পাইকগাছায় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ি বাঁধ নির্মাণ

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছার সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান আবারো সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দেলুটি ইউপির গেওয়াবুনিয়া এলাকায় ঘুর্ণিঝড় আম্পানে লন্ড-ভন্ড হয়ে যাওয়া প্রায় অর্ধকিলোমিটার বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করলেন। হাসি ফোটালেন এলাকার হাজার হাজার মানুষের। আনন্দে কেঁদে দিলেন অত্র ইউপি চেয়ারম্যান। সংবাদ পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন।
সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ মে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে দেলুটি ইউনিয়নের ২০ ও ২২নং পোল্ডার লন্ড-ভন্ড হয়ে যায়। বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ঘর-বাড়ী, ফসলাদি নষ্ট করে দেয়। ২২নং পোল্ডার দেলুটি ইউপির ৯টি গ্রাম বেষ্টিত একটি ‘ব’ দ্বীপ। দ্বীপের কালিনগর নামক স্থানে ভাঙ্গন সৃষ্টি হলে এলাকা প্লাবিত হয়। ঘর-বাড়ি, গবাদি পশু ও কোটি কোটি টাকার ফসলাদি নষ্ট হয়ে যায়। এলাকাবাসী দুই-দুইবার বাঁধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এমন সময়ে পার্শ্ববর্তী সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হক এলাকার মানুষের দুঃখ-দূর্দশা ও মানবেতর জীবন যাপন সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজেই উদ্যোগ উক্ত বাঁধ মেরামতের। গত ২৬ মে নিজ ইউনিয়ন হতে লোকজন নিয়ে বাঁধটি মেরামত করে দেন। তখনই একই ইউনিয়নের ২০নং পোল্ডারের পানিবন্দি লোকজনসহ ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডলের অনুরোধে বৃহস্পতিবার সকালে সোলাদানা ইউনিয়ন হতে ৬-৭শ লোকজন নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে গেওয়াবুনিয়া-মধুখালীর প্রায় অর্ধকিলোমিটার ভাঙ্গন কবলিত বেড়ি বাঁধের কাজ শুরু করেন। বিকাল ৩টা পর্যন্ত তিনি নিজে নেতৃত্ব দিয়ে ও দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করেন। বাঁধের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অত্র এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষ চোখের পানি ফেলে উলুধ্বনির মাধ্যমে সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হককে ধন্যবাদ জানান। একই জায়গায় দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল বক্তব্য দিতে যেয়ে কেঁদে ফেলেন এবং স্নেহেস্পদ ছোট ভাই সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হকের ঋণ কখনও শোধ করতে পারবেন না বলে ব্যক্ত করেন। এ ঘটনা উপজেলা পরিষদে পৌছালে বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কাজ শেষে এনামুল নিজ হাতে শ্রমিকদের হাতে খাবার তুলে দেন। এছাড়া অত্র এলাকার পানিবন্দি ওয়াপদায় বসবাসরত লোকদের মাঝে খাদ্য বিতরন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য সুকুমার কবিরাজ, প্রীতিলতা রায়, সুকৃতি মন্ডল, মঙ্গল সরকার, দ্বিজেন্দ্রনাথ মন্ডল, আবুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, বিল্লাল হোসেন, কাইয়ুম হোসেন, কল্লোল মন্ডল প্রমুখ।

প্রেরক

দাকোপ ও পাইকগাছায় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

খুলনা অফিস : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক আজ (শুক্রবার) সারাদিন ঘূর্ণিঝড় আম্পানে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ ও পাইকগাছায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের ৪৭ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ১২শ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। শীঘ্রই তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও একনেক সভায় অনুমোদন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাঁধ নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে, এক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় জনসাধারণকে জমি দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান ।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বেড়িবাঁধের পাশে যেন চিংড়ির ঘের করা না হয়। সেজন্য মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। সিডর, আইলা ও আম্পানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমিয়ে আনতে নদী, খাল ও বেড়িবাঁধের পাশে বেশি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।

এসময় জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাবিবুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী রফিক উল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমান, খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও  উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।

ঝালকাঠিতে কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণের পর মুক্তিপন দাবি : নারীসহ গ্রেফতার ৬

মো: নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় এক কলেজছাত্রীকে একদল বখাটেরা আটকে রেখে ধর্ষণের পরে অভিভাবকদের কাছে মুক্তিপন দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভির রাতে কাঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের মাঝেরপুল এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত দুই নারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রাতেই নির্যাতনের শিকার মেয়েটি বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে কাঁঠালিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। শুক্রবার দুপুরে তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেন। মেয়েটি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযোগ সুত্রে ও পুলিশ জানায়, মেয়েটির সাথে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রিমন হাওলাদার তানভীরের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পরে প্রেমের সর্ম্পক হয়। গত ২৬ মে তানভীর তার বন্ধু রায়হানকে নিয়ে নাজিরপুরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যায়। ওই দিনই মোটরসাইকেলযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়ার পথে কাঁঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের মাঝেরপুল এলাকায় বখাটে রিপন জমাদ্দার, আফজাল ও রাকিবসহ কয়েকজন যুবক তাদের আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইলফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে ওই ছাত্রীকে পাশের একটি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে তারা।

তাদের তিনজনকে স্থানীয় হোসনেয়ারা বেগমের ঘরে তিন দিনধরে আলাদা আলাদা কক্ষে আটকে রেখে অভিভাবকদের কাছে ৫০ হাজার টাকা করে মোবাইল ফোনে মুক্তিপন দাবি করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তানভীরের অভিভাবক বৃহস্পতিবার রাতে মুক্তিপনের ৩০ হাজার টাকা বখাটেদের হাতে তুলে দেয়ার সময় স্থানীয় জনতার সহায়তায় কাঁঠালিয়া থানার পুলিশ বখাটে রিপন জমাদ্দারকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী হোসনেয়ারা বেগম, তার মেয়ে, বখাটে আক্কাস, বেল্লাল ও রাকিবকে আটক করে।

এ ব্যাপারে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ কলেজছাত্রী, তার প্রেমিক তানভীর ও বন্ধু রায়হানকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।

মোংলায় সিরিয়াল র‌্যাপিস্ট’ টুটুল গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস

মোংলা প্রতিনিধি : সংখ্যালঘু পরিবারের কলেজ ছাত্রীকে ব্লাকমেইল করে দিনের পর দিন ধর্ষণ করার মামলায় মোংলায় ধুরন্ধর এক যুবককে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মাসুদুর রহমান টুটুল (৩২) নামের ওই যুবককে বুধবার দুপুরে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণ মামলায় শহরের মামার ঘাট থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টুটুল একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতার হওয়া যুবককে একজন সিরিয়াল প্রেমিক র‌্যাপিস্ট বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ। গ্রেফতার যুবক চাঁদপাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যার শেখ মোস্তাফিজুর রহমান ও বর্তমান ইউপি সদস্য মাহফুজা রহমান আপিয়া দম্পত্তির বড় ছেলে। এছাড়া প্রতারনার মাধ্যমে বিভিন্ন নামীদামী টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার নাম ভাঙ্গিয়ে একটি গ্রুপ তৈরী করে চাদঁবাজীসহ অনেক অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল টুটুল। সে উপজেলার দক্ষিণ কাইনমারী এলাকায় বসবাস করতো। এদিকে সিরিয়াল প্রেমিক র‌্যাপিস্ট ধুরন্ধর যুবক টুটুল পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এলাকাবাসী। এ ধর্ষণের ঘটনা ছাড়াও প্রভাবশালী পরিবারের বখাটে ছেলে এক সন্তানের পিতা টুটুলের বিরুদ্ধে একাধিক নারী ক্লেংকারী, র‌্যাব ও সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মোংলা সরকারী কলেজ একাদশ শ্রেণিতে পড়–য়া শহরতলীর নারকেলতলা এলাকার এক সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীর সাথে গত ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টুটুলের পরিচয় হয়। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারী শহরের পাওয়ার হাউস রোডের ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে আসে ধুরন্ধর মাসুদুর রহমান টুটুল। এরপর কৌশলে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে মোবাইলে তার ভিডিও ধারণ করে সে। ওই শিক্ষার্থীর জবানবন্দী অনুযায়ী পুলিশ আরো জানায়, টুটুলের মোবাইলে ধারণকৃত সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে চলতি মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ১৮ বার ধর্ষণ করে। শেষমেষ উপায়ন্তু না পেয়ে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এরপর তার পরিবার বিষয়টি নিয়ে মোংলা থানা পুলিশের শরনাপন্ন হন। পরে ওই কিশোরী বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে টুটুলকে আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। টুটুল গ্রেফতার হওয়ার পর পরই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নির্যাতনের স্বিকার অনেকেই যোগাযোগ শুরু করে সংবাদকর্মীদের কাছে। বর্ননা দেন ৭১ টিভি, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরসহ কয়েকটি পত্রিকার পরিচয় দিয়ে গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষকে জিম্মিকরে চাঁদাবাজী হয়রানীসহ নানা অপকর্মের কাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকেই জানায়, প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার ছিল একটি সংঘবদ্ধ দল। এ গ্রুটপি বিভিন্ন টেলিভিশনের বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সরকারী দপ্তরসহ গ্রামাঞ্চলে নিরিহ মানুষদের জিম্মি করে হয়রানী ও মানুষিক নির্যাতন চালাতো। তবে মাসুদুর রহমান টুটুল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গিসাথীরা গাঢাকা দেয়। তারা অরো বলেন, এতোদিন যার সাথে সন্ত্রাসী, চাদাবাজী ও মানুষদের হয়রানী করে আসছিল, সেই সকল সঙ্গিরা একবার দেখতেও যায়নী থানা বা কারাগরে। তবে টুটুলের সঙ্গিদেও ভয়ে নিরাপত্তায় হিনতায় দিন যাপন করছে ধর্ষনের স্বিকার অসহায় এ পরিবারটি। পুলিশের পক্ষ থেকে আরো জানায়, গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে অনেক অজানা কাহিনী বেড়িয়ে আসছে টুটুলের। তার ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে আরো ৭ থেকে ৮টি মেয়ের সাথে তার মেলামেশার নগ্ন ভিডিও পাওয়া গেছে। সে একজন সিরিয়াল র‌্যাপিস্ট বলেও মন্তব্য করে পুলিশ। টুটুলকে এ ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে আনা হবে বলেও জানান ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী।
ধর্ষিতার পরিবার জানায়, এক সন্তানের পিতা টুটুল প্রেম করে তার অফিসে এনে আরো অনেক মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। সাংবাদিক পরিচয় দিতো টুটুল, জীবন বাচানো আর লোক লজ্জার ভয়ে কিছু বলতো না তারা। ভয়ে অভিযোগ দিতেও রাজি ছিল না। ###

সুন্দরবনের করমজলে এবার ৫২টি ডিম দিয়েছে জুলিয়েট

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে এবার জুলিয়েট ৫২টি ডিম দিয়েছে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রের কুমির প্রকল্পের পুকুর পাড়ে এ ডিম দেয় কুমির জুলিয়েট। এবার নিয়ে জুলিয়েট ডিম দিয়েছে মোট ১৫ বার। এর আগে গত বছর জুলিয়েট ডিম দিয়েছিল ৪৪টি।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজাদ কবির জানান, শুক্রবার সকালে প্রকল্পের পুকুর পাড়ে দেয়া জুলিয়েটের ৫২টি ডিম সংগ্রহ করে তার মধ্য থেকে ১৪ টি ডিম বাচ্চা ফুটানোর জন্য জুলিয়েটের বাসায়, ২৬টি পুরাতন ইনকিউবেটরে আর ১২টি নতুন ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। আগামী ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এ ডিমগুলো থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে।
আজাদ কবির আরো জানান, করমজলের কুমির প্রজনন কেন্দ্রে বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে মোট ১৯৫ টি কুমির রয়েছে। এরমধ্যে জুলিয়েট ও পিলপিল নামের দুইটি নারী কুমির এবং রোমিও নামে একটি পুরুষ কুমির দিয়ে করমজলে কুমিরের প্রজনন কার্যক্রম চলছে।
মুলত বিলুপ্ত প্রায় লবণ পানির প্রজাতির কুমিরের প্রজনন ও বংশ বিস্তারের লক্ষ্যেই ২০০০ সালে করমজলে এই কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি চালু হয়। এ প্রজনন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক ৯৭টি কুমির সুন্দরবনের নদ-নদীতে অবমুক্ত করেছে বনবিভাগ।

দুর্ভোগ ছাপিয়ে আলোচনায় ঈদের নামাজ 

ইমতিয়াজ উদ্দিনঃ  সুপার সাইক্লোন আম্ফানের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রা। বিধ্বস্ত হয়েছে বিপুল সংখ্যক ঘরবাড়ি। বিশেষ করে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে নোনাপানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে কয়রা উপজেলার ৮০ ভাগ এলাকা। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে তো নিজেদেরকেই প্লাবনের হাত থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে হবে। তাই ঝড়ের পরদিন সকাল থেকেই  এলাকার মানুষ সেচ্ছাশ্রমেই শুরু করেছে বাঁধ সংষ্কারের কাজ। এমনকি ঈদের দিনেও ভোর থেকে সাত হাজারের বেশি মানুষ মিলে স্বেচ্ছায় বাঁধ রক্ষার কাজ করেছেন। তবে কয়রার মানুষের এই দুর্ভোগ দুর্দশা ছাপিয়ে আলোচনার ঝড় শুরু হয়েছে ঈদের নামাজ আদায় নিয়ে।
ঈদের দিন কয়রা উপজেলা সদরের দুই নম্বর কয়রা গ্রামের একটি অংশের মানুষ বিলের মধ্যে জোয়ারের পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃস্টি করে। তবে একটি পক্ষ এটিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। আর এতেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে কয়রাবাসীর মধ্যে।
পানিতে দাঁড়িয়ে ওই ঈদের জামাতের ইমামতি করেন খুলনা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও কয়রা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দিন। আর এটাকেই ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন সরকারি দলের একাংশের নেতারা। তবে সাধারণ মানুষ বলছেন, তমিজ উদ্দিন এলাকার প্রবীন একজন আলেম। এলাকার কেউ মারা গেলে নামাজের জানাযা তিনিই পড়ান। তাঁর পেছনে এ-র আগে একাধিক বার নামাজ পড়তে দেখা গেছে সমালোচনাকারী নেতাদের। এলাকাবাসীর দাবি, তমিজ উদ্দিন জামাত নেতা হিসেবে নয়, একজন প্রবীণ আলেম হিসেবে তার পেছনে সবাই সেদিন ঈদের নামাজ পড়িয়েছিলেন। আর জামাতে অংশ নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। অন্য সময় তাঁকে নিয়ে কথা না উঠলেও এখন কেন উঠছে তা বুঝতে পারছেন না কয়রাবাসী।
তাঁরা দাবি করেন, কয়রার মানুষ আম্পানের পর কয়রার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানে। এ কারণে ওই ঘটনাকে তাঁরা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন। আর যারা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা কেউ কয়রার মানুষ নয়, কয়রার মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার ঘটনাও তাঁদের অজানা।
পানিতে নামাজ আদায়কে যে দুই জনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে তাঁদের একজন  হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তিনি। বিদ্রোহী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম মহসিন রেজার বিপক্ষে উপজেলা নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এ কারণে মহসিন রেজা ও তাঁর কয়েকজন অনুসারি জামাত-বিএনপির তকমা দিয়ে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহসিন রেজা বলেন, বাঁধ মেরামত বা সংস্কার নিয়ে কয়রাবাসীর কারোর মধ্যেই কোনো দ্বিধা নেই। তবে সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে ওইদিন পরিকল্পিতভাবেই সরকারকে বিব্রত করার জন্য পানিতে নামাজ আদায় করা হয়েছে। জামায়াত নেতা তমিজ উদ্দিন অন্যদিন বাঁধ নির্মাণের কাজে না গেলেও ওইদিন কেন গেলেন বা কেন পানির মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া জামাতে তিনি ইমামতি করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
ওই দিন ওই এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া মোট তিনটি ঈদের জামাতের দুটি অনুষ্ঠিত হয় বাঁধের ওপর। যার একটির ইমামতি করেন সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগেও দুই একদিন তমিজ উদ্দিনকে স্বেচ্ছায় বাঁধ নির্মানের কাজ করতে দেখা গেছে। সেদিন তাঁর পেছনে নামাজ পড়েছিলেন আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ। নামাজের পর বাঁধের কাজ করার কথা থাকলেও সকাল থেকে মানুষ জড়ো হওয়ায় আগেই বাঁধের কাজ শুরু করা হয়।
কয়রা সদর থেকে সড়ক পথে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুই নম্বর কয়রা গ্রাম। কপোতাক্ষ নদের পাড়ে অবস্থিত ওই গ্রামটির ওপর পাড়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা। অপেক্ষাকৃত নিচু ভূমির গ্রামের একমাত্র রক্ষাকবচ নদীর ওই বাঁধ। গত ২০ মে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ওই বাঁধ মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রবল জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে যায় স্লুইচ গেট সংলগ্ন বাঁধের বড় একটি অংশ। মুহুর্তেই তলিয়ে যায় দুই নম্বর কয়রা গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলি। নদীর নোনা পানি চলে আসে উপজেলা সদরেও। পানির তোড়ে ভেঙে যায় সড়ক।
সড়কপথে ওই এলাকায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।
 দুই নম্বর কয়রা গ্রামের স্লুইচগেট সংলগ্ন বাঁধটির প্রায় ৮০০ ফুট কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ট্রলার যোগে ওই এলাকায় পৌঁছাতেই সেখানে জড়ো হন অর্ধশতাধিক উৎসুক মানুষ। নদীর পানিতে ঘর তলিয়ে যাওয়ায় বাঁধের ওপর বসে ছিলেন তাঁরা। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর যেন অভিযোগের খাতা খুলে বসেন। একের পর এক নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার বর্ণনা করতে থাকেন তাঁরা। সেখানে ছিলেন হিন্দু, মুসলমান, নারী-পুরুষ সবাই।
এদের একজন বিজয় কুমার মণ্ডল। ঠিক যে স্থানে বাঁধ ভেঙেছে তার পাশেই ছিল তাঁর ঘর। ঝড়ে ঘরটি ভেঙে পড়ার পর জোয়ারের পানিতে তা তলিয়ে যায়। ঘরের আসবাবপত্র গুলো কোনো মতে রক্ষা করতে পেরেছেন তিনি। সেগুলো রাখা হয়েছে ভালো থাকা বাঁধের ওপর। বিজয় কুমার বলেন, ২০ মে ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন এলাকায় রিং বাঁধ নির্মাণে ঝাপিয়ে পড়েন এলাকাবাসী। প্রতিদিন সকালে জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ার পর ভাটার সময় ওই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলতো। সকালে কখন থেকে কাজ শুরু হবে তা মসজিদের মাইকে প্রচার করা হতো। এমন পরিস্থিতিতে ঈদের দিনও কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়। আর ওইদিন কাজ না করলে জোয়ারের পানিতে বাঁধ দেওয়া অন্য অংশও বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বাঁধ নির্মাণের কাজ চলাকালে দুই একদিন তমিজ উদ্দিনকে সবার সঙ্গে কাজ করতে দেখা গেছে।
স্বেচ্ছাশ্রমে যারা কাজ করেছেন তাঁদের জন্য সেমাইয়ের ব্যবস্থা করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। আর দুপুরে খাওয়ার জন্য খেচুড়ির আয়োজন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ কারণে ১১ টার দিকে কাজ শেষ হলেও সেখান থেকে কেউ যেতে চাননি। তাই সেখানেই ঈদের নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত হয়।
কাজের শেষে একই সময়ে মোট তিনটি ঈদের জামাত হয়। এর একটি ভাঙা বাঁধের উত্তর পাড়ে, অন্যটি দক্ষিণ পাড়ে ও আরেকটি জামাত হয় যেখানে এলাকাবাসী বাধ দিয়েছিলেন তাঁর পাশে জোয়ারের পানিতে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঁধের ওপর জামাত দুটির ইমামতি করেছিলেন কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও দুই নম্বর কয়রা গ্রামের মসজিদের ইমাম। আর ডাঙায় জায়গা না থাকায় পানিতে যে জামাতটি অনুষ্ঠিত হয় সেটির ইমামতি করেন তমিজ উদ্দিন। বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে সবাই তাঁকে ইমামতি করার জন্য এগিয়ে দেন।
পানিতে ঈদের ওই জামাতে ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান। গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া উপনির্বাচনে সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঝড়ের পরদিন থেকেই এলাকার হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজে লেগে পড়েন। ওই কাজে অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ। সময় না থাকায় সেখানে একই সঙ্গে তিনটি জামাতের সিদ্ধান্ত হয়। দুটি জামাত স্বল্প সংখ্যক মানুষকে নিয়ে বাঁধের ওপর হলেও জায়গা না থাকায় তৃতীয় জামাতটি হয় নির্মাণ করা বাঁধের পাশে জোয়ারের পানিতে দাঁড়িয়ে। তিনটি জামাতের সবগুলোর ছবিসহ বাঁধের কাজ করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পানিতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার ছবি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। এখানে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, বরং কয়রার মানুষের নিত্যদিনের যে দুর্ভোগ তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান খোকন বলেন, তমিজ উদ্দিন এলাকায় জামায়াত নেতা হিসেবে নয় এলাকার প্রবীন ও আলেম মানুষ হিসেবে ওইদিন মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ইমামতি করেছেন। এটা নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতেছেন, তাঁরা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মুখে ফেনা তুলছেন, কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছেন। এটা কয়রার আম্পান বিধ্বস্ত মানুষের কাছে খুবই বিব্রতকর। কয়রার মানুষ কাছে লবণপানি থেকে মুক্তি হওয়াটাই মূখ্য বিষয়, রাজনীতি নয়।