকা, হার্ডওয়ার ব্যাবসায়ী নজরুল ইসলামকে ১ হাজার টাকা, হার্ডওয়ার ব্যাবসায়ী প্রণব সরকারকে ৩ হাজার টাকা এবং গারমেন্টস ব্যাবসায়ী হুমায়ূন কবীরকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

কেশবপুরে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে হাজার হাজার গ্রহক বিপাকে

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) : যশোরের কেশবপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কর্মহীন হাজার হাজার মানুষ তাদের বিদ্যুৎবিল নিয়ে বিপাকে বিপাকে পড়েছেন।
জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিলম্ব মাশুল ছাড়া ৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল প্রদান করা যাবে বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় কেশবপুর জোনাল অফিস আগামী ১৬ মে এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিল বিলম্ব মাশুল ছাড়া প্রদান করা যাবে বলে গত ৫ মে কেশবপুরে মাকিং করে। পল্লী বিদ্যুৎ কেশবপুর জোনাল অফিস ছাড়া কোন ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল নিচ্ছে না। যার ফলে কেশবপুর উপজেলার হাজার হাজার গ্রাহক তাদের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পল্লী বিদ্যুৎ কেশবপুর জোনাল অফিসে বিদ্যুৎ বিল নিলেও সেখানে জনবল কম থাকায় বৃহস্পতিবার দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে পল্লী বিদ্যুৎ কেশবপুর জোনাল অফিসে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ সেকশানে জনবল বৃদ্ধি ও কেশবপুর উপজেলার সকল ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তোভোগি পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা।

লটারির মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে

ঢাকা অফিস : কৃষি বিভাগের তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে লটারি করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। আজ বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নওগাঁ সদর এলএসডি গুদাম চত্বরে বোরো ধান চাল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ধান চাল ক্রয়ে কোন প্রকার রাজনৈতিক বা মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে প্রভাব না ফেলে সেজন্য দেশের সকল ডিসি ফুড কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সরকার দূর্য়োগ মোকাবেলায় যে পরিমান ত্রান দেয়া হচ্ছে ফলে গুদাম ফাঁকা হচ্ছে।যতদিন পর্যন্ত সরকারের এই ত্রান কার্যক্রম চলবে তার উপর নির্ভর করে প্রয়োজনে আরও চাল কেনা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারীভাবে এবার বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা দরে ১০ লাখ মেট্রিকটন সিদ্ধ চাল, ৩৫ টাকা দরে দেড় লাখ মেট্রিকটন আতপ চাল কেনা হবে। সেই সঙ্গে  মিল মালিকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৭ টাকা দরে ৮ লাক্ষ মেট্রিকটন ধান কেনা হবে।

জেলা-উপজেলায় সীমিত পরিসরে দোকানপাট, শপিংমল খোলা থাকবে

ঢাকা অফিস : আগামী ১০ মে থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট, শপিংমল সীমিত আকারে চালু করা যাবে।
তবে, এক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা মানতে হবে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাটবাজার, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে, ফুটপাত বা প্রকাশ্যে হকার ও অস্থায়ী দোকানপাট বসানো যাবে না। এমনকি প্রতিটি শপিংমলে প্রবেশের সময় হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি ক্রেতাকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

সব বিক্রেতা বা দোকান কর্মচারীকে মাস্ক ও হ্যান্ডগ্ল্যাভস ব্যবহার করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শপিংমলে আসা যানবাহনকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া প্রতিটি শপিংমল বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সতর্কবাণী ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মৃত্যু ঝুঁকি আছে’ সম্বলিত ব্যানার টানাতে হবে।

গাইবান্ধায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মধ্যে খাদ্য বিতরণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট সংকটে চলমান লকডাউনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে গাইবান্ধায় কর্মহীন হয়ে পড়া ৬টি ইউনিয়নের আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক হাজার পরিবারের মধ্যে আজ ৭ মে বৃহস্পতিবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাহমুদবাগ দ্বীমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে করোনা খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও ইউএনডিপি-হিউম্যান রাইটস্ প্রোগ্রামের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অবলম্বনের আয়োজনে এই খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। খাদ্য সহায়তার প্রত্যেকটি প্যাকেটের মধ্যে রয়েছে চাল ১০ কেজি, আটা ৫ কেজি, চিড়া এক কেজি, আলু ৫ কেজি, পিয়াজ ৩ কেজি, মুসুর ডাল ২ কেজি, লবণ এক কেজি, চিনি ২ কেজি, তেল ২ লিটার, সাবান ২টি। খাদ্য সামগ্রী বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, আদিবাসী নেতা ফিলিমন বাস্কে, গৌর চন্দ্র পাহাড়ী, সম্প্রীতি ফোরামের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এমিলি হেমব্রম, আদিবাসী নেত্রী কেরিনা সরেন, ইয়ুথ লিডার সুখী পাহাড়ী, বৃটিশ সরেন, প্রকল্প সমন্বয়কারী একেএম মাহাবুবুল আলম, প্রজেক্ট অফিসার দিপ্তী মুর্মু, মোস্তফা কামাল, শাবানা আকতার প্রমুখ। ছবিটি তুলেছেন ফটোসাংবাদিক কুদ্দুস আলম।

দেশে করোনায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু : মোট ১৯৯

ঢাকা অফিস : গেল ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৯৯ জনে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ৭০৬ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর জানানো হলেও নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা জানানো হয়নি। পরবর্তীতে বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃতের খবর নিশ্চিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৭০৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১২ হাজার ৪২৫ জনে।

আর গেল ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৩০ জন। এ নিয়ে করোনামুক্ত হলেন ১ হাজার ৯শ’ ১০ জন। একদিনে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৮শ’ ৬৭ জনের। আর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৩৮২ জনের।

গাইবান্ধায় করোনা রোগী সুস্থ হওয়ায় ছাড়পত্র পেয়েছে ১১ জন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধায় গত ২৪ ঘন্টায় বৃহস্পতিবার করোনা ভাইরাসে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নানা উপসর্গে সন্দেহজনকভাবে নতুন করে ৪৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১২ জন।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা এখনও ২৪ জন রয়েছে। এরমধ্যে একজন মারা গেছে। বাকিরা একজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ১১ জন গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আইসোলেসনসহ বিভিন্ন আইসোলেসনে রয়েছে। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত ১১ জন রোগী সুস্থ হওয়ায় তাদেরকে এবং ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে ৪৩ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৭১২ জন চিকিৎসাধীন রোগী হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জে ২৮, গোব্দিন্দগঞ্জে ১০১, সদরে ১০৩, ফুলছড়িতে ১৫২, সাঘাটায় ২০৯, পলাশবাড়ীতে ২৬, সাদুল্যাপুর ৯৩ জন। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ১ জন রয়েছে ।

মোংলায় মরহুম হাজী কাওসার দ্বিনি ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় “ভর্তুকি শপ”

ষ্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাপন যেন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে দেশের অধিকাংশ এলাকায়। তারই ধারাবাহিকতায় মোংলায় মরহুম হাজী কাওসার দ্বিনি ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় কবর স্থান জামে মসজিদ সংলগ্নে নিজেস্ব কার্যলয়ে শুক্রবার থেকে চালু হচ্ছে ভর্তুকি শপ নামের একটি সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান। এ ভর্তুকি শপের মাধ্যমে মোংলার মধ্যবিত্তদের নিত্য প্রয়োজনীয় ও খাদ্য দ্রব্য সল্প মুল্যে দেয়া হবে। প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় ১০০০ টাকার প্যাকেজে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ৫শ টাকার মধ্যে কিনতে পারবেন মধ্যবিত্তরা। এ ভর্তুকি সপে থাকবে চাল ৭ কেজি, ডাল ১কেজি. ছোলা ১ কেজি, চিনি ১ কেজি, ছোয়াবিন তেল ১ কেজি, চিড়া ৫০০ গ্রাম, মুড়ি ৫০০ গ্রাম, সাবান ১ পিচ, টিসু ১পিচ, আলু ৫০০ গ্রাম, লবন ৫০০ গ্রাম ও ইফতার সামগ্রী। পৌর শহরের প্রথম ধাপে ৩,৬,৮, ও ৯ নং ওয়ার্ডের মধ্যবিত্তরা এ সহায়তা সুবিধা এখান থেকে নিতে পারবে। তবে প্রত্যেক পরিবার সপ্তাহে একবার সহ সর্বমোট মাসে ৪ বার এ সুবিধা নিতে পারবেন এ ভতুর্কি শপ থেকে। এটি লিপিবদ্ধ করে তার হিসাব রাখা হবে, কোন পরিবার এক সপ্তাহে যেন দুই বার না পায়। হাজী কাওসার দ্বিনি ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে এ সহায়তা সুবিধা করোনা কালীন সময়ে চলমান থাকবে বলে জানায় ফাউন্ডেশনের পরিচালক।
ফাউন্ডেশনের সার্বিক তত্বাবধানে দ্বায়িত্বে থাকা কবর স্থান জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওঃ আব্দুর রহমান বলেন, মরহুম হাজী কাওসার দ্বিনি ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় ভর্তুকি শপ অতন্ত সুন্দর একটি পদক্ষেপ যাতে করে করোনা কালীন সময়ে মধ্যবিত্তদের জন্য এ সপটির কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা অনেক। করোন ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সমাজের সকল বিত্তবানদেরও এমন পদক্ষেপে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান তিনি।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক হাজী খলিলুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ পাশাপাশি গণপরিবহণ বন্ধ করে দেয়ার পর দরিদ্র বা নিম্ন আয়ের মানুষজনের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের দিনযাপনও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যেসব তথ্য এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা নেয়াা থেকে বিরত থাকছেন। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে নিয়মিত চাকুরিজীবী বা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাও ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছেন, কিন্তু দিনযাপন রীতিমতো কষ্টকর হয়ে পড়েছে পরিবহণ শ্রমিক, গার্মেন্টস কর্মী, বিভিন্ন ধরণের ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথে জড়িতরা। তাদের জন্যই মরহুম হাজি কাওসার দ্বিনি ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় এ ভর্তুকি শপের ব্যাবস্থা চালু করা হচ্ছে।

ঝালকাঠিতে করোনা জয় করল একই পরিবারের ৩ জন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:: ঝালকাঠিতে প্রথম করোনা সনাক্ত হওয়া এক পরিবারের তিনজনই সুস্থ হয়েছেন। হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়ে এরা সুস্থ হন। এর পরে পরপর দুই বার পরিক্ষায় তাদের রির্পোট নেগেটিভ আসে। আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হালদার। সুস্থ হওয়া ব্যাক্তিরা হলেন, ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বিন্নাপাড়া গ্রামের নাছির হাওলাদার ( ২৮), তার স্ত্রী সুমা আক্তার ( ২৩) ও তাদের ৬ মাসের শিশু পুত্র মো. সাজিদ ।

জানাগেছে, এই পুরো পরিবার নারায়নগঞ্জে বসবাস করতেন। এর মধ্যে নাছির উদ্দিন দোকানে দোকানে বিভিন্ন মালামল সরবারহ করতেন। ৮ এপ্রিল এরা নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। এর পরে এদের জ্বর সর্দি দেখা দিলে করোনা পরিক্ষা করা হলে পজেটিভ আসে। শুরুতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পরে পুরো পরিবার ও প্রতিবাশী পরিবারের লোকজন।

এসময় ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হালদারের নির্দেশনা অনুযায়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডা. ওমর ফারুক এর তত্তাবধয়নে হোম আইসোলেশনে থেকেই চিকিৎসা শুরু হয় এদের। স্বাস্থ্য সহকারি মো. জুবায়ের হোসেন নিয়মিত এদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। এরা জ্বর ও কাশির ওষুধ খেতেন নিয়মিত। এছাড়া লেবু, আদা, এলাচি, দারচিনি গরম পানির সাথে মিসেয়ে ভালো ভাবে ফুটিয়ে ভাব নিতেন এবং পান করতেন। এর বাহিরে নিয়মিত ব্যায়ামকরাসহ অন্যান্যা নিয়ন কানুন মেনে চলায় এক মাসের মধ্যেই করোনাকে জয় করতে স্বক্ষম হয়েছে পুরো পরিবার। অসুস্থ্য থাকা কালিন সময়ে পুরো পরিবার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগীতা পেয়েছে।

করোনাকে জয় করা নাছির হাওলাদার বলেন,‘ প্রথম যেদিন শুনেছি আমার পুরো পরিবার করোনায় আক্রান্ত তখন একদম ভেঙ্গে পরেছিলাম। গরীবের সংসার কিভাবে চিকিৎসা নিব, কি খাব। কিন্তু জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জন প্রতিনিধিরা সহযোগীতায় এগিয়ে এসেছেন। তারা আমাদের চিকিৎসা ও খাদ্য সাহায্যসহ সব ধরনের সহযোগীতা করেছেন। যা জন্য আমরা দ্রুত সুস্থ হতে পেরেছি। আমাদের সহযোগীতায় যারা এগিয়ে এসেছেন আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারি মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, আমি প্রতিনিয়ত এই পরিবারের খোঁজ খবর নিতাম। এরা নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিচ্ছে কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রাখতাম।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডা. ওমর ফারুক বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সব সময় চেষ্ঠা ছিল কিভাবে এদের সুস্থ করে তোলা যায়। যখন সে ওষুধ দরকার হত আমরা তা দিয়ে দিতাম। আর তাদের মনোবল সব সময় চাঙ্গা রাখতাম। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নেয়া এরা করোনাকে জয় করতে স্বক্ষম হয়েছে। ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হালদার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রিফাত আহম্মেদের নির্দেশ অনুজানে আমরা কাজ করেছি।

ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হালদার বলেন, করোনার হাত থেকে বাঁচতে হলে এই মুহুর্তে সবার ঘরে থাকতে হবে। আর জরুরী প্রয়োজনে বের হলে মাক্স ও গ্লোভস পরতে হবে এছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।

উল্লেখ্য ঝালকাঠি জেলায় এ পর্যন্ত ১৪ জন আক্রান্ত হয় এর মধ্যে এই প্রথম পরিবারসহ তিনজন সুস্থ হয়েছেন।