খুমেকে নার্সসহ আরও ২৬ জনের করোনা শনাক্ত

corona

খুলনা অফিসঃ খুলনা মেডিক্যাল কলেজের (খুমেক) পিসিআর ল্যাবে আরো ২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। রোববার রাতে তাদের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, রোববার খুমেকের পিসিআর ল্যাবে ১৭৭ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ২৬ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। করোনা পজিটিভদের মধ্যে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেওয়া একজন নার্স, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ২৩ জন ও আশাশুনি উপজেলার একজন এবং বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মৃত একজনের নমুনায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে।
খুমেক সূত্র জানায়, খুমেকের পিসিআর ল্যাবে এ পর্যন্ত ৬৮ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। এরমধ্যে খুলনা জেলায় রয়েছেন ২২ জন। এই ২২ জনের মধ্যে ১২ জন সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া বাকি একজন বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফুলতলায় গ্রাম আদালতের সচেতনতামুলক কার্যক্রম অব্যাহত

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের বাস্তবায়নে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সহযোগি সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের আওতায় ফুলতলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের কারণে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গ্রাম আদালত সহকারীবৃন্দ করোনা ভাইরাস বিষয়ে জনসচেতনার জন্য বিভিন্ন এলাকায় পোষ্টার ও লিফলেট বিতরণ ও পারস্পরিক মতবিনিময় করছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ত্রান কার্যক্রম ও ভুক্তভোগীদের ভাতা প্রদান কার্যক্রমের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম আদালত সহকারী হিসাবে আটরা গিলাতলা ইউনিয়নে শেখ আরজু হোসেন, দামোদর ইউনিয়নে রিম্পা খাতুন, জামিরা ইউনিয়নে সাবিনা খাতুন এবং ফুলতলা ইউনিয়নে ইসমত আরা দায়িত্ব পালন করছেন।

কেইউজে’র সভাপতির মা’র মৃত্যুতে প্রেসক্লাব মোল্লাহাটের শোক বিবৃতি

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে)’র সভাপতি ও দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক মুন্সি মোঃ মাহাবুব আলম সোহাগ’র মাতা মোসাম্মাৎ জারিয়া বেগমের মৃত্যুতে প্রেসক্লাব মোল্লাহাটের পক্ষ থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারের সকলের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপনসহ গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। একই সাথে মরহুমার বিদেহী আত্নার শান্তি কামনা করা হয়েছে।
বিবৃতি দাতারা হলেন-প্রেস ক্লাব মোল্লাহাটের সভাপতি-অধ্যক্ষ শিকদার মোঃ জিননুরাইন, সাধারণ সম্পাদক-এম এম মফিজুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আমির আলী, সহ-সভাপতি শরীফ মাসুদুল করিম, এ্যাডঃ এস,এম, জামিরুল হক (মিন্টু), এস,এম, জহিরুল ইসলাম জাহিদ ও এস এম রাজিব সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-মোঃ জেহাদ সিকদার, কোষাধ্যক্ষ-অধ্যাপক অরুন কুমার দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সফিকুল ইসলাম ইরান, প্রচার সম্পাদক শেখ শাহিনুর ইসলাম শাহিন, নির্বাহী সদস্য মোর্শেদা আকতার, মিয়া পারভেজ আলম, মোস্তাহিদুর রহমান টুটুল, মোঃ তকিবুল ইসলাম ও ডাঃ হুমায়ূন আজাদ, সদস্য শেখ সোহেল রানা, মোঃ গিয়াস মিয়া, মোঃ গোলাম রসুল, মোঃ মনিরুজ্জামান মোল্লা, মোঃ জিন্নাত আলী শিকদার, এস,এম, মিজানুর রহমান, মোঃ ইমলাক শেখ, মোঃ মোস্তফা মীর ও মোঃ আবুল বাশার প্রমূখ।
উল্লেখ্য, মোসাম্মাৎ জারিয়া বেগম গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮াটয় বার্ধক্য জনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। তার তিন ছেলে, তিন মেয়ে ও নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রয়েছে।

মাস্ক না পড়লে জেল

আন্তর্জাতিক :করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশটির জনগনের জন্য মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করেছে কাতার। দেশটিতে প্রকাশ্যে বের হলেই পড়তে হবে মাস্ক, নয়তো ভোগ করতে হবে জেল।

মাস্ক না পরলে জেল ও জরিমানার অধ্যাদেশ জারি করেছে কাতার। ঘরের বাইরে কাউকে মাস্ক ছাড়া পাওয়া গেলে তার তিন বছরের জেল হতে পারে অথবা ৫৫ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ লাখ টাকা) পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে অথবা তার উভয় শাস্তিই হতে পারে।

করোনা টেস্টের বিপরীতে আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষ দেশগুলোর একটি কাতার। ৩০ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩১ হাজারের কাছাকাছি মানুষ। এর মধ্যে মারা গেছেন অন্তত ১৫ জন।

ফলে করোনা মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে অন্যতম ধনী এ দেশটি। এরমধ্যে মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য নির্মাণাধীন জায়গাগুলোর কাজ চলছে বিশেষ সুরক্ষা ও নিরাপত্তায়।

সাঁথিয়ায় দেশী মদসহ আটক ১

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার সাঁথিয়ার মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিবার দুপুরে পাবনা-কাশিনাথপুর সড়কের শোলাবাড়িয়া ব্রীজের নিকট থেকে দেশী তৈরী ৫ লিটার মদসহ প্রদীপ সুত্রধর (৪০) নামে একজনকে আটক করেছে। সে পাবনার আমিনপুর থানার হরিদেবপুর গ্রামের মৃত নিতাই সুত্রধরের ছেলে।
মাধপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আলীরেজা জানান, পাবনা থেকে সিএনজি যোগে চেলাই মদ নিয়ে একজন আসছে গোপন এ সংবাদের ভিত্তিতে ফাঁড়ির পুলিশ পাবনা-কাশিনাথপুর সড়কের শোলাবাড়িয়া ব্রীজের নিকট অবস্থান করে। উক্ত স্থনে সিএনজি আসলে থামাতে বলা হলে একটি কালো ব্যাগ নিয়ে প্রদীপ পালাতে গেলে তাকে হাতে নাতে আটক করে পুলিশ। তার ব্যাগ থেকে ৫ লিটার দেশী তৈরী চেলাই মদ উদ্ধর করা হয়। বহনকারী সিএনজি আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তালায় লাশ দাফনে বাধাপ্রদান : প্রতিপক্ষের হামলায় ৭ জন আহত

তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পল্লীতে এক ব্যক্তির লাশ দাফনে বাধাপ্রদান করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তাদের হামলায় অন্তত ৭ জন এলাকাবাসী আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের জেঠুয়া গ্রামে। এ ঘটনায় রবিবার (১৭ মে) সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছে ভূক্তভোগি পরিবারটি।
জানা যায়, জেঠুয়া গ্রামের মৃত মোমিন উদ্দীন শেখের পুত্র মোঃ নূর আলী শেখ (৬০) দীর্ঘ ২ বছর যাবৎ ডায়াবেটিকস, রক্তশুন্যতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়িত ছিলেন। গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নূর আলী শেখের লাশ দাফন করার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন লাশ দাফনে বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা খোঁড়া কবরটিতে কলাগাছ রেখে ভরাট করে দেয়। এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে তাদেরকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
সদ্য বিধবা নূর আলী শেখের স্ত্রী ফজিলা বেগম জানান, একই গ্রামের মৃত সাদেক আকুঞ্জীর পুত্র রহমত আকুঞ্জি ও কামরুল আকুঞ্জির সাথে তাদের ৬৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত জমির ২৭ ও ৬২ সালের রেকর্ড, মাঠ পর্চা, নামপত্তন, দাখিলাসহ সকল কাগজপত্র তাদের রয়েছে। প্রায় ৫০ বছর উক্ত জমি তাদের দখলেও রয়েছে। শুক্রবার সকালে তার স্বামী মোঃ নূর আলী শেখ হঠাৎ মারা গেলে উক্ত ভিটেবাড়ি ও কবরাস্থানের জমিতে লাশটি দাফনের প্রস্তুতি নেয়। কবর খোড়ার কাজও সম্পন্ন হয়।
এরইমধ্যে প্রতিপক্ষরা একই গ্রামের মৃত সাদেক আকুঞ্জীর পুত্র কামরুল ইসলাম আকুঞ্জী, রহমত আকুঞ্জি ও তার পুত্র ওজিয়ার, খোরশেদ আলম ও জুলফিকার আকুঞ্জীসহ ৮/১০ জন এসে আকস্মিক কবরের মধ্যে কলাগাছ দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। এ সময় গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে তারা ফয়েজউদ্দিন (৬৫), রিয়াজউদ্দিন (৬০), বজলু শেখ (৪৫),গফ্ফার শেখ (৫২), আমজাদ শেখ (৫৩), মিজানুর জোর্য়াদ্দার (৫০),মহব্বত শেখ (৫৫) সহ ১০/১২ জন প্রতিবেশীকে পিটিয়ে জখম করে।
ফজিলা বেগম আরও জানান, শুক্রবার রাতে আহতদের হাসপাতালে দেখলে আসলে তালা থানার এক এসআই তাকে মারতে উদ্যত হয় এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে ঐ দারোগার ভয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
তবে তালা থানার ঐ এসআই জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে কাউকে হুমকি দেননি কিংবা গালিগালাজও করেননি।
আহতরাসহ এলাকাবাসী জানায়, রহমত গং এই জমির (কবরাস্থানের) ওয়ারেশ নয়, আমাদের জীবদ্দশায় দেখছি মৃতঃ নূরআলী তার নানার ওয়ারেশ সুত্রে উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছে। তারা আদৌ এই পরিবারের কেউ নন। কিন্ত দীর্ঘদিন নুর আলীর অসুস্থ্যতার সুযোগে গত বছর তিনেক পূর্ব থেকে রহমত গং ওয়ারেশ দাবী করে জবর দখল করার পায়তারা করে আসছে।
এলাকাবাসী আরও জানায়,বিষয়টি তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানা প্রশাসনকে অবহিত করলে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন সরেজমিনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরআগে গ্রামবাসী লাশটির দাফন কাজ সম্পন্ন করেন।
জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু বলেন, জমিটি প্রায় ৫০ বছর ধরে মোঃ নূর আলী শেখ ভোগ দখল করে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তবে লাশটি তারা দাফনের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে তালা থানার ওসি মেহেদী রাসেল জানান, বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, একজন মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনে বাধাঁ প্রদান এবং এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা সত্যিই অমানবিক।

আবারো রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারতীয় শ্রমিকদের বিক্ষোভ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : ভারতে ফিরে যাওয়ার জন্যই আবারো বাগেরহাটের রামপালের কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ভারতীয় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছে। এদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরে যেতে এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ এখানে থাকাকালীন সময়ে মানসম্মত খাবার পরিবেশনের দাবীতে রবিবার সকাল থেকে বিক্ষোভ করতে থাকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রায় চার শতাধিক ভারতীয় শ্রমিক। সকালে এ সকল শ্রমিকেরা নিজ দেশে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মুল প্রাচীর গেইটের বাহিরে চলে আসে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট ছাড়িয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বাবুরবাড়ীসহ বিভিন্নস্থানে অবস্থান নেয় তারা। এ সময় পুলিশ তাদেরকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে ভারতীয় শ্রমিকেরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল ছুড়ে। এখনও পর্যন্ত ভারতীয় এ সকল শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্নস্থান ও জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে ভারতীয় শ্রমিকদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের মধ্যে তারা তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে না পারায় এবং এ কারণে দেশে পরিবারের কাছে ফিরতে না পারার কারণেই তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।
এর আগে গত ৪ মেও এ সকল শ্রমিকেরা ভারতে চলে যাওয়াসহ বকেয়া মজুরি প্রদাণ ও মানসম্মত খাবারের দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
সে সময়ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সাথে এ নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ভারতে পাঠানো, বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মানসম্মত খাবার পরিবেশনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্মত হন। কিন্তু সেই সকল সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়াতেই ১৩ দিনের মাথায় আবারো বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ভারতীয় এ শ্রমিকেরা।
এদিকে এ পরিস্থিতিতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদেরকে নিয়ে জরুরী বৈঠক করছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এই রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদেশী রয়েছেন ১৮০২ জন। এরমধ্যে চায়না ২১ জন এবং ১৩৪৪ জন ভারতীয় রয়েছেন।

করোনাকালে শ্বাশুড়িকে রাস্তায় ফেলে গেলেন পুত্রবধূরা !

ফেনী : ফেনীর সোনাগাজীতে অসুস্থ্য বৃদ্ধা শ্বাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে (৭৫) রাস্তায় ফেলে যায় দুই পুত্রবধূ। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুজাপুর এলাকায় এঘটনা ঘটে। রাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. রবিউজ্জামান বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃদ্ধা ফিরোজা বেগম উপজেলার সুজাপুর এলাকার হোসেন আহম্মদের স্ত্রী। মো. মোস্তফা ও ওমর ফারুক  নামে দুজন ছেলে রয়েছেন। তারা প্রবাসী। বাড়িতে দুই পুত্রবধূর সঙ্গে শ্বাশুড়ি ফিরোজা বেগম থাকতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসসহ কয়েকটি রোগে ভুগছেন। এতদিন পুত্রবধুরা তার সেবা করলেও করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ওষুধপত্র কিনে দেয়া ও সেবা করা অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছেন। বৃদ্ধা ফিরোজা বেগম বউদের কাছে কিছু চাইলে মাঝে মধ্যে তার উপর চড়াও হয়ে শারীরিক ভাবে তাকে লাঞ্চিত করত পুত্রবধুরা।

গত কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধা মহিলাটির অসুস্থ্যতা বেড়ে যায়। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বড় ছেলে মোস্তফার স্ত্রী পারভিন আক্তার ও ছোট ছেলের স্ত্রী লিপি আক্তার পরস্পর যোগসাজসে অসুস্থ্য বৃদ্ধা শ্বাশুড়িকে বাড়ির পাশের রাস্তায় ফেলে যায়।

মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রবিউজ্জামান বলেন, “শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মুহূর্তে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি শুনে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে মহিলাটির হাত-মুখ ধুইয়ে দিয়ে ইফতার করান। পরে বাড়ি থেকে বৃদ্ধার দুই পুত্রবধূকে ডেকে এনে স্থানীয় সমাজের পঞ্চায়েত কমিটির লোকজনকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে শ্বাশুড়িকে ঘরে নিতে আবেদন করেন।”

তিনি আরো বলেন, সমাজপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবে না বলে অঙ্গীকার করায় এবং দুই ছেলের বউরা একজন ফিরোজা বেগমকে এক মাস করে ভরণপোষণ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সবাই মিলে বৃদ্ধাকে বাড়িতে ঘরে দিয়ে আসা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বলেন, গতকাল রোববার দুপুরে তিনি নতুন কাপড়, চাল,ডাল, আলু, তেল, পেয়াজ, রসুন, ছোলাবুট, মুড়ি, খেজুর, হরলিকস, দুধ, সেমাই, চিনিসহ খাদ্য, ইফতার ও ঈদ সামগ্রী নিয়ে বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধা ফিরোজার সঙ্গে দেখা করে তার খোঁজখবর নেন।

বৃদ্ধার পুত্রবধূরা তার ভরণ-পোষণ ও সেবা না করলে বৃদ্ধাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে মায়ের মতো সেবা করবেন বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

বাজুয়ায় বাড়ী বাড়ী গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনি

আজগর হোসেন ছাব্বির : বিগত নির্বাচনে দাকোপের বাজুয়া ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক মনি করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছেন।
দাকোপ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাজুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, দাকোপ প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধক্ষ্য ও দৈনিক প্রবাহের বাজুয়া দাকোপ প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মনি বাজুয়া ইউনিয়নে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছেন। শনিবার তিনি নিজে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ১০০ পরিবারে চাল, ডাল, চিড়া, চিনি, তৈল, আলু ও সাবান বিতরন করেছেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে বাজুয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। উল্লেখ্য দাকোপে রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরনের নামে লোক সমাগম ঘটিয়ে ছবি তোলার যে হিড়িক লক্ষ্য করা গেছে তিনি এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম উদহারন সৃষ্টি করলেন। কাউকে না ডেকে প্রকৃত দরিদ্রদের বাড়ীতে গিয়ে নিজ হাতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিলেন।

চালনা পৌর বিএনপির উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

আজগর হোসেন ছাব্বির : করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ দুস্থ পরিবারের মাঝে চালনা পৌরসভা বিএনপি ও দাকোপ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে।
রবিবার বেলা ১২ টায় স্থানীয় আবুল হোসেন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে প্রধান অতিথি হিসাবে খাদ্য সামগ্রী বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাবেক চেয়ারম্যান খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল হাসান বাপ্পী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ তৈয়েবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান রুনু, সহসভাপতি ও চালনা পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক শেখ শাকিল আহম্মেদ দিলু, জেলা বিএনপিনেতা মিরাজুল ইসলাম, যুবদলনেতা নাদিমুজ্জামান জনি, আশিকুল ইসলাম ফ্রান্স, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, চালনা পৌর কাউন্সিলর আইয়ুব আলী কাজী, পৌর বিএনপির সদস্য সচীব আলামিন সানা, বিএনপিনেতা মুনসুর আলী মীর, ইমরান শেখ, এস এম শামিম, শাহাবুদ্দিন গাজী, সাইফুল ইসলাম, জাবেদ শেখ, শেখ তরিকুল ইসলাম নান্নু, নেয়ামত শেখ, মিজান শেখ, নজরুল শেখ, অনিশ সরকার, আবু তাহের শেখ, ইউসুফ শেখ, হাসমত খলিফা, আঃ রহমান বিশ্বাস, অহিদুল শেখ, রবিউল ইসলাম মনা, ফেরদাউস সানা, স্বপ্না সরদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে ২০০ পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ৪ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ৫০০ গ্রাম ডাল, ১ প্যাকেট লবন বিতরন করা হয়।