সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: খুলনায় জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি শেষে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে পাটকেলঘাটায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে জামায়াত নেতাকর্মীদের বহনকরা একটি বাস। রাস্তা পারাপারের সময় এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশে পুকুরে পড়ে যায়। এতে পথচারী আব্দুল খালেক (৬২) ঘটনাস্থানে নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় বাসে থাকা অর্ধশতাধিক জামায়াতসহ লংমার্চে অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন।
শনিবার রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটার কুমিরা বাজার মোড় সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, খুলনায় লংমার্চ কর্মসূচি শেষে সাতক্ষীরা গামী বাসটি (সিলেট-জ ১১-০৬৯০) পাটকেলঘাটার কুমরিা বাজার মোড় অতিক্রম করছিল। এ সময় হঠাৎ এক পথচারী রাস্তা পার হতে গেলে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন চালক। এতে বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান পথচারী আব্দুল খালেক। নিহত খালেক পাটকেলঘাটা থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। সে মানষিক ভারসামহীন ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে আটকা পড়েন লংমার্চে অংশ ফিওে আসা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। খবর পেয়ে ফায়ারসার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয়লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের অধিকাংশই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হোসেন, খুলনা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচী থেকে ফেরার পথে কুমিরা বাজার মোড়ের অদুরে এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ৫০ জনের অধিক যাত্রীসহ বাসটি পাশের পুকুরে পড়ে যায়। খবরপেয়ে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় লোকজনের সহায়াতায় বাসের ভিতর থেকে লোকজনকে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ আহত হয়েছে। তাদের দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসময় এক জন পথচারী নিহত হন। তার লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা করছিল ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামায়াত দলীয় সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ দলটির জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। তারা উদ্ধার কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।
সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক জানান, বাসটিতে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে অংশ নেওয়া আনুমানিক ৫১ থেকে ৬২ জন যাত্রী ছিলেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বাসের নিচে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা বাসটি পুকুর থেকে তোলার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে কাজ চলছিল। আহতদের চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি জামায়াতের নেতাকর্মীরাও সহযোগিতা করছেন।