খুলনায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূর চুল কেটে নির্যাতন

প্রকাশঃ ২০২৬-০১-১৫ - ২১:০৯

ইউনিক ডেস্ক : ‎খুলনায় যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায়ে গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন পাবলা সাহাপাড়া রোডের খায়রুল ইসলামের ভাড়াবাড়িতে। গতকাল বুধবার দুপুরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দুই বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ পালিয়ে পিত্রালয়ে আশ্রয় নিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ইয়াবা ব্যবসার পুঁজি বাবদ পাঁচ লাখ টাকার দাবিতে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটায় মাদক বিক্রেতা ও সেবক স্বামী।
‎গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ লুবাবা জামান প্রমিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ফয়সাল আহমেদ দীপ পলাতক রয়েছেন। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রধরে খুলনার দৌলতপুর এলাকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে ফয়সাল আহমেদ দীপের সঙ্গে খালিশপুর উত্তর কাশিপুর এলাকার মরহুম মোঃ লিটনের কন্যা লুবাবা জামান প্রমির বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার বছর বয়সী এক কন্যা ও দুই বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
‎ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ফয়সাল আহমেদ দীপ দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত টানা নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের সময় গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং তাকে মারধর করা হয়।ভুক্তভোগীর মা নাসরিন শাবানা অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত ফয়সাল আহমেদ দীপ একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
‎এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্বজনরা।