নিউজ ডেস্ক : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় প্রবাস ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্ব অনেক আশার বানী শুনিয়েছিলো, এক কোটি কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করেছিলো, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছিলো। বিএনপি সরকার গঠনের পরে ছয়মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু তাদের দেয়া কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পাওয়ার ন্যূনতম লক্ষণও প্রকাশ পায় নাই। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়েছে। গত ছয়মাসে শুধু আরএমজি খাতেই বেকার হয়েছে ২০ হাজারের মতো মানুষ, প্রতিদিন গড়ে দশজন করে মানুষ খুন হচ্ছে, লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে, জ্বালানি সংকটে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সার্বিকভাবে সরকারের প্রথম ছয়মাস ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর’ ২৬), বিকাল ৪ টায় পাওয়ার হাউস মোড়স্থ দলীয় কার্যলয়ের সামনে সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ইং বাতিল, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল পূর্বক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান, তাদের ধর্মীয় বিধান পালনে সহায়তা করতে রাষ্ট্র বাধ্য। বর্তমান সরকারও কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন করবে না বলে বারংবার অঙ্গিকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয়মাস যেতে না যেতেই সরকার শরীয়াহ বিরোধী আইন পাশ করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর তীব্র নিন্দা করছে এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সাথে দাবি জানাচ্ছে যে, অবিলম্বে সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ইং এই আইন বাতিল করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর এর সভাপতি আলহাজ্ব মুফতী ইমরান হোসাইন এর সভাপতিত্বে ও নগর সেক্রেটারী মাওলানা মোঃ দীন ইসলাম ও জেলা সেক্রেটারী আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম এর পরিচালনায় বিক্ষোভ মিছিল পূর্বক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা পূর্ব সভাপতি এ কে এম রেজাউল করীম সরদার।
সভাপতির বক্তব্যে মুফতী ইমরান হোসাইন বলেন, মানুষ হত্যার পরে পুলিশ খুনিদের গ্রেফতার করলেও কোন বিচার হয় না। নিম্ন আদালতে বিচারের রায় ঘোষণা হলেও সেই রায় আর কার্যকর হয় না, আদালতের অন্দরে বিচার পথ হারায়। অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিলো, অপরাধ সংগঠনের আগেই পুলিশ সক্রিয় হবে, অপরাধ সংগঠনের আগেই অপরাধী নিস্ক্রিয় হবে। সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর করতে চূড়ান্ত ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
সরকারকে বলবো, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, লোডশেডিং কমান, জ্বালানি সংকট সমাধান করুন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে।