খুলনা জাল সার্টিফিকেটর অভয়ারণ্য : টাকা দিলেই মেলে জাল সনদ

আবারও জালিয়াতির চক্রের দুই সদস্য আটক : সরঞ্জাম উদ্ধার

খুলনা অফিস : জাল সার্টিফিকেট. বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, ভোটার আইডি কার্ড, স্কুল-কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের জাল সার্টিফিকেট তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি এমবিবিএস কোর্সের সার্টিফিকেটও মিলছে অহরহ। নগরীতে যেন জাল সার্টিফিকেট অভয়ারণ্যে পরিণম হয়েছে।
র‌্যাব-৬ অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আটক করছেন। কিন্তু তাতেও থেমে নেই জাল সার্টিফিকেট তৈরির সিন্ডিকেট। প্রতিদিন আড়ালে আবডোলে চলছে অবৈধ এ রমরমা ব্যবসা। খুবই গোপনে বিভিন্ন কৌশল আর প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্র দিনের পর দিন অবৈধ এ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। রোববার ( ১০ অক্টোবর) র‌্যাব-৬ নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ কেসিসি সুপার মার্কেটে একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে জাল সনদ ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে আম্মেদ শরীফ (৩২) এবং জুবায়ের আহম্মেদ (২৬)। এ সময়ে প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর, ১টি কিবোর্ড, ১টি মাউস, ১টি স্কেনার, ১টি প্রিন্টার, ১টি ভিজিএ ক্যাবল, ১টি পাওয়ার ক্যাবল, ১টি মডেম ও ২টি মোবাইল উদ্ধার করে।
এর আগে র‌্যাব-৬ গত ৪ অক্টোবর নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন বয়রা বাজারস্থ প্রত্যাশা প্লাজার ২য় তলায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময়ে রনি ওয়ান লাইন সলিউশন এবং অয়ন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার নামক দুইটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জাল সনদ ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্যকে আটক করেছিলেন।
র‌্যাব-৬ জানায়, রোববার ( ১০ অক্টোবর) তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা সদর থানাধীন কেডি ঘোষ রোডস্থ কেসিসি সুপার মার্কেওে ১০৯নং দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময়ে জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্য আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছেন রূপসা উপজেলা মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত ওজিয়ার রহমানের পুত্র আহম্মেদ শরীফ এবং দক্ষিণ খাজাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মৃত আ: রাজ্জাক সরদারের পুত্র মো: জুবায়ের আহমেদ। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। র‌্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা জালিয়াতি করে নাগরিকদের সাথে প্রতারনা করে এবং বিভিন্ন মানুষকে এসব সনদের প্রলোভন দেখিয়ে সর্বশান্ত করার বিষয়টি স্বীকার করে।
র‌্যাব-৬ জানায়, ওই সব জালিয়াতি চক্রটি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সনদপত্র, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ভূয়া পরিচয়পত্র, জালকৃত জন্ম নিবন্ধন ইত্যাদি প্রস্তুত করে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও বিভিন্ন মেডিকেল সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স এবং বিভিন্ন প্রকার সনদপত্র তৈরী করে দেশের সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়। র‌্যাব-৬ এর একটি চৌকশ আভিযানিক দল উক্ত গ্রুপটির প্রতারনা মূলক কার্যক্রমের উপর নজরদারী বৃদ্ধি করে।
শফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম)। জাল সার্টিফিকেট দিয়ে দেড় বছর ধরে একটি বাস কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করছেন। এখন পর্যন্ত তার কোনো সমস্যা হয়নি। শুধু শফিকুল ইসলাম নয়, নগরীতে এরকম অনেক যুবকই জাল সার্টিফিকেটে চাকরি করছেন। নগরীর কেসিসি কেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র জাল সার্টিফিকেট তৈরিতে সহায়তা করছে। নানা কারণে সেটা জানা-বুঝার উপায় থাকে না চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের।
উল্লেখ্য, র‌্যাব -৬ গত ৪ অক্টোবর নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন বয়রা বাজারস্থ প্রত্যাশা প্লাজার ২য় তলায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময়ে রনি ওয়ান লাইন সলিউশন এবং অয়ন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার নামক দুইটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জাল সনদ ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্যকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে সোনাডাঙ্গা থানার বয়রা বাজার ১৬ নং ওয়ার্ডের মোঃ আব্দুর রহিম মোল্লার ছেলে ইয়াসিন হোসেন (২৮) এবং একই থানার বুড়ারবাড়ি সবুরের মোড় বয়রা বাজার সংলগ্ন এলাকার মৃত কালিপদ মন্ডলের ছেলে শীবপদ মন্ডল (৪৩)। তাদের কাছ থেকেও প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে খুলনা র‌্যাব-৬ এর পরিচালক লে: কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ (বিএসপি, পিএসসি) র‌্যাবের কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিং করেছিলৈন। র‌্যাব-৬ এর পরিচালক লে: কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ ওই সময় বলেন, ওই চক্রটি মুলহোতা এবং কারা কারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে খুজে বের করার জন্য র‌্যাবের গোয়েন্দাটিম মাঠে রয়েছেন।

আপনার মতামত জানানঃ