খুলনা হবে তিলোত্তমা বদলে যাবে দৃশ্যপট

# কেসিসি’র ২৮৬৭ কোটি টাকার ১৪টি নতুন প্রকল্প
# চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রাক্কলন ব্যয় ১৭৯৩ কোটি টাকা
# রাস্তা, ড্রেন, ব্রীজ, পাম্প হাউজ নির্মাণ,
# পাবলিক টয়লেট ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ,
# ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ,
# রাস্তার বাতির জন্য পোলসহ সোলার ও নন-সোলার এলইডি লাইট
প্রথম পর্ব
মোঃ শহীদুল হাসান :
উন্নয়নে বদলে যাবে শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনার দৃশ্যপট। আর এ বদলে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। খুলনা নগরীকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২,৮৬৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯৩ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গৃহীত ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯৩ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। চারটি কাজের মধ্যে রয়েছে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৬৬.৯০ কিঃ মিঃ আরসিসি রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন, ৪৮.৪০ কিঃ মিঃ সিসি রাস্তা নির্মাণ, ১০.৭৭ কিঃ মিঃ কার্পেটিং রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নগরীতে ২২৬.৮৮ কিঃ মিঃ ড্রেন নির্মাণ ও ৪ টি পাম্প হাউজ নির্মাণ (আলুতলা দশগেট, মতিয়াখালী খাল, লবনচরা খাল এবং ১নং কাষ্টমঘাট) এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩০২ কোটি টাকা। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যানজট নিরসনে ও জনসাধারনের নিরাপদ রাস্তা পারাপারে নগরীর রেল ষ্টেশনের সামনে যশোর রোডে, শিববাড়ি মোড় ও দৌলতপুর বিএল কলেজ মোড় এলাকায় ৩টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। নগরীতে চলাচলকারী জনসাধারণের জন্য বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে ১০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে ৩১টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও রাস্তার বাতির জন্য পোলসহ সোলার ও নন-সোলার এলইডি লাইট (২১ আইটেম) স্থাপন করা হবে এত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৩ কোটি ১২ লক্ষ টাকা।
প্রকল্প এলাকা নির্বাচনের যৌক্তিকতা হিসেবে কেসিসি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিবেশগত উন্নতি শহরে উন্নয়নের জন্য কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ কৌশলের আওতায় পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং উন্নত নাগরিক সেবা দেয়া সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
কেসিসি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত ২৮৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। এই ব্যয়ের মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ৫৭৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার জোগান দেবে, বাকী অর্থ নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে বাংলাদেশ সরকার। উন্নয়ন প্রকল্পের খসড়া বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর খসড়াটি জাতীয় অথনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। একনেকে অনুমোদন মিললে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন। এই অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি করা, নগর শিশুদের শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়ন কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতি মোকাবেলায় জলাশয় সংরক্ষন, খেলারমাঠ, উন্মুক্ত স্থান, পার্ক নির্মাণ, প্রকল্প এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, শহরের সৌন্দর্যবৃদ্ধি ও দুর্ঘটনা রোধ করণ, শহরের অর্থনেতিক কার্যক্রম সম্প্রসারন ও উন্নয়ন।
প্রকল্পগুলোর বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. এজাজ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত ২৮৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি খুলনা সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন করবে। এজন্য প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের গবেষকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রাণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রকল্পটি পাশ হলে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণ, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নাগরিক সুবিধা ও নগরীর সৌন্দর্য অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে পরিবেশগত ভারসাম্যও বজায় থাকবে।
সিটি কর্পোরেশন মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক প্রকল্পের বিষয়ে বলেন, খুলনা নগরীকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ২,৮৬৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন। এই অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ নতুন ড্রেন ও পাম্প হাউজ নির্মান, ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি করা লক্ষে ৩১ ওয়ার্ডে কার্যালয় নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতি মোকাবেলায় জলাশয় সংরক্ষন, খেলার মাঠ নির্মাণ , পার্ক উন্নয়ন ও শহরের বিভিন্ন মোড়/চত্ত্বর উন্নয়ন, প্রকল্প এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন। এ প্রকল্পের আওতায় ৪৫০.৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২ তলা খুলনা সিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এতে করে শহরের অর্থনেতিক কার্যক্রমের সম্প্রসারন ও উন্নয়ন হবে।
সচেতন নগরবাসী মনে করছেন, এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নগরী গড়ে উঠবে। বদলে যাবে খুলনার চিত্র, বাড়বে নাগরিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম।

চট্টগ্রামে ১৭ লাখ টাকার ইয়াবাসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৭ লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুইজন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে মোঃ রফিক  (২২) এবং মোঃ আরিফ (৩১)। ২৮ মে শুক্রবার চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৬শ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। যার বর্তমান বাজার মুল্য ১৭ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র সূত্র মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্বাবধানে ও সহকারী পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক এর সমন্বয়ে বন্দর ও কোতোয়ালি  সার্কেল  পরিদর্শক এর নেতৃত্বে  বন্দর সার্কেল পরিদর্শক মোঃ সিরাজুল ইসলাম  বিকেলে  চট্টগ্রাম মহানগরীর চাঁদগাও থানাধীন শাহ আমানত সংযোগ সড়কস্থ বহদ্দারহাট এলান এন্ড লুবাবা টি হাউজ এর সামনে রাস্তার উপর হতে  শাহ আলমের পুত্র মোঃ রফিককে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ  গ্রেফতার করে বন্দর সার্কেল পরিদর্শক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদগাও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।  অপর অভিযানে কোতোয়ালি সার্কেল পরিদর্শক মোঃ মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্বে চকবাজার  থানাধীন কাপাসগোলা ৫/৪ হাসমত উল্লাহ মুন্সেফ লেইনস্থ ফল বিতান,চট্টগ্রাম  এর সামনে রাস্তার উপর হতে মৃত আ: রহিমের পুত্র মোঃ আরিফকে ২ হাজার ৬শ  পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার  করে কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী উপ পরিদর্শক  মোঃ লুৎফর রহমান   বাদী হয়ে চকবাজার  থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী  একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

দাকোপে ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে সাবেক এমপি ননী গোপাল

দাকোপ প্রতিনিধি ; সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা জেলা আওয়ামীলীগনেতা ননী গোপাল মন্ডল দাকোপে ঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার সকালে তিনি উপজেলার ৭ নং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া বাজার, মোজামনগর বাজার এবং কামিনিবাসীয়া এলাকার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তার সাথে দাকোপ উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসিত বরন সাহা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ জি এম কামরুজ্জামান, চালনা পৌরসভার সাবেক মেয়র ড. অচিন্ত্য কুমার মন্ডল, আ’লীগনেতা কমলেশ বাছাড়, ইউপি সদস্য সরদার জনি, তরঙ্গ মন্ডল, যুগল ঘরামী, সাইফুল ইসলাম, ইলিয়াস বিশ^াস, মন্টু মোড়ল উপস্থিত ছিলেন।

দাকোপের ক্ষতিগ্রস্থ বাধ পরিদশর্নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার

আজগর হোসেন ছাব্বির : ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ঝালবুনিয়া এলাকা পরিদর্শন করেছেন দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এ সময় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনো খাবার ও ত্রান সামগ্রী বিতরন করা হয়। উপজেলায় সব মিলিয়ে সাড়ে ১১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন দাবী করেছেন।
শুক্রবার দুপুরের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ^াস ঝড়ের প্রভাবে প্লাবিত হওয়া তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বেড়ীবাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্থ ঝালবুনিয়া এলাকা ঘুরে ঘুরে বাঁধের সর্বশেষ অবস্থা দেখেন। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনো খাবার ও অন্যান্য ত্রান সামগ্রী বিতরন করেন। এ সময় তার সাথে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মর্তূজা খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অপর দিকে ঝড়ের প্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়া জ¦লোচ্ছাসের কারনে প্লাবিত হয়ে দাকোপে ২০০ হেক্টর মৎস্য ঘের, ৩৪ কিঃ মিঃ চলাচলের রাস্তা, ২৪ কিঃ মিঃ বেড়ীবাঁধ, ১৫ টি মসজিদ, ৫টি মন্দির, ২৮২৮ টি ঘরবাড়ী কমবেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। টাকার অংকে যা ১১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে উপজেলা প্রশাসন দাবী করেছেন। উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের মধ্যে সুতারখালী, বানীশান্তা এবং তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন সব থেকে বেশী ক্ষতির শিকার হয়েছে। এ ছাড়া চালনা পৌরসভাসহ অন্যান্য এলাকা উপচে পড়া পানিতে কমবেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ফুলতলায় ১ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ থানা পুলিশ বেলা ১১টায় ফুলতলা বাসষ্টান্ড এলাকার বকুলের চায়ের দোকান থেকে ১ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। আটককৃতরা হলো যশোর ঝিকরগাছার গৌরছুটি গ্রামের মৃতঃ আতাউল হকের পুত্র মোঃ মহিদুল ইসলাম (৪৭) ও বেনাপোল পোর্ট থানার বঘুনাথপুর গ্রামের মোঃ আজিবর রহমানের পুত্র মোঃ জুয়েল সরদার (৩৬)। পরে স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের সহযোগি অভয়নগরের চন্দ্রপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম খানের পুত্র মিজান খান (২৯) কে আলকা গ্রাম থেকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে এসআই আবুল কাইয়ুম বাদি হয়ে থানায় মামলা (নং-১৬, তারিখ-২৮/৫/২১) করেন। আটককৃতদের শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। অপরদিকে ওসি মাহাতাব উদ্দিন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থানে মাদক পাচারের জন্য রুট হিসাবে ফুলতলা ব্যবহার করে। মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাতক্ষীরা উপকূলে কাফনের কাপড় পরে বেড়িবাঁধের দাবি

শেখ শাকিল হোসেন, সাতক্ষীরা : ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূল। নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় ৫০টির বেশি গ্রাম। বিধ্বস্ত হয় অর্ধ লক্ষাধিক ঘরবাড়ি। ভেসে যায় হাজার হাজার কোটি টাকা মৎস্য ও কৃষিসম্পদ। ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বেড়িবাঁধ দিয়ে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা ঠেকিয়ে রাখা এলাকাগুলো যে কী মাত্রায় অরক্ষিত অবস্থায় আছে। দু’দিন আগে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আঘাত হানার পরও বোঝা গেছে। বছর না ঘুরতেই ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে। এতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে বেশি। বহু পুকুর ভেসে মাছের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে।

জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধে বুধবার (২৬ মে) থেকে উত্তাল নদ-নদীর ঢেউ আচড়ে পড়ে এখন কঙ্কালসার বেড়িবাঁধ কোনো মতে টিকিয়ে রেখেছে উপকূলবাসী। বছরের পর বছর ধরে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়ে আসলেও সেই দাবি বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে।

শক্রবার (২৮ মে) সকাল ১০টায় উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি পয়েন্টের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের ওপর টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

কর্মসূচিতে নেয়া উপকূলবাসী- ভাসতে চাই না, বাঁচতে চাই। একবারই মরবো, বারবার নয়। আমাদের জীবনের কি কোন মূল্য নেই? জলবায়ু তহবিল কাদের জন্য? উপকূলের কান্না কি চিরদিনের? কর্তৃপক্ষ মরে গেছে, আমরা বেঁচে করবো কি? নিরাপদে বাঁচার, নাই কি আমার অধিকার? বাস্তভিটা ছেড়ে, ভাসানচরে যাবো না- ইত্যাদি প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।

উপকূলের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির আয়োজনে এই কর্মসূচিতে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে উপকূলের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহিন বিল্লাহ, তরিকুল ইসলাম, মুহতারাম বিল্লাহ, মুতাসিম বিল্লাহ, হাসানুল বান্না প্রমুখ। প্রতীকী লাশ হয়ে প্রতিবাদ জানান মাসুম বিল্লাহ, ইয়াসির আরাফাত, সালাউদ্দিন, মাহি ও সালাউদ্দিন জাফরী।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাত বলেন, বিগত ১২ বছর ধরে উপকূলের মানুষ ভাসছে। প্রতিবারই এমন পরিস্থিতিতে কর্তাব্যক্তিরা শুধু আশ্বাসের কিছু মুখস্থ বুলি আওড়ান। আমরা নানান ধরনের মেগা প্রকল্পের নাম শুনে আসছি, কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকর উদ্যোগ আলোর দেখা পায়নি। আমরা উপকূলের মানুষ টেকসই বেড়িবাঁধসহ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে অত্র অঞ্চল পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অত্র অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করার দাবি জানাই। ভুক্তভোগী স্থানীয় রবিউল ইসলাম জানান, আম্পানে ঘর বাড়ি সব ভেঙে গেছে। গত ৪ বছরে ৫ বার ঘর বানাতে হয়েছে। মাছের ঘের ডুবে গেলে সর্বশান্ত হয়ে যাই। একটু ঘুরে দাঁড়াতে না দাঁড়াতে আবার শুয়িয়ে দিলো আমাদের। আর যাবারও জায়গা নেই। বলারও জায়গা নেই।

উল্লেখ্য, উপকূলীয় এলাকার ৮ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালে আইলার পর উপকূল এলাকার এসব বাঁধের অনেক জায়গা ভেঙে গিয়েছিল, অনেক জায়গা বানের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল; কিন্তু তার বড় অংশ এখনো যথাযথভাবে মেরামত হয়নি। গোটা উপকূলীয় এলাকা এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

ডুমুরিয়ায় নলঘোনা খাল খননে খুশি এলাকাবাসী

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) : ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের ভরাট হওয়া নলঘোনা খালটি খনন করায় স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষীদের মধ্যে প্রাণ-চাঞ্চল্যতা দেখা দিয়েছে। কৃষিকাজ ও মৎস্য উৎপাদনে তারা পেয়েছেন সহজ সুবিধা।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের দক্ষিণ ডুমুরিয়া গ্রামের কোল ঘেষেই নলঘোনা খাল। অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে ভরাট অবস্থায় ছিল পড়ে। এরই মধ্যে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক জলাশয় খননের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় খালটি খনন কাজ শুরু হয়েছে। পৃথক দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে জুলফিকার আলী ও শেখ তৌহিদুল ইসলামের তত্ত্বধানে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে কাজের উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে শেষ হতে পারে কাজ। সিডিউল মতে, প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে খালের গভীরতা হবে ৮ থেকে ১০ ফুট, প্রস্থতা হবে ৬০ থেকে ৮০ ফুট আর লম্বায় হবে ৩৬’শ ফুট। শুরুতে দ্রুত ভাবে খনন করায় বর্তমানে দৃশ্যমান হয়েছে খালটি। যা দেখে স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রাণ-চাঞ্চল্যতা। এ বিষয়ে স্থানীয় মিজানুর রহমান বিশ্বাস, আক্তার গাজী ও আব্দুর রহিম মোড়ল জানান, এই মিরে খালি বিলেই আমাদের জমিজমা। এখানে কৃষিকাজে ও ঘেরে মাছ চাষ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। অধিক বর্ষায় বিল তলিয়ে যায়। আবার শুকনোর সময় বৃষ্টি না হলে সব শুকিয়ে যায়। ফলে দেখা যায় অধিক বর্ষায় ভেসে যায় আর খরায় ফসল মাছ মরে যায়। তাই এই খালটি খনন করায় আমাদের কৃষি কাজে খুব সুবিধা হয়েছে। এছাড়াও জলাবদ্ধতাও আর হবে না। এই খাল দিয়ে গ্রামের পানি নেমে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জেলা মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক খনন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তারপরও নলঘোনা খালটি খননের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। কারণ এই বিলটি উপজেলা সদরের পাশেই হওয়ায় পানি নামানো বা ওঠানোর ব্যবস্থা ছিল না। ফলে চাষীরা তাদের ঘেরে ইচ্ছে মত পানি ব্যবহার করতে পারতো না। আশাকরি আর ওই অসুবিধা হবে না। এখন চাষীরা খুব সহজে ঘেরে মাছ, ভেঁড়িতে সজ্বি ও বোরো মৌসুমে ধানও উৎপাদন করতে পারবে।

ডুমুরিয়ায় পৃথক ঘটনায় নিহত ২

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়ায় পৃথক ঘটনায় ২জন নিহত ও একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এরমধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে জুয়ের্লাস ব্যবসায়ী কনক সিং (৩০) আর বিষপানে মারা গেছে গৃহবধু বৃষ্টি রানী মন্ডল (২০) এবং অপর এক মটর সাইকেল আরোহী রমেশ বৈরাগী (৪৫) মুর্মুর্ষ অবস্থা হাসপাতালে ভর্তি আছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা বরাতিয়া গ্রামের নির্মল সিং’র ছেলে জুয়ের্লাস ব্যবসায়ী কনক কুমার সিং সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। সে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মটর সাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের কাঁঠালতলা বাজারের পূর্বপাশে পৌঁছালে একটি ট্রাকের ধাক্কায় সে ছিটকে পড়ে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে এবং বিকেল ৩টায় তার মৃত্যু হয়। তবে ঘাতক ট্রাকটির কোন সন্ধান পায়নি পুলিশ। অপরদিকে উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের তালতলা বান্দা গ্রামে বৃষ্টি মন্ডল নামের এক গৃহবধু মারা গেছে। সে বুধবার রাতে পারিবারিক কলহে বিষপান করে। পরে তার স্বজনরা ওই রাতেই তাকে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া অপর এক দুর্ঘটনা ঘটে উপজেলার আরশনগর জামে মসজিদের সামনে। দুপুর দেড়টার দিকে পাইকগাছা-খুলনাগামী বাসের (ঢাকা মেট্রো-জ-০৫০০৬৪) ধাক্কায় মটর সাইকেল আরোহী রমেশ মন্ডল গুরুতর আহত হয়। সে পাইকগাছার রাধানগর গ্রামের মৃত মনোহর মন্ডলের ছেলে। আহত রমেশ মুর্মুর্ষ অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে ভর্তি আছে। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান জানান, খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কে বাস ও ট্রাকের ধাক্কায় দুই মটর সাইকেল আরোহীর মধ্যে একজন মারা গেছে এবং অন্যজনের অবস্থা আশংকা জনক। এর মধ্যে ঘাতকটি পালিয়ে গেছে আর বাসটি আঠারো পুলিশ ক্যাম্পে আছে। এছাড়া বৃষ্টি নামের এক গৃহবধু বিষ পান করায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

দিঘলিয়ার দুইটি অংশের ভেড়িবাধ ভাংঙ্গনের আশংকা

ওয়াসিক রাজিব, দিঘলিয়া : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর তান্ডবে খুলনার দক্ষিনান্চলের কিছু এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হলেও এর থেকে রক্ষা পেয়েছে দিঘলিয়া উপজেলা।কিন্তু জোয়ারে নদীর পানি স্বাভাবিকে চেয়ে ৪-৫ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারনে পনির চাপে সেনহাটী ও বারাকপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর ও পুর্ব আমবাড়ীয়া ভেড়িবাধের পূর্বে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা(ইতিমধ্যে  প্রাথমিক ভাবে বাধ দেওয়া হয়েছ) আবারও ভাঙ্গনে আশংকায়য় আতংকিত অবস্থায় বসবাস করছেন কয়েক হাজার মানুষ।এই ভাঙ্গন সৃষ্টি হলে দুই ইউনিয়নের কয়েক শত একর কৃষি জমি, মৎস ঘের প্লাবিত হবে।এর ক্ষতি থেকে বাদ যাবেনা কাচা, আধাকাচা ঘর বাড়ী।আর্থিক হিসাবে এই ক্ষতির পরিমান কয়েক কোটি টাকা।অসহায় সম্বলহীন হয়ে পরবে শত শত পরিবার।উল্লেখ্য এর আগেও এখানে ভাঙ্গনের ফলে অনেক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।ভাঙ্গনের আশংখা দেখা দেওয়ায়  ইতিমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মারুফুল ইসলাম,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম,সহকারী কমিশনার( ভূমী) মোঃ আলিমুজ্জামান মিলন,থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ চৌধুরী ভাঙ্গন কবলীত এলাকা পরিদর্শন করেন। খূলনা-০৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীর নির্দেশনায় খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকোশলী মোঃআশরাফুল আলম এর আলোচনা করে বোর্ডের জরুরী কর্যক্রমের অংশ হিসাবে তাৎক্ষনিক জিও ব্যাগে বালু ভরে ভাঙ্গন এলাকায় ফেলার কাজ শুরু করেন, যা এখনো চলমান এখানে চার (৪০০) শতাধিক ব্যাগ ফেলানো হবে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান আমরা ইতিমধ্যে  কাজ শুরু করেছি। এমপি মহোদয়,পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।স্থায়ী বাধ না হলে প্রতিবছর এই ভাঙ্গন রোধকরা সম্ভব নয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃআশরাফুল আলম এই প্রতিবেদককে জানান প্রাথমিক ভাবে আমরা ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করছি। আর উপজেলার কাটাবন,মোমিনপুর,পূর্ব আমবাড়ীয়া,দিঘলিয়া আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় স্থায়ী বাধ নির্মানের জন্য আঠারো শত(১৮০০) কোটি টাকার প্রকল্প  ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট  মন্ত্রনায়ে পাঠানো হয়েছে করোনা মহামারীর জন্য একটু দেরি হচ্ছে।এর একটি কপি স্থানীয় সংসদ সদস্যের দপ্তরে প্রেরন করে কথা বলা হয়েছে।দ্রুত কাজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

স্থায়ী বাধ নির্মান প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে খুলনা-০৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেন আমি ভাঙ্গনের কথা জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি কাজ চলমান আছে।আর স্থায়ী বাধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের করা একটি প্রকল্পের কপি আমি পেয়েছি, নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে।আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সাথে কথা বলে যত দুরুত সম্ভব নির্বাচনী এলাকার জনগনের দুঃক্ষ লাঘবের জন্য স্থায়ী বাধ নির্মানের কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন।

দাকোপে বাঁধ ভেঙে ফের প্লাবিত তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন

আজগর হোসেন ছাব্বির : জোয়ারে পানির চাপ অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দাকোপে বাঁধ ভেঙে ফের প্লাবিত হয়েছে তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন। সংশ্লিষ্ট বিভাগ পাউবোর উদাসীনতায় উপজেলা প্রশাসন বাঁধ রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও ত্রানের চাল বিতরন করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সরাসরি আঘাত হানেনি। কিন্তু তার প্রভাবে উপচে পড়া জ¦লোচ্ছাসে প্লাবিত হয়েছে উপকুলিয় দাকোপের জনপদ। প্রতিনিয়ন ভেঙে যাচ্ছে নতুন নতুন বেড়ীবাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ড অনেকটাই নির্বিকার। অথচ নাকাল অবস্থা দাকোপ উপজেলা প্রশাসনের। বাঁধ সংস্কার বা পূর্ন নির্মানে নেই কোন বরাদ্দ। তবুও উপজেলা প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদকে সাথে নিয়ে প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের জোয়ারে উপজেলার ঝালবুনিয়া পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পৃথক ৬ টি স্থানে আনুমানিক ১৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে ফের পানি ঢুকছে এলাকায়। এর আগে প্রশাসনের তথ্য মতে উপজেলার সুতারখালী, তিলডাঙ্গা, বানীশান্তা, পানখালীসহ অন্যান্য ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় বাঁধের বাইওে বসবাসকারী ৩ হাজার পরিবার জ¦লোচ্ছাসে প্লাবিত হয়েছে। আনুমানিক ১ হাজার ঘরবাড়ী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ^াস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বানীশান্তা, লাউডোব, বাজুয়া, কৈলাশগঞ্জ ও দাকোপ ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বানীশান্তা যৌন পল্লীর অধিবাসীসহ ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জ¦লোচ্ছাসে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রানের চাল বিতরন করেন।