বটিয়াঘাটায় আম্পানের তান্ডবে বিভন্ন এলাকা লন্ডভন্ড

বটিয়াঘাটা অফিস : ঘূর্নিঝড় আম্পানের তান্ডবে বটিয়াঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বুধবার সকাল থেকেই থেমে থেমে দমকা ঝড়ো হাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। সন্ধ্যা হতে না হতে বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া। ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলা সদরের বাজার ভেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দির নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া অসংখ্য দোকানঘর নদীতে নিমজ্জিত হয়।অন্যদিকে উপজেলার বরণপাড়া গোপালখালী এলাকায় দেড় কিলোমিটার ভেঁড়িবাঁধ পিচের রাস্তাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়ে স্হানীয় বাসিন্দা সুনীল চক্রবর্তীর বাড়ি নদীতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এখানেও বিশ/পঁচিশটি দোকান বসতি ও ঘরবাড়ি সহ মুরগীর ফার্ফ ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে যায়। দুই একদিনের মধ্যে এখানে স্হায়ীভাবে বড় ধরনের কোন প্রোটেকশন বাঁধ নির্মাণ না করলে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে উপজেলার বারোআড়িয়া, সুরখালী,বারোভুঁইয়া,শিয়ালীডাঙ্গা, কোঁদলা এলাকার অধিকাংশ স্হানের ভেঁড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়াও ঘূর্নিঝড়ে কৃষকের তরমুজ, তিল, রবিশস্য ক্ষেতের হাজার হাজার কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়। অনেক স্হানে বসতবাড়ি ও গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে পড়ে। খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি,বিভাগীয় কমিশনার ড.মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) জিয়াউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)সরোয়ার আহম্মেদ সালেহীন, পাউবোর -২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাশেদুজ্জামান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ এমদাদ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল সহ সাংবাদিক,জনপ্রতিনিধিবৃন্দ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্হ অসহায় মানুষের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরন করেন।

এ ছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম সন্ধ্যায় বরণপাড়া গোপালখালী এলাকায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া খোলা আকাশের নীচে বসবাসকারী অসহায় পরববারের মাঝে খাদ্য উপকরন পৌঁছে দেন।

মোংলায় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ীতে নৌবাহিনীর খাদ্য সহায়তা

বাগেরহাট প্রতিনিধি : মোংলায় ঘূর্ণিঝড় ”আম্পান” পরবর্তী ২১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাড়ী বাড়ী যেয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা মানবিক খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন। স্থানীয় জনসাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ী বাড়ী নৌবাহিনীর সদস্যদের মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসুচিকে সমর্থন করে ভূয়শী প্রশংসা করেছেন।
মোংলা নৌ কন্টিনজেন্ট’র ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের নিজস্ব রসদে মানবিক এ খাদ্য সহায়তা বৃহস্পতিবার দুপুরে কানাইনগর ও জয়মনি এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ীতে বাড়ীতে পৌছে দেয়া হয়। প্রথম দিনে দুইশো ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে দুইশো প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রী তালিকায় ছিলো চাল, আটা, তেল, বিস্কুট, মোমবাতি, লাইটার, লবণ, পানি, সুজি, ছোলা প্রভৃতি। নৌবাহিনী সদস্যদের বাড়ী বাড়ী খাদ্য পৌছে দেয়া সম্পর্কে চিলা ইউনিয়নের নাগরিক নেতা গাজী জহুরুল ইসলাম বলেন যথার্থ কর্মসুচি এবং সময় উপযোগী। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ীতে খাদ্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমরা নৌবাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানাই। বাড়ী বাড়ী মানবিক খাদ্য সহায়তা একর্মসুচির নেতৃত্ব প্রদান করেন মোংলা নৌ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেঃ আরিফুল ইসলাম। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ীতে বাড়ীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের মানবিক খাদ্য সহায়তা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন মোংলা কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেঃ আরিফুল ইসলাম।

আম্পান: ১৭ জনের মৃত্যু, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অন্তত ৮টি জেলা

ঢাকা অফিস : ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপকূলীয় এলাকায়। আম্পানের আঘাতে দেশের সাত জেলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরা, বরগুনা, ভোলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে অনেক গ্রাম। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অন্তত ৮টি জেলা। বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ফসল হানির পাশাপাশি রাজশাহীতে ঝরে গেছে ২০ শতাংশ আম।

ঘূর্ণিঝড়ে যশোরে পাঁচজন, ভোলায় তিনজন, সাতক্ষীরায় তিনজন, পটুয়াখালীতে দুইজন, পিরোজপুরে একজন, ঝিনাইদহে একজন ও চট্টগ্রামে সন্দ্বীপের একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় পুরো সাতক্ষীরা জেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। আশাশুনি, শ্যামনগর এবং কালীগঞ্জে বেড়িবাঁধের ২৩টি স্থান ভেঙে যাওয়ায় অসংখ্য মাছের ঘের ভেসে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গাবুরা ইউনিয়ন, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনিতে। উপড়ে গেছে গাছপালা, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ও পোল্ট্রিফার্ম। মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক স্থানে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

খুলনার উপকুলীয় এলাকা কয়রায় বেড়িবাঁধের ৫টি স্থান ভেঙে অন্তত ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দাকোপ ও কয়রা উপজেলা । এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বরগুনা সদরের আয়লা বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাথরঘাটার জিমতলা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কুমিরমারায় ভেসে গেছে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের। লবণগোলা, বুড়িরচর, কালিবাড়ি এলাকায় স্লুইচগেট নির্মাণের জন্য তৈরি বাঁধ ধসে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সময় বরিশালের বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ফসলের। জেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে ।

ভোলার ঢালচর, কুকরিমুকরি, চর পাতিলা, চর নিজামসহ বেশ কয়েকটি চরের নির্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কাঁচা ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের। তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর, চাচরা ও লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নে তিনটি পয়েন্টের বেরিবাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ভোলা-৩ আসনের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন স্থানীয়দের নিয়ে বেড়িবাঁধের সংস্কার কাজ শুরু করেন।

আম্পানের আঘাতে যশোরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, উপড়ে গেছে গাছপালা, বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। আহত হয়েছে অর্ধশত মানুষ। এদিকে ঝড়ের আগে কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারলেও সবজি, আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমের। বাগানগুলোর প্রায় ২০ শতাংশ আম ঝরে গেছে। চারঘাট, পুঠিয়া ও বাগমারার উপর দিয়ে ব্যাপক তান্ডব চালায় আম্পান। বেশকিছু এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড়ের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে পানি বেড়ে যাওয়ায় আনোয়ারায় বেড়িবাঁধ উপচে কয়েকটি ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে।

দেশে করোনায় মৃত্যু ৪০০ ছাড়ালো

ঢাকা অফিস : গত ২৪ ঘন্টায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যু দাঁড়ালো ৪০৮ জনে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও ১০ হাজার ১৭৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ২৬২টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ১৪ হাজার ১১৪টি।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও এক হাজার ৭৭৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৫১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২২ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪০৮ জনে।

৩১শে মে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ঢাকা অফিস : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩১শে মে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২১শে মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ৩১শে মে (রবিবার) সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় কিছু নির্দেশাবলী মেনে ফল সংগ্রহ করতে হবে। নির্দেশনাগুলো হলো:

১. এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফল অনলাইনে প্রকাশিত হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ফল প্রেরণ করা হবে না। কাজেই কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশের দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমায়েত হওয়া যাবে না।

২. যারা এসএমএস এর মাধ্যমে ফল পেতে ইচ্ছুক তাদেরকে ফল প্রকাশের পূর্বেই নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। (প্রাক নিবন্ধনের জন্য যেকোনো মোবাইল অপারেটরের নম্বর থেকে SSC Board Name (প্রথম তিন অক্ষর) Roll Year লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে)। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই প্রি-রেজিস্ট্রেশনকৃত পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের ফল পৌঁছে যাবে।

৩. শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফল জানা যাবে।

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ৩রা ফেব্রুয়ারি। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৭শে ফেব্রুয়ারি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৯শে ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হয় ৫ই মার্চ। এবার মোট ২০ লাখ ২৮ হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

আটোয়ারীতে বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান খুন : আটক ৩

মনোজ রায় হিরু, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) : পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে নৃশংসভাবে খুন করার খবর পাওয়া গেছে। এঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। হত্যাকান্ডের শিকার যুবক হলেন উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন কমান্ডার এবং পুরাতন আটোয়ারী এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুল হকের ছোট ছেলে মো: আমিনুল ইসলাম (৩২)। এঘটনায় নিহত যুবকের বাবা বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আটোয়ারী থানার মামলা নম্বর-৫, তারিখ-২১ মে/২০২০খ্রি:। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে দুপুর ১টায় পাটক্ষেতে গাছের ডাল কাঁটা নিয়ে প্রতিবেশী মৃত: বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো: ইসমাইল হোসেন সহ তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে আমিনুলের পরিবার সহ তাদের প্রতিপক্ষ ইসমাইলের পরিবারের লোকজন আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। পরে আমিনুলের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে ওই দিন রাত ৯.৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিনুল মৃত্যু বরণ করে। এদিকে ঘটনার পরদিন (২০মে) বিকেলে নিহত আমিনুলের মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে এসে রাতে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এব্যাপারে নিহত আমিনুলের বড় ভাই এবং ধামোর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক মো: সাহিদুল জব্বার শাহীন জানান, প্রতিপক্ষ পরিবারের সাথে আমাদের কখনও কোন বিরোধ ছিলনা। সামান্য ঘটনায় তারা কেন আমার ছোটভাইকে মেরে ফেললো আমি খুনীদের ফাঁসী চাই। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমিনুলের লাশ নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা রংপুরে অবস্থান করছিলেন সেহেতু মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হলো। কেন আমিনুল কে তুচ্ছ ঘটনায় খুন করা হলো জানতে চাইলে আসামীপক্ষের লোকজন সঠিক কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি। এ ব্যাপারে হত্যা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইজার উদ্দীন বলেন, তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের ঘটনার দিন থেকে নজরবন্দী করে রাখে। বাদীপক্ষ মামলা দায়ের করার সঙ্গে সঙ্গে নজরবন্দীকৃত তিন জনকে গ্রেফতার করি। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো: ইসমাইল হোসেন(৫৫) এবং তার দুই ছেলে রইছুল ইসলাম (২০) ও সাহিদুল ইসলাম শাকিব (১৮)। তিনি আরো বলেন, অন্যান্য আসামীদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বটিয়াঘাটার ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : সুপার সাইক্লোন আমফান ঘূর্ণিঝড়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা বাজার সদরের কাজীবাছা নদী ভাঙ্গন এলাকা আজ বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি। এ সময় সাথে ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার , জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: হেলাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল
আলম খান, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম , সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাশেদুজ্জামান,প্রানী
সম্পদ কর্মকর্তা ডা: বঙ্কিম হালদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ইমদাদুল হক, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, ইউপি চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ ঢালী, ইউপি সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম খান, ইউপি সদস্য মোঃ আলম, ইউপি সদস্য বিউটি মন্ডল প্রমূখ। পরবর্তীতে নদী ভাঙ্গন পরিদর্শন শেষে আমফানে
ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবারের মাঝে ১ভান করে টিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা বিতরণ করেন।অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংসদের হুইপ বলেন, বাজারে ইতি পূর্বে বাঁধে ব্লকের মাধ্যমে কাজ করা হয়েছে। কিন্তু কাজীবাছা নদীর স্রোতের তোড়ে তা সরে গিয়ে আবার ও ঝূঁকিপূর্ণ হোয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আমফান সুপার সাইক্লোনে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুনরায় বাঁধ সংস্কারের মাধ্যমে আরো উচু করে বাঁধ মেরামত ও নির্মাণ করা প্রয়োজন। কতৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে দ্রুত বাঁধে কাজ করা হবে।

ফুলতলায় ঘুর্ণিঝড় আমফানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ বুধবার রাতে ঘুর্ণিঝড় আমফানে ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক ঘুটি ও তার ছিড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার দুুপুর পর্যন্ত ফুলতলার সর্বত্র এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ ছিল। এতে প্রায় কোটি টাকার উপরে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, গাড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আব্দুল লতিফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাড়ির মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টিনের চাল সম্পূর্ণ উড়ে যায়। গাড়খোলা মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, স্কুলের ৬টি ক্লাস কক্ষের টিনের সম্পূর্ণ উড়ে যায়। এতে স্কুলের বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও ফ্যানসহ অন্যান্য আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। এছাড়া আব্দুল লতিফ ও রাড়ীপাড়া স্কুলের টিনের চাল উড়ে যায়।

অপরদিকে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন কাঁচা ঘর বাড়ি এবং গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কৃষি বিভাগের নিকট থেকে জানা যায়, উপজেলার বিলডাকাতিয়ার সবজি ক্ষেতে এবং মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, জামরুলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফুলতলার বৈদ্যুতিক বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ নাছিম রেজা জানান, উপজেলার সদও, শিকিরহাট এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে এবং পোল ভেঙে যায়। সে কারণে বৈদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ ঘটে। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবারও গ্রাম এলাকায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ সম্ভব হবে না। তবে আমাদের সকল ইউনিটের সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইউএনও পারভীন সুলতানা জানান, ঘুর্ণিঝড় আমফানে ফুলতলা বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা ঘর ও গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে আগে থেকে সচেতনতার কারণে মানুষ ও গবাদি পশুর কোন ক্ষতি হয়নি।

দাকোপে ক্ষর্ণিঝড় আম্ফানের তাল্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আজগর হোসেন ছাব্বির : সুপার সাইক্লোন আম্পানের তান্ডবে প্রায় ১২ শ’ ঘরবাড়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৩ কিলোমিটার বেড়ীবাধ ও ৯ হাজার ঘরবাড়ী। বেড়ীবাধের বাইরে থাকা ৩ শতাধীক ঘরবাড়ী ভেসে গেছে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনকালে নগত অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছেন।
বুধবার দিনভর ভারী বৃষ্টির সাথে সাথে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। সন্ধ্যার সাথে সাথে ঝড়ের গতিবেগ বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইতে থাকে। রাতভর ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও চালনা পৌরসভায় ১১শ’ ৪৫টি ঘরবাড়ী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পন্ন রুপে বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ হাজার ১শ’ ২০টি ঘরবাড়ী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপজেলার তিলডাঙ্গা, পানখালী ও সুতারখালী ইউনিয়নে প্রায় ৩ কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ মারাত্নক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ৬ শতাধীক গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়েছে। এ ছাড়া ঝড়ে ফসল ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের। ঝড়ের প্রভাবে নদীতে বৃদ্ধি পাওয়া অস্বাভাবিক পানির তোড়ে উপজেলার গুনারী, নলিয়ান, কালাবগী ও বানীশান্তা এলাকায় বেড়ীবাধের বাইরে বসবাসরত ৩ শতাধীক ঘরবাড়ী ভেসে গেছে। অপরদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে দাকোপের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এবং খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। এ সময় তারা তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ বেড়ীবাঁধ ও বটবুনিয়া বাজারের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তারা বিপদে সাহস রাখার আহবান জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সহায়তার আশ্বাস দেন। তারা বটবুনিয়া বাজারের ক্ষতিগ্রস্থ ৪০ ব্যবসায়ী পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি নগত ৬ হাজার টাকা, ২ বান্ড ঢেউটিন ও খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক জিয়াউর রহমান, দাকোপ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তারিফ উল হাসান, চালনা পৌরসভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা আকতার, থানা অফিসাস ইনচার্জ মোঃ সফিকুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আবদুল কাদের,¯া’নীয় ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত কুমার মন্ডলসহ জেলা ও দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

খুলনায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

খুলনা অফিস : ঘূর্ণিঝড় আম্পানে উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় খুলনা জেলা প্রশাসন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন আজ (বৃহস্পতিবার) সারাদিন দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। ত্রাণ সমগ্রীর মধ্যে ছিলো ঢেউ টিন, শুকনা খাবার, সুপেয় পানি ও নগদ অর্থ।

ত্রাণ বিতরণকালে বিভাগীয় কমিশনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিষয়টি তদারকি করছেন। তাঁর নির্দেশে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপের কাজ শুরু করেছে। যাতে সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সরকারি সহায়তা পান।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনায় উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪২ হাজার কাঁচা ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩৬ হাজার কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং চিৎড়ি ও  মাছ চাষীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় বেড়িবাধগুলো টেকসইভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং শীঘ্রই তা একনেকে উঠবে।

ত্রাণ বিতরণকালে জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খান, দাকোপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আলী খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাহ অফিসার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।