ডুমুরিয়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : প্রথম আলো’র জেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ওপর নির্যাতন ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সারাদেশের ন্যায় খুলনার ডুমুরিয়ায় মানব বন্ধন কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সামনে ১ঘন্টা ব্যাপি এ কর্মসুচীতে অংশ গ্রহন করেন ভোরের কাগজের শেখ মাহতাব হোসেন, দৈনিক সংবাদের উদয় চক্রবর্ত্তী, গ্রামের কাগজের সাব্বির খান ডালিম, আমার সংবাদের অরুণ দেবনাথ, সময়ের খবরের শেখ সিরাজুল ইসলাম, পূর্বাঞ্চলের জাহিদুর রহমান বিপ্লব, খুলনাঞ্চলের এস রফিক, আমাদের সময় ও দৈনিক প্রবাহের সুজিত মল্লিক, সময়ের খবরের মাহবুবুর রহমান, রাজপথের দাবির খান মহিদুল ইসলাম, সংযোগ বাংলাদেশের গাজী মাসুম, দৈনিক খুলনার গাজী নাছিম, সংযোগ বাংলাদেশের আরিফুজ্জামান নয়ন ও উত্তম কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।

ইভ্যালি কি কি প্রযুক্তি ব্যবহার করে?

তথ্য প্রযুক্তিঃ- আপনার জানা আছে কি #ইভ্যালি কি কি সিস্টেম ব্যবহার করে? না জানা থাকলে আপনার জানা উচিত। কারণ এগুলো না জানা থাকলে হয়তো আপনি এর মতো সাইট বানাতে গিয়ে প্রথম যে বিপাকে পরবেন সেটি হলো বাজেট। অনেকে নানান ধরনের অফার দেখে হাসিয়ে লাফিয়ে উৎফুল্ল হয়ে মাঠে নেমে, বাজেটের কাছে এসে হোচট খেয়ে যায়। এই মাল্টিভেন্ডর সাইটের পেছনের কিছু তথ্য নিয়ে আমার আজকের লেখা।
শুরুতেই আপনি যদি মনে করেন যে এগুলো সব ওয়ার্ডপ্রেস আর সাথে হাইপ্রোফাইল কিছু প্লাগিন দিয়ে করা সম্ভব তাহলে, আপনার জন্য এখন একটু চায়ের বিরতি। ফিরে আসলে আপনার সাথে আবার আলোচনা হবে।

যাই হোক, এখনো যারা পড়ছেন তাদের জন্য বলছি, ইভ্যালি বর্তমান সময়ে অনেক আলোচিত একটি ইকমার্স। আমার ধারণা মতে, ইভ্যালি এর প্রযুক্তির জন্য যতোটা না আলোচিত তার থেকে বেশী সমালোচিত এর সার্ভিসের জন্য। যাই হোক আজ সার্ভিস নয়, প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। আমার ছোট্ট একটি এ্যানালাইসিস ইভ্যালির প্রযুক্তিগত কিছু দিক আমার সামনে নিয়ে এসেছে।

ব্যাকেন্ডঃ নোড/গো/পাইথনের মতো ফ্রেমওয়ার্কে করা।
ফ্রন্টেন্ডঃ এ্যাঙ্গুলার জেএস(Angular JS), নেক্সট জেএস(Next.js) (রিয়্যাক্ট [React] ফ্রেমওয়ার্ক) ব্যবহার করা হয়েছে।

আর সার্ভার হিসেবে এনজিআইএনএক্স(nginx) এর সার্ভার ব্যবহার করা হয়েছে। ডাটাবেজ হিসেবে বহুল পরিচিত মাইএসকিউএল(#mysql) ব্যবহার করা হয়েছে। আর এ সকল ফিচার এই সাইটটিকে দুর্দান্ত একটি পারফর্মেন্স দিয়েছে। আসলে একটি হাইব্রিড সাইট, এখানে অনেক ফিচার ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন মডিউলের জন্য।

এর দুর্দান্ত গতির পেছনে অনেক বড় অবদান রাখছে এর আর্কিটেকচার। AWS এর সিঙ্গাপুরের ক্লাউড সার্ভার এই আর্কিটেকচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মিডিয়া বা ছবি রাখার জন্য ইভ্যালি AWS S3 বাকেট ব্যবহার করে। আর এই বাকেটের সুবিধা হলো এখানে শুধু ছবি বা ভিডিও বা ফাইল রাখা যায়। এখানে আলাদা CDN সার্ভিস আছে যা দ্রুত ফাইল এ্যাকসেসের সুবিধা দেয়।

সার্ভারের সাথে ডোমেইন কানেক্ট করার জন্য AWS Route 53 এন্টারপ্রাইজ ডিএনএস(DNS) ব্যবহার করা হয়েছে। এই ডিএনএস অনেকটা রাস্তার মতো কাজ করে। ধরুন আপনার ডোমেইন যদি একটি আইপিতে কানেক্ট থাকে তাহলে তা একটি রাস্তা হবে। সমস্ত ভিজিটর এই একটি রাস্তা থেকে আসা-যাওয়া করবে। আর এন্টারপ্রাইজ ডিএনএস এখানে ভিড়ের ভিত্তিতে নতুন রাস্তা উন্মুক্ত করতে সাহায্য করে যাতে ওভারলোড না হয়। অনেকটা বিকল্প পথের মতো।

এছাড়াও আছে এসএসএল(ssl) আর গুগুল মেইলের মতো বিজনেস ইমেইল সার্ভিস।

এবার যাদের চা খেতে বলেছিলাম, তাদের জন্য বলছি। ইভ্যালি যে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেননি তা না। ইভ্যালি তাদের সাইক্লোন সাব-ডোমেইনের ওয়েবসাইট সেকশনটি ওয়ার্ডপ্রেসে করেছে। তবে এখানেও তারা একটু বিশেষত্ব নিয়ে এসেছে। ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে তারা #Gatsby JS ব্যবহার করে এর পারফর্মেন্সের দিক থেকে একে করেছে আরো দ্রুতগতি সম্পন্ন একটি সেকশন।

তাই আপনি কি চাচ্ছেন, তার উপরে নির্ভর করেবে আপনার বাজেট। তাই হোচট খাওয়ার আগে আলোচনা করুন। আর আপনার যদি বাজেট সীমিত হয় তাহলে এই আলোচনা আপনাকে দেখাতে পারে নতুন কোন পথ। অহেতুক অফার দেখে নতুন কারো সাথে সেই বাজেট বা সার্ভিস নিয়ে তর্কে জড়াবেন না। যার যার সার্ভিস, তার তার কাছে। তাই কিছু করার আগে ভাবুন বা কারো সহযোগীতা নিন।

– সাইদুর রহমান (mrahmansayed.com) ফেসবুক fb.com/ItsOnlySayed

বটিয়াঘাটায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশু খাদ্য বিতরন

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেছেন, করোনাকালীন সময়ে লকডাউন চলায় অসহায় দুঃস্হ মানুষের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাঁরা সংসার চালিয়ে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য কিনে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রধানমণ্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সকল পরিবারের কথা চিন্তা করে খাদ্য উপকরন সহায়তার পাশাপাশি শিশু খাদ্যও বিতরন করছেন। তিনি বুধবার বটিয়াঘাটার সুরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে করোনাকালীন লকডাউনে বেকার, দুঃস্হ অসহায় পরিবারের শিশুদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশু খাদ্য বিতরন কালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিতরনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান,স্হানীয় সরকার বিভাগের উপ- পরিচালক ইকবাল হোসেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(এলএ) মোঃ মারুফুল আলম,সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল হাই সিদ্দিকী।অন্যান্যের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (গোপনীয়) ফয়সাল আহম্মেদ,থানার ওসি রবিউল কবীর,উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ,সাধারন সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, ইউপি চেয়ারম্যান যথাক্রমে মনোরন্জন মন্ডল,আঃ হাদী সরদার,শেখ হাদীউজ্জামান হাদী,বিআরডিবির চেয়ারম্যান এস এম ফরিদ রানা,সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান, ইউপি সদস্য বিএম মাসুদ রানা,সাকির সরদার,বিউটি মন্ডল, স্বপ্না রানী, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল করিম,সার্ভেয়ার মাহামুদুল হাসান সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরবর্তীতে তিনি পার্শ্ববর্তী রায়পুর এলাকায় ছিন্নমূল অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত নির্মাণাধীন ঘর পরিদর্শন করেন।

বটিয়াঘাটায় কর্মহীনদের মধ্যে জেএমআই গ্রুপের খাদ্য বিতরণ

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাবুব হাসান বলেছেন, যারা টিকা নিয়েছেন এবং সর্বক্ষণ মুখে মাস্ক ব্যবহার করেন তাঁরা সত্তর ভাগ সুরক্ষার মধ্যে আছেন। কোন প্রকার গুজবে কান না দিয়ে টিকা গ্রহণ,সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বৈশ্বিক এই ক্রান্তিকালের লকডাউনে সমাজের অসহায় মানুষের সংসারিক কষ্টের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী উপহার স্বরুপ খাদ্য সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। এই দুঃসময়ে জে, এম,আই এলপিজি ও পেট্রলিয়াম লিমিটেডের এমডি আব্দুর রাজ্জাককে ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দুঃস্হ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে তা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটা অনুকরন করে সমাজের বিত্তবানদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বুধবার বেলা ১টায় জেএমআই গ্রুপের পক্ষ থেকে বটিয়াঘাটায় দুস্থ, অসহায় ও করোনায় কর্মহীন ২শত ৫০ জনের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কালে এ কথা বলেন। জেএমআই এলপিজি ও পেট্রোলিয়াম বটিয়াঘাটা প্লান্টের এজিএম (প্লান্ট ইনচার্জ) মোঃ জসিম উদ্দিন সায়েম এর সভাপতিত্বে খাদ্যসামগ্রী বিতরনীকালে উপস্হিত ছিলেন থানার ওসি মোঃ রবিউল কবীর, জেএমআই ঢাকা অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার (ব্রান্ড) মোঃ ইমরান হোসেন, কর্পোরেট ম্যানেজার (এফিয়ার্স) মোঃ জোবায়ের হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা(এডমিন) রাজিব আহম্মেদ, মার্কেটিং ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক,সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান মিজান, নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল,ইন্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম,পার্সেল অফিসার অর্জূন সরকার, বিদ্যুৎ বিশ্বাস, সমীর রায় প্রমূখ। এ সময় ২৫০ টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি চাল, ২কেজি পেয়াজ, ৫কেজি আলু, ১কেজি ডাল, ১লিটার তেল ও ১ কেজি লবন খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়।

খুলনার কোচিং সেন্টারের সহস্রাধিক পরিচালক ও শিক্ষক বেকার

মুকুল রায় : করোনাকালীন লকডাউনে সীমিত আকারে সবকিছুই চলছে। তবে বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সকল কোচিং সেন্টার। টানা এক বছরের বেশি সময় কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকায় পথে বসেছে কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও শিক্ষকেরা। শিক্ষিত যেসব যুবক-যুবতী এখানে শিক্ষকতা করতেন তারাও বেকার হয়ে পড়েছেন। আর্থিকভাবে চরম দুর্দশায় অন্তত খুলনার সহস্রাধিক কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও শিক্ষক।
কেউ কেউ টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে বিকল্প পন্থায়। কেউ পাড়ি জমিয়েছেন প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গ্রামে। যাদের কোনো বিকল্প নেই তারাই আছেন মহা সংকটে। করোনাকালের অন্ধকার কবে দূর হবে এই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।
এক সময় মহানগরী খুলনার অলিতে গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বিভিন্ন নামে-বেনামে কোচিং সেন্টার বা ব্যাচ। কিন্তু অদৃশ্য শক্তি কোভিড-১৯ সেই চিরচেনা কোচিং বা ব্যাচ সাম্রাজ্যকে করেছে দিশেহারা। বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। যাদের এই প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত টিউশনির উপর নির্ভর করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে বাকি অর্থ গ্রামে বসবাসরত পরিবারের কাছে পাঠাত। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তারা শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছে। একটা সময় নগরীর বিভিন্ন জায়গায় চোখে পড়ত বিভিন্ন স্যারের ব্যাচ বা কোচিং। কিন্তু করোনার কারণে সে চিরচেনা রূপ আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন আর বিভিন্ন দেয়ালে দেখা মেলে না বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন স্যারের চমকদারি বিজ্ঞাপন আর সাফল্যগাঁথার কল্পকাহিনী। গতকাল সরজমিনে নগরীর ফুলবাড়িগেট, দৌলতপুর, বয়রা, খালিশপুর, সোনাডাঙ্গা, খুলনাসদরসহ বিভিন্ন জায়গায় স্বল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের দেখা মিলেছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ডের দেখা মিলেছে নগরীর দৌলতপুর সরকারি বিএল কলেজের আশেপাশে, বয়রা সরকারি মহিলা কলেজের আশেপাশে, সিটি কলেজের আশেপাশে, দোলখোলা, আহসান আহমেদ রোড, পিটিআইয়ের আশে-পাশে, সামছুর রহমান রোড, বাবুখান রোড, ছোট মির্জাপুর, সাউথসেন্ট্রাল রোড ও হাজী মহসিন রোডে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে এগুলো তালাবদ্ধ রয়েছে। সাইনবোর্ড হতে প্রাপ্ত নম্বরে যোগাযোগ করে জানা যায় তারা গ্রামে আছেন। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রশ্ন করায় অধিকাংশই হতাশার কথা ব্যক্ত করে বলেন, জুন মাস থেকে কোচিং চালু করতে না পারলে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিয়ে হয়তো অন্য কোনো পেশায় যেতে হবে। অন্যথায় গ্রামেই থেকে যেতে হবে। যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খোলা পাওয়া গিয়েছে তারা ঈদ পরবর্তীতে অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করতে ব্যস্ত রয়েছেন। তারা বলেন, বুক ভরা আশা নিয়ে প্রতিষ্ঠান ধরে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম ঈদের পর প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারব। কিন্তু লকডাউন আবার বর্ধিত করে ২৯ মে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। এদিকে গত বছর বাড়ির মালিকরা কিছুটা বাড়িভাড়া মানবিক কারণে কম নিলেও এ বছর তারা নির্ধারিত ভাড়ার এক পয়সাও কম নিতে চাইছেন না। পক্ষান্তরে এ বছর অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সাড়াও গত বছরের তুলনায় নগণ্য। ফলে বিড়ম্বনার শেষ নেই। কোচিং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানান, কোচিং এর মতো একটি সম্মানজনক পেশায় নিজেদের জড়িয়ে বর্তমানে তারা দিশেহারা। এখানে অর্থ ও সম্মান পাওয়া যেত। বিধায় খ্যাতির বিড়ম্বনায় ছোটখাটো কোনো পেশায়ও নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে পারছেন না তারা। তবে আক্ষেপের সাথে একাধিক কোচিং পরিচালক বলেন, আমাদের নিয়ে কেউ ভাবেন, এমনটাও মনে হয় না। একটা সময় কোচিং বাণিজ্য নিয়ে পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হত। বর্তমানে আমাদের দুর্দশার বাস্তব চিত্র কারো চোখে পড়ে না। না পেয়েছি কোনো অনুদান, না দাঁড়াতে পেরেছি কোনো ত্রাণের লাইনে। কিন্তু আজ এক বছরের অধিক সময় কর্মহীন, অর্থহীন জীবনযাপন আমাদের কাছে বড়ই দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত বছর কোচিং করে আয় করা অর্থ-সম্পদ কী করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কোচিং পরিচালকরা এই প্রতিবেদককে বলেন, যার যেভাবে আয় হত, তারা সেভাবে ব্যয়ও করতেন।
নগরীর হাজী মহসিন রোডের স্টার একাডেমিক কেয়ারের পরিচালক অসিত রায় বলেন, আমরা দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। এদেশের নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। আমাদের স্বীকৃতিও দরকার। সাথে সাথে টিকে থাকার জন্য কোভিড প্রটোকল মেনে তাদের প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাচ ও কোচিং এর পরিচালক বলেন, আমরা না পারছি সইতে, না পারছি বলতে। আমাদের সঞ্চিত অর্থ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে তারা সম্পত্তি বিক্রি করে, কেউ সুদে টাকা নিয়ে, কেউবা ধার করে এবং কেউ কেউ আবার গহনা বিক্রি করেও টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিগত দিনে অর্জিত অর্থ-সম্পদ নিয়ে এখনো ভালো সময় পার করছেন।
এদিকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত খসড়া শিক্ষা আইন-২০২১ এ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত ফ্রি ল্যান্সারদের সব ধরনের কোচিং সেন্টারের বৈধতা দিয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে তা পরিচালনার জন্য সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। এমন সংবাদে কোচিং সংশ্লিষ্টরা আশায় বুক বেঁধেছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় গত এপ্রিল মাস থেকে চলমান লকডাউনে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত খসড়া আইনটি পাশ হওয়া সম্ভব হয় নি।
এ বিষয়ে কোচিংসেন্টার এসোসিয়েশনের (এসেব) খুলনার সভাপতি শ্যামল কুমার রায় বলেন, আমরা শিক্ষাআইন-২১ এর চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে আশাবাদী। আমাদের বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাশার প্রাপ্তি ঘটতে চলেছে। তিনি বলেন, আমরা যারা ফ্রি ল্যান্সার (কোচিং সংশ্লিষ্টরা) এবং এই পেশার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল আছি; আমাদের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকার আমাদের টিকে থাকার কোনো একটি ব্যবস্থা করলে চির কৃতজ্ঞ থাকব। ইতোমধ্যে ৬০% ফ্রি ল্যান্সার (কোচিং সংশ্লিষ্টরা) প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গ্রামে ফিরে গেছেন। আর যারা এখনও টিকে আছেন; তারা চরম হতাশার মধ্যে আছেন। তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তাদের মানসিক বিকাশ সাধনের জন্য সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত একদিন এক একটি ক্লাস চলমান রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এক বছরের বেশি সময় ঘরে বসে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা ভুলতে বসেছে। শুধু টিভি, মোবাইল গেম নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং আচার-আচরণে ব্যাপক পরিবর্তনও এসেছে। কথায় কথায় তর্কে জড়িয়ে পড়ছে এবং মোবাইলে প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
বুক ভরা আশা নিয়ে শিক্ষা সহায়ক এই প্রতিষ্ঠানগুলো (কোচিংসেন্টার) এখনো টিকে রয়েছে সোনালি দিনের প্রত্যাশায়। তারা আশা করেন প্রধানমন্ত্রী তাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নতুন কোনো ইতিবাচক দিকনির্দেশনা অবশ্যই প্রদান করবেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.)’র ফিলিস্তিনি জনগণের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও মুক্তি কামনায় মুনাজাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি, গাউসিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.) বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বকে করোনা মহামারী থেকে মুক্তি এবং একটি স্বাধীন স্বকীয় রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে আকুল ফরিয়াদ জানান।
গত ১৪ মে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর-এর দিন বাদ জুমআ বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) রওজা শরিফে সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত মুনাজাত অনুষ্ঠানে তিনি এই ফরিয়াদ পেশ করেন। ফিলিস্তিনের অসহায় মজলুম সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও মুক্তি বর্তমান ইতিহাসের অন্যতম প্রধান চাহিদা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরাশক্তিবর্গের মদদপুষ্ট ইসরায়েলের পাশাপাশি স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিনের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য মুসলিম উম্মাহকে বস্তুনিষ্ঠ কার্যকর পদক্ষেপ নেবার আহ্বান জানান। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অন্যায়ভাবে নির্যাতিত লাঞ্ছিত মানুষের মুক্তি, ক্ষুধার্ত, গৃহহীন, বস্ত্রহীন, অসুস্থ ব্যক্তিদের রোগমুক্তির জন্য আল্লাহ্র রহমত যাঞ্ছা করেন এবং অভাব, অশান্তি, যুদ্ধমুক্ত একটি পৃথিবীতে মানুষ যাতে মানুষের মত বাঁচতে পারে সেই পরিবেশ কামনা করেন।

ছবির ক্যাপশন: শাহানশাহ্হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী’র রওজা শরিফে বা’দ জুমআ মুনাজাত করছেন সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.)