আনোয়ারায় সী-ভিউ হোটেলে চলছে জমজমাট অসামাজিক কার্যকলাপ, ৬ জোড়া আটক

এম.এম.জাহিদ হাসান হৃদয়,আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতে সী-ভিউ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে কর্ণফুলি থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদের নেতৃত্ব এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আবাসিক হোটেলের নামে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার দায়ে হোটেলটি সিলগালা করা হয়।

আটককৃতরা হলো আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের নাজমুল ইসলাম ও সোনিয়া আক্তার, মালঘর এলাকার আরিফুল ইসলাম ও সাখি আক্তার, গুন্ধিপাড়া এলাকার মো. আজিজ ও রসনি আক্তার, বটতলী এলাকার মো. শাকিল ও তানিয়া আক্তার, চন্দনাইশ উপজেলার বরকল এলাকার মিজানুর রহমান ও সুনিয়া আক্তার এবং বাঁশখালী উপজেলার রবিউল আলম ও নাদিয়া আক্তার।
জানা যায় এরা পারকিতে বেড়াতে এসে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে বিশ্রামের জন্য কয়েক ঘণ্টার ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে।

অভিযান পরিচালনার বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ জানান, সৈকতে বেড়াতে আসার নাম করে তরুণ-তরুণীরা আবাসিক হোটেলটিতে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়েছিলো। স্থানীয়দের অভিযোগে হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে ১২ তরুণ-তরুণীকে আটক করে হোটেলটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে ৭০ হিন্দু ত্রিপুরা পরিবারকে ‘সরাতে’ মরিয়া আবুল খায়ের গ্রুপ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আবুল খায়ের গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়ার হিন্দু ত্রিপুরা ৭০ পরিবারকে রাইফেলের

নল ঠেকিয়ে নিজদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে৷ তাদের জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা দিচ্ছে এই শিল্প গ্রুপ। বসতি হারানোর ভয়ে দিশেহারা অসহায় দরিদ্র এই জনগোষ্ঠী।

জানা গেছে, সীতাকুণ্ড ত্রিপুরা পাড়ার ৭০টি দরিদ্র ত্রিপুরা হিন্দু পরিবারের বসবাস৷ তাদের বসতি থেকে ১ কিলোমিটার দূরে আবুল খায়ের গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের বিশাল কারখানা। আবুল খায়ের গ্রুপ জায়গাটি তাদের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরা গোষ্ঠীকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। বছর তিনেক আগে থেকে ত্রিপুরাদের জায়গায় আবুল খায়ের গ্রুপের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সীমানা বেড়া নির্মাণ করতে গেলে সে সময়েও ত্রিপুরাদের সাথে ঝামেলা বাঁধে। সে সময় ঝামেলা মিটে গেলেও আবারো ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীকে ঘর নির্মাণে বাধা ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদে মরিয়া হয়ে উঠে।

শুক্রবার (১৪ মে) আবারো ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীরদের উচ্ছেদ করে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে আবুল খায়ের গ্রুপ৷ তাদের বসতির উপর দিয়ে কাঁটা তারের বেড়া দিতে এলে ত্রিপুরারা তাতে বাধা দেন৷ এসময় কারখানাটির সশস্ত্র সিকিউরিটি বাহিনী আনসার ও স্থানীয় কতিপয় লোকজন মিলে অস্ত্র ঠেকিয়ে অসহায় ত্রিপুরাদের বসতি থেকে সরে না গেলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ত্রিপুরা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
‘হিন্দু ত্রিপুরাদের কান্না’—রাইফেল ঠেকিয়ে ৭০ পরিবারকে ‘সরাতে’ মরিয়া আবুল খায়ের গ্রুপ 1
এ ব্যাপারে আবুল খায়ের গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার (এডমিন) মোহাম্মদ ইমরুল কাদের ভূইয়া বলেন, ত্রিপুরা পল্লীর ১ কিলোমিটার উত্তরে আবুল খায়ের গ্রুপের জায়গায় এসে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ঘর নির্মাণ করছিল। ঈদের ছুটির সুযোগে এ কাজটি তারা করেছিল। এটি কোন উচ্ছেদ নয়, এটি আবুল খায়ের গ্রুপের জায়গা। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমাদের জমির সকল কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কাগজের উপর ভিত্তি করে তিন দিনের মধ্যে তিনি একটি সমাধান দেবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আবুল খায়েরের মত বড় শিল্প গ্রুপ কারও জমি দখল করবে এমনটি ভাবা ঠিক নয়। কিছু ব্যক্তি এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।

ত্রিপুরা এলাকার দ্বিতীয় কারবারি কাঞ্চন ত্রিপুরা বলেন, আবুল খায়ের গ্রুপ আমাদের জায়গায় ঘর নির্মাণে বাধা দিচ্ছে। আমরা প্রাণ ভয়ে আছি। কয়েক বছর আগে ইউএনও স্যার আমাদের জঙ্গল সলিপুরে বস্তি এলাকায় একটি জায়গায় চলে যাওয়ার জন্য বলেছিল। জায়গাটি আমাদের পছন্দ হয়নি বলে যাইনি। আমরা আমাদের পুর্বপুরুষের ভিটা ছেড়ে যেতে চাইনা। আমরা পাহাড়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

তবে উচ্ছেদ মানতে রাজি নয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায়। তাঁর মতে এটাকে উচ্ছেদ বলা যাবে না। কারণ আবুল খায়েরের দাবি করা জায়গাটিতে কোন ত্রিপুরা বসতি নেই। ত্রিপুরা বসতির পাশের একটি খোলা জায়গা। আমরা জায়গাটি মাপজোপ করে তারপর বলতে পারবো আসলে জায়গাটি কার। আমরা উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলেছি। এর আগে এ জায়গায় ভুমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের সময় আবুল খায়ের গ্রুপ জায়গাটি তাদের দাবি করে ঘর নির্মাণে বাধা দিয়েছিল।

ফুলতলায় নারকেল গাছ চাপা পড়ে কাঠুরিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ নারকেল গাছ কাটতে গিয়ে গাছের নিচের চাপা পড়ে আজিবর সরদার (৫৫) নামে এক দিনমজুর কাঠুরিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলতলার জামিরা ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামে। তিনি পাশর্^বর্তী ডাউকোনা গ্রামের মৃতঃ আব্দুল গণি সরদারের পুত্র। এলাকাবাসী জানায়, ছাতিয়ানী গ্রামের মৃতঃ কেরামত খাঁর পুত্র বিল্লাল খাঁ তার বাগানের বৈদ্যুতিক তারের পাশের একটা নারকেল গাছ কাটার জন্য আজিবর সরদারকে দিনমজুর হিসাবে কাজে নেয়। কাটার একপর্যায়ে কাঠুরিয়া আজিবর সরদার গাছটি নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

সরকারি প্রণোদনায় ভাগ বসাতে মাছ চাষীর উপর ইয়াবা ব্যবসায়ীর হামলা

এম.এম.জাহিদ হাসান হৃদয়,(আনোয়ারা,চট্টগ্রাম): ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকায় পদ হারালেও ক্ষমতার দাপট হারায়নি, বিভিন্ন উপায়ে নিরীহের রক্ত চুষাই যার কাজ। বলছিলাম চট্টগ্রাম আনোয়ারা উপজেলার ৮নং চাতরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশীষ নাথের কথা। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া সরকারি প্রণোদনায় ভাগ বসাতে তপন নাথ নামের এক নিরীহ মাছ ব্যবসায়ীর উপর তিন দফায় হামলা করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এই নিয়ে গত ১৫ মে আনোয়ারা থানায় অভিযুক্ত আশীষ নাথের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৮নং চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামের নাথ পাড়া এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী তপন নাথ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিংহরা গ্রামের তপন নাথ পেশায় একজন পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান এবং পাশাপাশি একজন মাছ চাষী। চলতি বছর তার মোবাইলে সরকারি প্রণোদনার ১০ হাজার ২০০ টাকা অনুদান আসে। স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ী আশীষ নাথ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুচ্ছফার নাম ভাঙ্গিয়ে সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা দাবী করে। স্থানীয় এক ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতার মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে নেয়।
পরে বাকী আড়াই হাজার টাকা দিতে অস্বীকার করলে মাদক সেবী আশীষ নাথ একে একে তিনবার তপন নাথের উপর হামলা চালায়।

জানা যায়, আশীষ নাথ আগে চাতরী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ইয়াবা সেবন ও মাদক ব্যবসা করার অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ী আশীষের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অপরাধের একগাদা অভিযোগ।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী তপন নাথ বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুচ্ছফার কথা বলে আশীষ নাথ ও ওয়ার্ড আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিলে আমার থেকে প্রণোদনার অর্থ থেকে ৫হাজার টাকা দাবী করে। পরে তাদের জোরাজোরিতে স্থানীয় মেম্বার লঘুনাথ সরকারের মধ্যস্থতায় আড়াই হাজার টাকা দিই। পরে আবার টাকা দাবী করলে বিষয়টি আমি ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সভাপতির কাছে অভিযোগ করি। অভিযোগ করার সূত্র ধরে আশীষ নাথ ও ফিরোজকে আমার টাকা ফিরিয়ে দিতে বলে।
পরে আশীষ নাথ অভিযোগ করায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি,লাথি মেরে জখম করে। এসময় আমার সদ্য অপারেশন করা বাম চোখ মারাত্বক আঘাত প্রাপ্ত হই।
ভূক্তভোগী তপন নাথ আরো বলেন, সরকারি মৎস্য অফিসের মাধ্যমে আমার বিকাশ নাম্বারে ১০ হাজার প্রণোদনার টাকা আসে। সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করে ইয়াবা ব্যবসায়ী আশীষ নাথ। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতার মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ২৫০০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। আরো ২৫০০ টাকা না দেয়ায় আমাকে মারধর করে আহত করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে চাতরী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুচ্ছফা বলেন, এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে এই নিয়ে থানায় অভিযোগও হয়েছে। বিষয়টি আমি তদন্ত অফিসারের সাথে কথা বলেছি। তিনি সেটি সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ওসি (তদন্ত) সৈয়দ ওমর বলেন, এ ধরণের একটি অভিযোগ পেয়েছি। এই বিষয়ে অগ্রগতি জানতে তিনি অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

অভিযোগের অগ্রগতির বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, এই ধরণের একটা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি এখনো তদন্তধীন রয়েছে।