সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না

ঢাকা অফিস : ৩০শে মে’র পর সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

করোনা সংক্রমণ রোধে গত ২৬শে মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাধারণ ছুটি আর বাড়ানো হচ্ছে  না বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

ডিবিসি নিউজকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন  জানান, দেশে করোনা প্রাদূর্ভাবের কারণে গত ২৬শে মার্চ থেকে বেশ কয়েকদফা সরকারি ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও এবার ৩০শে মে’র পর আর ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হবে না।

তিনি আরও জানান, ৩১শে মে থেকে সরকারি আধা-সরকারি সব অফিস খুলছে। তবে ১৫ই জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করবে। চলবে না গণপরিবহণ, রেল ও যাত্রীবাহী নৌযান। তবে বেসরকারি বিমানগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় বিমান চলাচল শুরু করতে পারবে।

এদিকে, গণ জমায়েত ও সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ধর্মীয় উপসানালয় খোলা থাকবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাত্রী পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। বন্ধ থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তবে অনলাইনে ক্লাশ নেয়া যাবে।

আম্পানে সুন্দরবনে দুই কোটি টাকারও বেশি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা : সুপার সাইক্লোন আম্পানের আঘাতে খুব বেশি একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি মোংলাসহ আশপাশ উপকূলীয় এলাকায়। আর এর বড় কারণ হলো সুন্দরবন। প্রতিবারের মত এবার ঢাল হিসেবে বুক পেতে দেয়ায় উপকূলের বাসিন্দা রক্ষা পেলেও ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে সুন্দরবনের গাছপালা ও বনবিভাগের স্থাপনাগুলোতে। তারপরও সুন্দরবনের বুক চিরে আসা আম্পানের তান্ডবে মোংলায় কাঁচা ঘরবাড়ী, বেড়ী বাঁধ ও মাছের ঘেরে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে মোংলায় ৩শ ঘরবাড়ী পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ৯শ ঘরবাড়ীর। চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে দেড় হাজার। যে ক্ষতি হয়তো আরো বেশি হতে পারতো, তা কমিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন।
আম্পানে পশ্চিম সুন্দরবনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে ১২ হাজার ৩৩২টি। টাকার দিক দিয়ে শুধু গাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৬০ টাকার। অন্য দিকে পূর্ব সুন্দরবনে বনবিভাগের বিভিন্ন স্থাপনা ও গাছের ক্ষতি হয়েছে ০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার। পূর্ব ও পশ্চিম বনবিভাগের ৪টি রেঞ্জের ১০টি জলযানসহ অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা। সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে গঠিত পৃথক ৪টি তদন্ত কমিটির দেয়া তথ্যমতে এ হিসাব পাওয়া গেছে। এ তথ্য অনুযায়ী আম্পানের ঝড়-জলোচ্ছাসে বনের কোন বন্যপ্রাণীর প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেনি।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো: বেলায়েত হোসনে ও পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বশির আল মামুন বলেন, পশ্চিম সুন্দরবনে আম্পানের আঘাতে ১২ হাজার ৩৩২টি গেওয়া, গরান গাছ ভেঙে এবং উপড়ে পড়েছে। এর মধ্যে গরান গাছের সংখ্যা ১০ হাজার ৫৭৯টি। আর পূর্ব সুন্দরবনে গাছ ভেঙে এবং উপড়ে পড়েছে ২৬টি। এই ২৬টি গাছ হলো বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার ঘর সংলগ্ন জায়গায় লাগানো নারকেল, তাল, ঝাউ, বট ও রেইনটি গাছ। এছাড়া সুন্দরবনে বনবিভাগের ২৬টি জেটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৪৯টি ফরেস্ট অফিস ও বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার ঘরের চাল উড়ে এবং গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পূর্ব সুন্রবনের কটকা, কচিখালী ও হাড়বাড়িয়ায় দুটি জেটি ও একটি ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রর হরিণ ও ডলফিনের শেড ভেঙে গেছে।
পূর্ব সুন্দরবনে ১৭টি ও পশ্চিম সুন্দরবনে ২৩টি মোট ৪০টি মিষ্টি পানির পুকুর ঝড়ের জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়ে লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে সুন্দরবনের বাঘ-হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর খাবার সুপেয় পানির নষ্ট হয়ে গেছে। পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের এ ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট প্রধান দপ্তর ও মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছে বনবিভাগ। সেখান থেকে সরকারী বরাদ্দ পেলেই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ স্থাপনাগুলো সংস্কার করার কথা জানিয়েছেন বনভিাগের এ দুই কর্মকর্তা।

স্বরচিত অর্ধশতক গানের রচয়িতা ও সংগীতশিল্পী শফি সরকারের উপাখ্যান

নজরুল ইসলাম তোফা:: এই পৃথিবীতে যুগেযুগেই কিছু মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আছে কোটি কোটি টাকা, ভোগ-বিলাস, ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি তারা নিজ জীবন নিয়েই যেন স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু এমন কিছু বিকল্প চিন্তা চেতনার মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়, তাঁদের জীবনটার নন্যতম চাহিদা নেই! নেই কোন কিছুর মোহ! নেই মনের ইচ্ছা পূরণের উচ্চাকাঙ্খা। তাঁদের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনার উদ্দেশ্য অতীব ক্ষিন। অর্থের কোনো লোভ না থাকলেও প্রয়োজন শুধু আছে মনের তৃপ্তি মিটানোর ইচ্ছা। সুতরাং বলা যায়: এই সরল, প্রতিভাবান, কোমল মনের মানুষটি শুধু স্বপ্ন দেখেন গানের জগৎ নিয়ে। এই গানের জগতের বহুগুনের অধিকারী মানুষটি, সবাইকে অবাক করে দেওয়ার মতো প্রতিভা রেখেচলেছেন। তাঁর স্বরচিত গানের নেশাটা নিত্য দিনের জীবন সঙ্গী। নামটি তাঁর মো: মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি সরকার।
ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে তার সঙ্গে বিস্তর কথা বার্তা হয়েছে। “ধর্মের সাথা বিজ্ঞান” এর সংঘর্ষ না কি মানুষের যথেষ্ঠ সন্ধিহান রয়েছে। কোন কোন ধর্মের সাথেই রক্তা রক্তির ঘটনাও আছে ইতিহাসের পাতায়। তবে ‘পবিত্র কুরআন’ থেকে উৎসারিত ধর্ম, ইসলামের সাথে প্রকৃত বিজ্ঞানের বিরোধ ছিলনা অতীতে, বর্তমানেও কোনো বিবোধ নেই এবং ভবিষ্যতেও হবেনা তা তিনি কথা প্রসঙ্গে বললেন। ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথার প্রতিফলনেই তাৎক্ষনিক লিখেন স্বরচিত একটি গান। আর তা নিয়েই নজরুল ইসলাম তোফা লিখলেন তাঁর “জীবন কাহিনী”। কি যে অবাক- এই মানুষ! তাঁর প্রতিভার তুলনা হয় না। প্রাকৃতিক জগতটাকে জানার আগ্রহ কতো যে প্রবল তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এটা নাকি তাঁর বিনোদনের মাধ্যম। সঠিজভাবে ”বিজ্ঞানের জ্ঞান এবং কর্মের মাঝে” আছে যে সব জ্ঞান তাকে কাজে লাগিয়েই গান লিখেন। সুতরাং- উক্ত বিষয়ের ওপর কোন ব্যক্তির যথাযথ জ্ঞান যদি না থাকে তাহলে নাকি বিজ্ঞান এবং নিজ কর্ম নিয়ে গান লেখা সম্ভব নয়। যেকোন মানুষদের যদি বিজ্ঞানের আলোকে এই পন্থায় সংগীত চর্চায় অগ্রসর হন তাহলেই তাঁদের বিদ্যা বুদ্ধির স্বীকৃতি স্বরূপ: বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, প্রগতিশীল, সুশীল বা আরেও অনেক শিহরণ সৃষ্টিকারী লোক ”গানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধি” করতে পারবেন বলেই তাঁর ধারনা। তাঁর সৃষ্টি গানের সুর বা শব্দ ফোক গানের অাদলে সমৃদ্ধ রয়েছে। সমাজে তাঁর অবস্থান সম্পর্কেই তিনি বলেন, বিজ্ঞানের মূল কথাই হচ্ছে যুক্তি ও প্রমাণ। তাই তিনি গানের সুরেই বলেন: চলছে গাড়ী পজেটিভ,.. ব্রেক মারিলে হয়রে নেগেটিভ।.গানের কথায় শফিকুল, বিজ্ঞানীদের বাজাই ঢোল।.আলোক বর্ষ গেছে কতদূর।. ঐ দর্শন হইতে দার্শনিক হয়,……. যুক্তি বিদ্যা নাম সপ্তম আসমান। কত দূরে নবীর হাদীস টান,..আলোক বর্ষ কে বুঝে। বিজ্ঞানীদের খবর দে। সপ্তম আসমান পরে আছে কে?
তিনি লেখা পড়া ছেড়ে দিয়েই অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে কৃষি কাজে নেমেছিলেন। বিকেলে তাঁর আড্ডা স্হান ‘কুলার বিল’ থেকে পদ্মা নদীতে প্রবাহিত মধ্যবর্তী একটি শিবো নদীর পাশেই ধানুরা গ্রামে। সেই শিবো নদীর পাড়ে বসে সূর্য্যাস্তের লগ্নে যেন, মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি সরকার আকাশ দেখেন এবং বিজ্ঞান জগতের ভাবনায় জাগ্রত হতে থাকেন। তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় স্বরচিত গান যেমনটি;- মহাশূন্যের রকেট ঘাঁটি দেখতে যাব নাকি,….. বিজ্ঞান বেটা কর্মের সাথী হাতে লাগাও তালি।…তোমরা কেন বুঝনা মঙ্গল গ্রহের ঘটনা,.কর্ম ছাড়া ধর্ম হবে না।..
তাঁর সৃষ্টিশীল স্বরচিত গানের বাঁকেবাঁকেই সুরের মুর্সনা ও কথার ভেতর দিয়ে ভুবনকে দেখার যে আনন্দ, মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের আসল দিক, মানুষের মাঝে প্রকৃত মানুষ খোঁজার এক আদর্শীক দৃষ্টান্ত কিংবা প্রকৃতির রূপ বদলের নান্দনিক ও ভয়ানক দুর্যোগ এবং দূর্ঘটনার ‘ইতিবাচক বা নেতিবাচক’ দিকটা তোলে ধরার প্রবনতা রয়েছে। কৃষি কাজ করতে গিয়ে ‘কৃষক-শ্রমিক সহ সাধারণদের আচার আচরন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও অত্যন্ত জনপ্রিয় গান লিখা ও তা গেয়ে গ্রামের অগনিত মানুষদের আনন্দ জুগিয়েছন। তাঁর গানেই যেন কোমল ফোক সুরের ছোঁয়া ‘ধানুরা গ্রাম বাসি’ বা তানোর থানার মানুষকে অবাক করিয়েছেন। জেনে নেওয়া যাক, এমন মানুষটির পরিপূর্ণ জীবন কাহিনীর আদ্যোপান্ত।
রাজশাহী জেলার তানোর থানায়- ”ছয় নম্বর কামার গাঁ” ইউনিয়নের ধানুরা গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। বাবা স্কুলমাষ্টার মোঃ আব্দুর রহমান আর মাতা, মোছা: শুরভান বেওয়া একজন পর্দাশীল গৃহিণী মহিলা। তাঁর বাবা সারা জীবন শিক্ষার গর্ভে চলেছে, গ্রামে অজস্র মানুষকে পরিচালিত করেছেন। আর ছাত্র ছাত্রীদেরকে ভালো করে পড়িয়েও বৃত্তি ধরিয়েছেন। ”সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে” তাঁর বাবার বহু ভূমিকা থাকে, সেই অনুষ্ঠান গুলো পরিচালনাও করেন। এ থেকেই মোঃ শফিকুক ইসলাম শফি সরকার উদ্বোধ্য হয়েই গানের জগতে আসেন। আর বড় ভাই মোঃ শহিদ মাষ্টার, নিজ প্রামের- “সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়” এর শিক্ষক। একমাত্র বোন- ‘মোছাঃ শামসুন নাহার হেলেনা’ সহ দুই ভাইকে নিয়ে বাবার এক “ছোট সংসার”। তাদের বাবার ‘আঠার বিঘা’ পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারার মধ্যে শফি সরকার পান “৭ বিঘা”। বড় ভাই তিরিশ বিঘা সম্পত্তি ক্রয় করলেও তিনি কোনো সম্পত্তি ক্রয় করতে পারেননি। সহধর্মিণী- মোছাঃ রহিমা বিবি এবং এক পুত্র সন্তান- ‘মোঃ রাজুকে’ নিয়ে তিনি গ্রামেই থাকতেন। তার পরে তিনি গ্রামের পরিবেশ থেকে শহরে আসেন- জীবন জীবিকার উদ্দ্যেশে রাজশাহী। তবুও স্বরিত গান রচনায় থেমে থাকেনি তার মেধা। তিনি চাকরী পেলেন রংপুরের রহিমদ্দীন ভরসার সিগারেট কোম্পানীতে। আজ অবধি কর্মরত আছেন রাজশাহী সিটি করর্পোরেশন এলাকায়।বলা যায় যে, বিভাগীয় এলাকাজুড়েই তাঁর চাকরি। সেই কোম্পানীর বিভিন্ন পন্য বাজার জাত করনের সৌজন্যে প্রতি মাসে পান প্রায় আট নয় হাজার টাকা। অর্থ কষ্টেই চলেন, তাই তো তার চেহারা দেখলেই টের পাওয়া যায়। সারাদিন কর্ম ব্যস্ততায় কাটান এবং ভর দুপুরে বর্নালীর মোড়ে “শরিফ চা স্টলে” একটু জিরিয়ে নেন। আর সেই সুবাদেই তিনার সঙ্গে সেখানে নজরুল ইসলাম তোফার হঠাৎ সাক্ষাৎ হয়। তাঁর ‘জীবন কথা সহ স্বরচিত গানের’ একবৃহৎ ভান্ডার আছে জানতেও পারে। স্টলের টেবিল বাজিয়ে শুনিয়ে দিলেন অনেক গান। মুগ্ধ হওয়ার মতো একটি গান, ‘ডিপটিউবলে ফসল ফলায় আসমান ছাড়া জমিনে,… কি যুগ আসিলো গুরু মনে পড়ে তোমারে।… আকাশেতে মেঘভাসেরে এক ফসলেই জ্বালা, বৃষ্টি ছাড়া ভালো ফসল যায় না ঘরে তোলা।…. অনাবৃষ্টি ধুধু খরাই ফসল কত মইরাছে,….কি যুগ আসিলো গুরু মনে পড়ে তোমারে’।…..
তরুণ প্রজন্মের প্রতিভাবান ব্যক্তি তারুণ্যের প্রতিক স্বল্প ভাষী, মিউজিক ম্যান কিংবা স্বরচিত গানের শিল্পী: মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিসরকার যেন খুব অল্প বয়সে জয় করেছেন অসংখ্য শ্রোতা ও দর্শকের হৃদয়। বাড়ির পাশে ধানুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বপ্রথমেই স্বরচিত গান গেয়ে দর্শক প্রিয় হয়েছিলেন। এখন তাঁর বয়স প্রায় ৪১ বছর হবে। তিনি এখনতো রাজশাহী একটি মনোরম পরিবেশ অর্থৎ উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী কাঁচাপাকা ৩ টি আম নিয়েই চৌরাস্তার মোড়ে নির্মিত একটি ‘আম চত্ত্বর’ ভাস্কর্য্যের পূর্ব দিকে জিয়া পার্কের পার্শ্ববর্তী নওদা পাড়া প্রামে সন্তানসহ সহধর্মণীকে নিয়ে আজ অবধি অবস্থান করেন। ভাড়া বাসাতে এক মাত্র ছেলেটিকে লেখা পড়ার খরচ যোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন। বাবার দেয়া সাত বিঘা সম্পত্তিই এখন তাঁর জীবন যাপনের মুল পাথেও। নবম শ্রেনীতে লেখা পড়া করা ছেলেকে মোবাইল ফোন কিনে দিতে নারাজ। ছেলে নাছড় বান্দা হয়ে বাবার সঙ্গে জেদ করলে তাকে এ যুগের “হালচাল কিংবা অতীতে প্রেমের হালচালে” স্বরচিত গান গেয়ে শুনান। তাহলো ‘আধুনিক যুগ আর মড়ান যুগে,…..প্রেম আলাপে জমায় রে,….কে বানাইলো মোবাইল ফোনটা রে।…….আগে আমরা প্রেম করিতাম চিঠি দিয়া হাতে,..যাওয়া আসা অনেক দুরে,… প্রেমের আলাপ হয় না রে’।….
সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেই যে তাঁর বেড়ে ওঠা। বাল্য বয়সে মস্তিষ্কের কোষেকোষে গেঁথে যায় যাত্রা দলের গান এবং যাত্রার বিভিন্ন মিউজিক। কৈশরে স্বরচিত গানের সহিত মিউজিক বাজানোর উৎসাহ ও সেসবের পরিচিতি ছিল মনের অনেক উর্ধে। সব কিছু ছাপিয়ে যাত্রা দলের ‘ডুগী তবলা বাদ্যযন্ত্রকে নিয়েই যেন যাত্রা দল মাতিয়ে তোলে বাজানোর ঢংঙে। তরুণ বয়সে নিজ গাঁয়ের স্কুলে প্রতি বছর যাত্রা দল আসতো। মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি সরকার শৈশব থেকে যেন যাত্রাদলের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। যশোহরের সেই- ‘জি, এস অয়েল অপেরা’ যাত্রাদলটি ধানোরা প্রামে এলে তাঁদের সাথেই মিউজিক বাজিয়েছেন এবং শৈশবে মনেও করেছেন দলটির সঙ্গে চলে গেলে মন্দ হয় না। কিন্তু বাস্তবতায় বাবার কারণেই সেই সিদ্ধান্তের কবর হয়েছিল। তবে তাঁর বাড়ির পাশের একজন দক্ষ প্রবীণ ব্যক্তি উস্তাদ তাসির উদ্দীনের সঙ্গে এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরে ঘুরেই যেন মিউজিক বাজিয়েছেন। অনেক সুন্দর ‘হারমোনিয়াম এবং অর্গান’ বাজাতো উস্তাদ তাসির উদ্দীন। তাঁর সাথেই শফি’র উঠা বসা ছিল স্কুল জীবনে। উস্তাদ তাসির উদ্দীনের সঙ্গীতে ও বাদ্যযন্ত্রে পাগল হয়ে তাঁর সঙ্গে দূরদূরান্তের অনুষ্ঠানে গানের আসোবে ছুটে যেতো এবং সেখানে তাঁর নিজের লেখা গানগুলি গেয়ে আসোর জমাতো। ১২বছর বয়সে স্কুল ফাঁকি দিয়ে ‘উস্তাদ তাসির উদ্দীনের’ সাথেই যাত্রার সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতায় ৭/৮ বছর ধরে যাত্রা দলের বাদ্যযন্ত্র বাজিছেন। গ্রামের সহজ সরল মানুষদের কাছে গান বা মিউজিক বাজানোটা তাঁর নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর, সে কংগো বা ডুগী-তবলার সহিত স্বরচিত গানগুলোর আধিক্যটা ছিল দর্শক জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তানোর থানার বিভিন্ন এলাকাতে তাঁর সুর কিংবা গানের জন্যেও বায়না এসে ছিল। কিন্তু এখন মিউজিক নিয়ে তাঁর কোনই পরিকল্পনা নেই। তবে মনের ইচ্ছা পূর্ণ করার বাসনা সর্বদাই জাগ্রত হয়, তা হলো স্বরচিত গান লেখা আর সে গানগুলি নিজ কন্ঠে গাওয়া। এই বিজ্ঞান চিন্তা চেতনায় মানুষ, অনেক সময় বহু ভাবনায় অগ্রসর হয়েছেন এবং বর্তমানেও সেসব ভাবনা নিয়েই আছেন। তার প্রতিফলন এমন গানটি। ”বিতার পড়ে বিজ্ঞান হলে সব কিছুতে মিল দেখায়,..গানের কথা শফিকুল বানার। আবার বিজ্ঞানীরা কি দেখায়,……গানের কথা শফিকুল বানায়। হাত বোমা তৈয়ারী করে খেলছে কত খেলা,…… মসজিদ ঘরে বোমা মারে,…….নাস্তিক হয়া সারারে দেখ নাস্তিক হয়া সারা।…. কিতাব পড়ে বিজ্ঞান হলে,…বোমা মারা কি দেখায়?…গানের কথা শফিকুল বানায়।….মহা শূন্যে বসত বাড়ি,…..বিজ্ঞানের তৈয়ারী,…..দেশ বিদেশে আকাশ পথে,…….দিচ্ছে তারা পাড়িরে দেখ দিচ্ছে তারা পাড়ি।…ওরে চাঁদের দেশে মানুষ গেছে,..হাদীসেতে তার প্রমান নাই।…গানের কথা শফিকুল বানায়।…চাঁদ আছে আর কতদূরে,…বিজ্ঞান তার উপরে।…ভিন্নগ্রহে জীবের সন্ধান,..বিজ্ঞানীরা বলে রে দেখ বিজ্ঞানীরা বলে। মঙ্গল গ্রহে মানুষ যাবে,…আর বেশী দিন দেরি নাই।…. গানের কথা শফিকুল বানায়’।..
এ ব্যতিক্রমী চিন্তা ধারার মানুষকে আরও পরে ‘স্বরচিত গানের সাথে হারমোনিয়াম বাজিয়ে বহু গান শিখেছেন, তানোর থানার খুবই বড় গানের উস্তাদ- “মোঃ রেজাউল ইসলাম বাবু”। উনার ডাকেই বিয়ে-বাদি, কিচ্ছা-কাহিনী, যাত্রা-পাটি এবং স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠানে স্বরচিত গান গেয়েছেন। তাঁর, বাবা মার হাজারো বাধা উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় এই জগতেই ছিলেন। একটু বলে রাখি, নেশা ও পেশার মধ্যে তাঁর যেন খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল। গ্রামীণ খেলা হাডুডু পাশাপাশি একই ভঙ্গিতেই- ‘স্বরচিত গান’ লেখার চিন্তা যৌবনকালে মাথায় নিয়েছিল অত্যন্ত তীব্র ভাবে। কিন্তু তখন ‘কাগজে কলমে খাতায়’ লিখাটা হয়নি। তবে শুরু হয়েছিল কলেজে ভর্তী হবার পর পর। বলা দরকার যে, তিনি লেখাপড়াতে অনেক ভালো ছাত্র ছিলেন। এস, এস, সিতে ছয় মার্ক পেলে অবশ্যই “প্রথম স্হান” অধিকার করতেন। তবে তাঁর কলেজ জীবনটাই নেমে আসে- অমানিশার ঘোর আঁধার, পড়া শোনা আর হয়নি। কাল হয়ে দাঁডিয়ে ছিল- “হুচি”। এইচ, এস, সিতে হুচি’ নামের মেয়ের সঙ্গে ব্যর্থ প্রেমিক হয়ে যান। কিরের আর লেখাপড়া, কষ্ট পেয়ে ছিলেন। বাবা, তাঁকে অনেক চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি। হুচিকেও নিয়ে অনেক গান লিখেছেন। যেমন:- “কৃষ্ণচূড়া গাছেরে হুচি আজো বেঁচে আছে,…ভালোবাসার দিন গুলো সে কোথায় চলে গেছে।…পাড়ার যত তরুন মেয়ে খেলতো কতো খেলা,.. হাত ধরিয়া গোল্লাছুট আর কানা মাছির খেলা।…..ওরাই আমার সঙ্গের সাথী কোথায় চলে গেছে,.তাদের দেখতে মনে আমার বড়ই সাধ যে জাগে।…
তাঁর নিজ ভাতিজা অর্থাৎ বড় ভাইয়ের বড় ছেলে “মোঃ আব্দুর রব” স্বচক্ষে দেখেছেন, অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই তাঁর উপলব্ধি, সত্যিই চাচা সংগীত রচয়িতা। প্রত্যক্ষদর্শীরাই উৎসাহ যুগিয়েন চাচাকে “স্বরচিত গানে জগতে” তাঁকে  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁরাই উঠিয়েছেন। দর্শকনন্দিত এ স্বরচিত গানের শিল্পী শফি নজরুল ইসলাম তোফাকেও অনেক গান শুনিয়েছেন। তাঁর ভাতিজার ভাষ্যমতে বলা যায় যে, আমি চাচার একজন ভক্ত, আমার চাচা অত্যন্ত একজন গুনী ব্যক্তি। তাঁর স্বরচিত বহু গান আছে, আমি মনে করি সংগীত জগতের এক তৃনমূল বীর, আমি তাঁর লিখিত- ‘গান, সুর, মিউজিক’ বাজানোর পারদর্শীকতায় সত্যিই একজন খাটিভক্ত। খুব পছন্দ হয় চাচার স্বরচিত গান, আবার গাইতেও চেষ্টা করি চাচার নিজস্ব স্টাইলে। আব্দুর রব আরো বলেছেন যে, সব গান বিজ্ঞান চৈতন্য বোধের- ‘ফোক সংগীত’। তাই ফোক সংগীতের রচয়িতা শফিকুল ইসলাম শফি প্রায় ৫০/৫৫ টি গান রচনার বড় এক খাতা হাতে করেই ঘোরে বেডান। সুতরাং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর মাষ্টার্স পড়ুয়া ভাতিজার তত্ত্বমতে তাঁর বহু গান সহ জীবনের বিভিন্ন ঘটনার প্রমান দিলেন।
শৈশব থেকেই তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী, মমতাজের ভক্ত। শিল্পী মমতাজকে পেলে তাঁকে গানসহ মনের কিছু কথা শুনাতে ইচ্ছে করেন। শিল্পী মমতাজের মোবাইল নাম্বর পেলেও মোবাইলে গান গুলো শুনানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। তাই তাঁর- ০১৭১৭৬৬৪১৪০ এই মুঠোফোন নাম্বর দিয়ে দিলেন লেখক:- নজরুল ইসলাম তোফাকে। গান গুলো “রেকডিং হোক” সেই ইচ্ছাও তাঁর আছে। সব গানগুলোতে নিজে সুর দেওয়া এবং গাওয়া আছে। কোন সংগীত প্রিয় ‘ছেলে কিংবা বিত্তবান মানুষ’ এগিয়ে আসলে তাদের গাওয়া ও রেকডিং করায় কোন বাধা সৃষ্ট করবেন না। উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে ধর্ম এবং বিজ্ঞান উভয়ের প্রতি গভীর সমর্থনের এক বিশাল জনগোষ্ঠীর আস্থা থাকেই তাঁর এ রচিত গানের কথা ও সুর। হয়তো কালের আবর্তনে মহা বিশ্বের শুরু থেকে ধ্বংস পর্যন্ত – “মোঃ শফিকুল ইসলাম শফি’র” স্বরচিত গান যেন অক্ষন্য থাকে সে স্বীকৃতিটাও তিনি গান দ্বারা শ্রোতা ও দর্শকদের কাছে আশা করেন।
লেখকঃ
নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

ঝালকাঠিতে নতুন ৫ জনের করোনা সানাক্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীসহ জেলায় নতুন করে আরো ৫ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। আর এ নিয়ে জেলায় মোট ৪১ জন আক্রান্তের হল।

নুতন আক্রন্তের মধ্যে ঝালকাঠি সদরে ২ জন , নলছিটিতে ২ জন ও রাজাপুরে ১ জন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন। আইইডিসিআরে পাঠানো নমুনায় তাদের পজেটিভ রিপোর্টে আসে বলে বুধবার সকালে ঝালকাঠি জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার জানান। নতুন করে সনাক্ত ব্যক্তিসহ আশপাশের বাড়ি গুলো লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। করোনা সনাক্তদের হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে বলেও সিভিল সার্জন জানান।

উল্লেখ্য ঝালকাঠি জেলায় অঅক্রান্তদের মধ্যে ২ জন মারা যায় এবং ১২ জন সুস্থ হয়েছে বলে সিভিল সার্জন নিশ্চিত করেন।

সুন্দরবন উপকূল অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া

মোংলা প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচ চাপের প্রভাবে মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূল অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। যার কারনে মোংলা বন্দরে ৩ নাম্বার স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। দুর্যোগপুর্ন আবহাওয়ার ফলে হঠাৎ সকাল থেকে মুষলধরে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় একানকার মানুষ ঘর থেকে নামতে পারছেনা। অপরদিকে, কখনও হালকা ও আবার কখনও ভারী বৃষ্টির ফলে বন্দরে অবস্থানরত বানিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের আধিক্য বিরাজ করায় মঙ্গলবার সুন্দরবন উপকূল অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। থেমে থেমে কখোনও মাঝারী আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। উপকুলীয় এলাকায় প্রচন্ড বাতাস ছাড়াও বিরাজ করছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। বৃষ্টির কারনে এখানকার নিম্ন আয়ের মানুষ ঘর থেকে নামতে না পারায় পরিবার নিয়ে দুঃচিন্তায় পরতে হচ্ছে তাদের। এদিকে বৃষ্টির ফলে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত বানিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ বন্দরে সার, ক্লিংকার, পাথর, গ্যাস, ফ্লাই আ্যাশসহ ৮টি বাণিজ্যিক জাহাজ এ বন্দরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় এখানে অবস্থান করছিল বলে জানায় বন্দর কর্তপক্ষ।

করোনায় প্রাণ গেল আরও ২২ জনের : শনাক্ত ১৫৪১

ঢাকা অফিস : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৪৪ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৪১ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ২৯২ জনে।

বুধবার দুপুরে, স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় সাত হাজার ৮৪৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে আট হাজার ১৫টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ৬৬ হাজার ৪৫৬টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও এক হাজার ৫৪১ জনের দেহে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ২৯২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২২ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৪৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৩৪৬ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল সাত হাজার ৯২৫ জনে।

নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ২০ জন পুরুষ, দুজন নারী।২১ জন মারা গেছেন হাসপাতালে, একজন মারা গেছেন বাসায়। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ জন এবং সি‌লেট বিভাগের দুজন বাসিন্দা রয়েছেন। জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানীতে পাঁচজন, ঢাকা জেলায় তিনজন, মুন্সীগঞ্জে একজন, নরসিংদীতে একজন, চট্টগ্রামে দুজন, নোয়াখালীতে তিনজন, কুমিল্লায় দুজন, কক্সবাজারে একজন, চাঁদপুরে দুজন, সিলেটে একজন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন। বয়সের দিক থেকে ০ থেকে ১০ বছর বয়সের একজন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী দুজন, ত্রিশোর্ধ্ব দুজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব সাতজন, ষাটোর্ধ্ব সাতজন এবং সত্তরোর্ধ্ব একজনের মৃত্যু হয়েছে।

মোংলায় ধর্ষণ মামলায় কথিত সাংবাদিক টুটুল জেলহাজতে

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : ধর্ষণ মামলায় মোংলায় কথিত এক সাংবাদিককে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মাসুদুর রহমান টুটুল নামের ওই কথিত সাংবাদিককে বুধবার সকালে জেলহাজতে পাঠায় আদালত। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণ মামলায় মোংলার মামার ঘাট থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টুটুল ধর্ষণের কথা স্বীকারও করেছে।
এদিকে টুটুল বিভিন্ন দপ্তরে নিজেকে একাত্তর টিভির মোংলা প্রতিনিধির পরিচয় দিলেও কর্তৃপক্ষের ভাষ্য প্রাথমিকভাবে মোংলায় কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল তাকে। এ ঘটনার (ধর্ষণ) দায়ভার তার নিজস্ব, কর্তৃপক্ষ এর দায়-দায়িত্ব নিবে না বলেও জানান একাত্তর টিভির ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ পলাশ আহসান।
একাত্তর টিভির বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, টুটুল একাত্তর টিভির যে লোগো ব্যবহার করতো সেটি কর্তৃপক্ষের দেয়া নয়। সে নিজেই বানিয়ে নিয়েছিল। এ ব্যাপারেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কর্তৃপক্ষ।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মোংলা সরকারী কলেজ পড়ুয়া এক সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারী মোংলা পৌর শহরের পাওয়ার হাউস রোডের ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে আসে একাত্তর টিভির সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মাসুদুর রহমান টুটুল। এরপর কৌশলে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে মোবাইলে তার ভিডিও ধারণ করে সে। ওই শিক্ষার্থীর জবানবন্দী অনুযায়ী পুলিশ জানায় টুটুলের মোবাইলে ধারণকৃত সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে ১৮ বার ধর্ষণ করে। শেষমেষ উপায়ান্তু না পেয়ে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এরপর তার পরিবার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত কথিত সাংবাদিক টুটুলের মোবাইল ফোনে আরো ৭ থেকে ৮টি মেয়ের সাথে মেলামেশার নগ্ন ভিডিও পাওয়া যায়। এজন্য টুটুল একজন সিরিয়াল র‌্যাপিস্ট বলেও মন্তব্য করে পুলিশ। টুটুলকে এ ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে আনা হবে বলে জানায় ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী।
কথিত সাংবাদিক ও সিরিয়াল র‌্যাপিস্ট মাসুদুর রহমান টুটুল মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাইনমারী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। টুটুলের বিরুদ্ধে একাধিক নারী ক্লেংকারীর ঘটনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বটিয়াঘাটায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৩৫ দোকান ভষ্মিভুত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নতুন স্ট্যান্ডে অাজ বুধবার ভোর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে খালের উপর ঝুলন্ত ৩৫ টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেরিতে ঘটনা স্থলে পৌছানোর কারনে ক্ষতির পরিমাণ বেশী হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান।
জানা গেছে, বুধবার ভোর রাত ৪ টার দিকে উপজেলার নতুন স্ট‍্যান্ডের খালের উপর অবস্থিত ঝুলন্ত দোকানে বৈদুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয় বলে প্রথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ৷ মুহুর্তের মধ্যে আশ পাশের একাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায় ৷ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয় স্ট‍্যান্ড মসজিদের মাইকে বার বার আগুন লাগার ঘোষনা দিতে থাকে। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষনিক ভাবে অাগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয় ৷ ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী অাসার পূর্বেই ৯৫ শতাংশ দোকান পুড়ে যায় ৷
প্রাথমিকভাবে খোজ নিয়ে জানা যায় প্রায় ৩৫ টি দোকান পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩ কোটি টাকার মত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ৷

বটিয়াঘাটায় একটি ব্রিজের অভাবে ঝুঁকিতে ১৩ গ্রামের শিক্ষার্থীরা

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খড়িয়া নদীর উপর ব্রীজ অভাবে তিন ইউনিয়নের ১৩ গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। সেই মান্দাতা আমল থেকে এভাবে যাতায়াত করলেও কোন জনপ্রতিনিধির দৃষ্টিতে আজও আসেনি। গঙ্গারামপুর, বটিয়াঘাটা ও সুুরখালী ইউনিয়নের বয়ারভাঙ্গা, আন্দারিয়া, খড়িয়া, দেবীতলা, বসুরাবাদ, আমতলা, বাদামতলা, সুখদাড়া, গঙ্গারামপুর, কাতিয়ানাংলা, ফুলতলা, মাইলমারা, তিতুখালী গ্রামের বিভিন্ন নারী পূরুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা এ পথেই যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে পারাপারের এক মাত্র বাঁশের সাঁকোটি ডুবে যায়। তখন দেবীতলা গ্রামের পার থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যাওয়া এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায়। এ পার থেকে ও পারে নৌকায় চড়ে বাজার করতে যেতে হয়। অনেক সময় ছাত্র ছাত্রীরা বই-খাতা নিয়ে সাঁকো থেকে পড়ে ভিজে বাড়ি ফিরে যায়। বয়ারভাঙ্গা বালিকা মহাবিদ্যালয়, রাসমোহন বালিকা বিদ্যালয়, বিশ্বম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বয়ারভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভাল হওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী এ স্কুল-কলেজে আসে। বদ্ধ এ নদীর উপর শত বছর ধরে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার হয়ে আসছে। পাকিস্তান আমলে যোগাযোগ মন্ত্রী খান এ সবুর বয়ারভাঙ্গা বিশ্বম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্রীজ নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি পরবর্তীতেও কোন জনপ্রতিনিধির চোখে পড়েনি। বিশ্বম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাঞ্চিলাল মল্লিক জানান, কয়েক শত ছাত্রছাত্রী এ বাঁশের চাঁর (সাঁকো) পার হয়ে স্কুলে আসে। অনেক সময় চাঁর থেকে পড়ে ভিজে বাড়ি ফিরে যায়। প্রধান শিক্ষক দাবী করেন, ব্রীজ নির্মাণ না হলেও একটি কাঠের সাঁকো তৈরী হলে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদে স্কুলে যাতায়াতের সুযোগ হবে। স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের দাবী, দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ হলে শত বছরের অভীষাপ থেকে মুক্তি তারা মুক্তি পাবে। তবে স্থানীয়রা বলছেন ব্রিজের নীচে শ্লোভের জায়গা না থাকায় নির্মাণ কাজ ব্যহত হচ্ছে।