মোল্লাহাটে প্রথম করোনা সনাক্ত

corona

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ ঢাকা থেকে আসা মোল্লাহাটে প্রথম এক জনের করোন সনাক্ত হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রথম করোন সনাক্ত ওই পরিবারসহ পার্শ্ববর্তী আরো চারটি পরিবারকে ঈদের দিন বিকেলে সম্পূর্ণ লকডাউন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ লকডাউন করা হয়। যার করোন সনাক্ত হয়েছে, সে একটি মেয়ে (১৪) এবং উপজেলার আটজুড়ী ইউনিয়ন এলাকায় তার বাড়ি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান-এ মাসের ১৪ তারিখে ওই মেয়ে ঢাকা থেকে তার মামাবাড়ি টুঙ্গিপাড়া আসে। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গত ২২তারিখে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা পাঠায়। ২৪ তারিখে পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মোবাইলে তাদেরকে বিষয়টি জানায় এবং কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলে। এরপর ওই রাতেই টুঙ্গিপাড়া থেকে পালিয়ে মোল্লাহাট এলাকায় নিজ বাড়িতে চলে আসে ওই মেয়ে ও তার পরিবার। ঈদের দিন বিকেলে যথাযথ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ওই এলকায় গিয়ে লক ডাউন করে উপজেলা প্রশান ও স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাফ্ফারা তাসনীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ বিপ্লক কান্তি বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মন্ডল ও উপ-পুলিশ পরিদর্শক ইন্দ্রজিৎসহ সংশ্লিষ্টরা ওই এলাকায় গিয়ে লকডাউন নিশ্চত করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাফ্ফারা তাসনীন মোল্লাহাট বাসীর জন্য বলেন-সকলে ঘরে থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন এবং সকলকে সুস্থ্য রাখবেন।

লোহাগাড়ায় মেহেদীর রং না শুকাতেই গৃহবধূর মৃত্যু-প্রেমিকা নিয়ে স্বামী পলাতক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় হাতের মেহেদী রং শুকাতে না শুকাতেই নাছিমা আকতার মুন্নী (২০) নামের গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।
২৩ মে ভোররাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই আব্দুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্হানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের আলী সিকদার পাড়া গ্রামের আহমদ কবিরের কন্যা মুন্নীর সাথে বিগত ২মাস পুর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক চরম্বা মজিদার পাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে আনোয়ারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
 আনোয়ার হোসেন পেশায় সিএনজি চালক। কিন্তু আনোয়ার ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী(২ সন্তানের জননীর)  সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় আসক্ত ছিল। বিবাহের পর আনোয়ারের স্ত্রী মুন্নী পরকীয়া বিষয়ে জানতে পারলে অনেক বার তার স্বামীকে বাঁধা প্রদান করেন। তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
ঘটনার দিন নিহতের স্বামী চিৎকার করে ডাক দেন তার স্ত্রী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। বাড়ির আশপাশের লোকজন এসে  ফাঁসিতে ঝুলন্তবস্থায় উদ্ধার করে মুন্নিকে। ঘটনার পরপরই লোকজন বুঝে ওঠার আগে নিহতের স্বামী আনোয়ার ও বাড়ির পার্শ্ববর্তী পরকীয়ায় যার সাথে সম্পর্ক ছিল প্রবাসী সৈয়দ আহমদের  স্ত্রী  মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে, সে কি কারনে আত্মহত্যা করেছে এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি। নিহত মুন্নীর বড় ভাই মাহফুজুর রহমান জানান, অনেক বেশী আশা ভরসা নিয়ে গত ২২মার্চ তার আদরের ছোট বোনকে সিএনজি চালক আনোয়ার সাথে বিবাহ দিই। তার ছোট বোন ধৈর্য নিয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার বোনের স্বামী আনোয়ার একই গ্রামের বাড়ীর পার্শ্বে প্রবাসী সৈয়দ আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় আসক্ত ছিল। এসব দেখে তার বোন স্বামীকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল। বার বার বাঁধা দিয়েছিল।আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে যায়।আমার বোনের স্বামী আনোয়ার ও পার্শ্ববর্তী পরকীয়ায় আসক্ত প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তার বোনকে আনোয়ার পরিকল্পিভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুষ্ট তদন্তের জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।পোস্ট মডেল রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 এ ব্যাপারে লোহাগাডা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাতক্ষীরায় করোনার উপসর্গ নিয়ে নারীসহ দুই জনের মৃত্যু,

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মধ্য বয়সী এক নারীসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার দুপুর ২ টায় মারা যান ওই নারী। এর আগে ভোর রাত ১ টার দিকে মারা যান ৭০ বছর বয়সের এক বৃদ্ধ।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন, দেবেহাটা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের ঈসমাইল হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগম (৫৬) ও সদর উপজেলার রইচপুর গ্রামের মৃত ইজার আলীর ছেলে আয়ুব আলী (৭০)।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ রফিকুল ইসলাম জানান, জ্বর ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে গত ২৩ মে সেলিনা বেগম নামের ওই নারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলশেনে ভর্তি হন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এদিকে, বৃদ্ধ আয়ুব আলী একই উপসর্গ নিয়ে গত ২২ মে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলশেনে ভর্তি হন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর রাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরো জানান, মৃত বরনকারী দুই ব্যক্তিরই মেডিকেলে ভর্তির পর ওই দিনই তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এখনও তাদের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডাঃ হুসাইন শাফায়াত জানান, তাদের করোনা রিপোর্ট নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে তাদের বাড়ি লকডাউনসহ পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় স্ব-স্ব প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
এনিয়ে, সাতক্ষীরায় করোনার উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাত জনের রিপোর্ট সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে পৌছেছে। সাতটি রিপোর্ট কিন্তু নেগেটিভ এসেছে।

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা পাঁচশো ছাড়ালো

ঢাকা অফিস : দেশে করোনাভাইরাসে গেল ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫০১ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৭৫ জন। দেশে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫৮৫ জনে। এদিকে আরও ৪৩৩ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট সাত হাজার ৩৩৪ জন সুস্থ হলেন।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। বুলেটিনে বরাবরের মতোই করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

করোনা: ঈদেও মাঠে স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা

ঢাকা অফিস : অন্য পেশার সবাই যখন নিরাপদে ঈদ উদযাপন করছেন, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসিমুখে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রথম সারির যোদ্ধা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ঈদেও মানুষের সেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তারা। মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীরাও। অন্য পেশার সবাই যখন করোনা এড়াতে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে নিরাপদে ঈদ উদযাপন করছেন, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসিমুখে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা।

পৃথিবীর এই দুঃসময়ে প্রথম শ্রেণির যোদ্ধা হয়ে যারা করোনা রোগীর সেবা দিচ্ছেন তারা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

স্বজনদের ছাড়া আগেও ঈদে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা। কিন্তু এমন ঈদ কখনও আসেনি তাদের জীবনে। কুর্মিটোলা হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তারা।

চিকিৎসক রেবেকা সুলতানা বলেন, আমরা যখন রোগীদের কাছে যাই তখন তারা প্রশান্তি অনুভব করে। আমার পরিবারের সদস্যরাও আমাকে সাপোর্ট দিয়ে গেছে। তাদের কারও কোন প্রশ্ন নেই আমার কাজের প্রতি।

যেখানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের ছুটি পরিবারের সাথে বাড়িতে উদযাপন করছেন, সেখানে করোনার ঝুঁকি নিয়ে নিরলস কাজ করছেন গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গণমাধ্যমকর্মী জিনিয়া কবির সূচনা বলেন, আমরা তথ্য না দিলে সাধারণ মানুষের জানার কোন জায়গা থাকবে না। এই মহামারির সময়ে গুরুত্বপুর্ন তথ্য আমাদেরকেই পৌঁছে দিতে হবে। দুঃসময় হোক আর সুসময় হোক আমাদের সংবাদ পৌঁছে দিতেই হয় মানুষের কাছে।

গণমাধ্যমকর্মী রাশেদ লিমন বলেন, এবারের পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন। অন্যান্য সময় দেখা গেছে কাজের ফাঁকে, অফিসে ঈদের আনন্দটা উপভোগ করতাম কিন্তু এবার তেমন কোন অবস্থাই নেই।

কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন এসব পেশারজীবীর মানুষ। করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের নিজ ধর্ম অনুযায়ী সৎকার করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ঈদের দিনেও স্বেচ্ছায় করোনায় মৃতদের সৎকারে পাশে দাঁড়াচ্ছেন তারা।

সৎকার করতে গিয়ে নানা ধরনের অভিজ্ঞতারও সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কোভিড-১৯ দাফন কার্যক্রমের সমন্বয়ক ছালেহ আহমেদ বলেন,ঈদের দিনেও আমাদের কার্যক্রম চলছে। আমরা চেষ্টা করছি যে যেই ধর্মের তাকে সেই রীতি অনুযায়ি দাফন করা।

এই দুঃসময়ে উৎসবের দিনে পরিবার ছাড়া এসব পেশার মানুষ যে সেবা দিয়ে চলেছেন, তা শুধু মানুষকে ভালবেসেই, এমনটাই বলছেন তারা।

বটিয়াঘাটায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত 

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা (খুলনা) : সারাদেশের ন্যায় বটিয়াঘাটা উপজেলায় মুসলিম সম্প্রদায়েরসর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর সরকারি নিয়ম মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যাপক উদযাপিত হয়েছে। সুপার সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় আলফানেট তাণ্ডব ও করনা ভাইরাসের কারণে সাধারণ মুসল্লিরা তাদের শিশু ও পরিবারের জন্য নতুন পোশাক ও খাদ্য সামগ্রী সামান্য হলেও ঈদুল ফিতরের খুশি ও আনন্দের কমতি ছিল না কোন অংশে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল 8 টায় সদরের প্রধান ঈদগাহ ময়দানে প্রথম ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। দীর্ঘ এক মাস রোজা রেখে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বিশ্ব ও বাংলাদেশ থেকে মুক্তি এবং বিশ্বশান্তি কামনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাশেদুজ্জামান, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল কোবির সহ অন্যান্য মুসল্লিগণ।এছাড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য জলমা ইউনিয়নের মহানগর নিজখামার, কৈয়া বাজার, মাথাভাঙ্গা, তেতুলতলা, পুঠিমারি, সাচিবুনিয়া, চক্রাখালী, ছয়ঘড়িয়া, বটিয়াঘাটার বাজার সদর, হাটবাটি, নাহারিতলা বাস স্ট্যান্ড, গঙ্গারামপুরে কাতিয়ানাংলা, ঢেউয়াতলা, বরণ পাড়া, সুরখালির, গাওঘরা, সুরখালি, রায়পুর, বারোআরিয়া, আন্ডার কোটের, কুটির হাট, সাদাল বাজার, বালিয়াডাঙ্গার, বিরাট বুজবুনিয়া, ফুলবাড়ী, বালিয়াডাঙ্গা, ঝাল বাড়ি এবং আমিরপুর ইউনিয়ন বাইনতলা, জয়পুর, সহ বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। অপরদিকে বটিয়াঘাটার ৭ টি ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু ভ্রাতুশপুত্ত্র ও বিসিবির পরিচালক তারুণ্যের অনুপ্রেরণা শেখ সোহেল ভাইয়ের পক্ষ থেকে অসহায় দরিদ্র সাধারণ মানুষের মাঝে ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। এছাড়া মহানগর যুবলীগের প্রভাবশালী সদস্য মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজের পক্ষ থেকে শিশুদের মাঝে নতুন বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট দানবীর আলহাজ্ব আসলাম তালুকদার এর পক্ষ থেকে ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে ঈদুল ফিতর উদযাপনে উপজেলায় যাতে কোন প্রকার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম এবং থানা অফিসার ইনচার্জ এর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।

খুলনায় ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত

খুলনা অফিস : করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এবার সারা দেশের মতো খুলনায় এক ভিন্ন আঙ্গিকে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করা হয়।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। এছাড়া কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের জামাতে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি,  দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নগরীতে টাউন জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামাত সকাল নয়টায় এবং তৃতীয় ও শেষ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন মসজিদে সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে নিজেদের সময় অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলার সকল মসজিদে ঈদ-উল-ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, খুলনা বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।

করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশে ঈদের জামাত হয় মসজিদে

ঢাকা অফিস : জাতীয় ঈদগাহ, শোলাকিয়াসহ খোলা মাঠে হয়নি ঈদের জামাত।

করোনাকালে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে ঘরবন্দি অন্যরকম ঈদ। ঈদগাহ মাঠের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে নামাজ আদায় করা হয়েছে। সংক্রমণ রোধে কোলাকুলি থেকেও বিরত ছিলেন মুসুল্লিরা।

করোনা সংক্রমণ রোধে এবার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম বড় ঈদগাহ মাঠ দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে প্রত্যেক মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ১৯৩ তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদসহ শহরের বিভিন্ন মসজিদে ঈদের নামাজ হয়।

করোনা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামেও খোলা মাঠে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়নি। সকাল ৮টায় সামাজিক দূরত্ব মেনে চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ২য় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল পৌনে ৯ টায়।  এছাড়া নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মসজিদগুলোতে  ঈদের জামাত আয়োজন করা হয়।

সামাজিক দূরত্ব মেনে বরিশাল নগরীর চকবাজারের জামে এবাদুল্লাহ মসজিদে ঈদের ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য মসজিদে ৩টি ও ২টি করে ঈদ জামাত আয়োজন করা হয়।

খুলনায় ঈদের প্রধান জামাত নগরীর টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। এছাড়া অন্যান্য মসজিদে ঈদের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা মেনে রাজশাহীতে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮ টায় নগরীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগাহ মসজিদে। এছাড়া নগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদে দ্বিতীয় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নাটোরে সকাল সাতটায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি নির্দেশনা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মুসল্লিরা এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এছাড়া সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

তবে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে উপকূলীয় এলাকায় নেই কোনও ঈদের আমেজ।

মোংলায় বাজার জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলা বন্দরে ঈদের প্রধান জামায়াত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে পৌর কেন্দ্রীয় বাজার জামে মসজিদে। প্রধান এ জামায়াতে ঈদের নামাজ আদায় করেন পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আলী ও বিশিষ্টজনসহ পৌরবাসী। এ সময় পৌর মেয়র জুলফিকার আলী পৌরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সকলকে সামাজিক দূরত্ব এবং করোনাভাইরাসের বিধি নিষেধ মেনে চলার আহবাণ জানান। করোনাভাইরাসের কারণে নানা ধরণে বিধি নিষেধ থাকায় নিয়ম মেনেই মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লীরা। দোকানপাট, হোটেল-মোটেল বন্ধ থাকায় লোকজন নামাজ আদায় করেই যে যার বাড়ীতে চলে যান।