প্রতারক মাসুদ থেমে নেই

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-২৫ - ১৬:৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রতারক মাসুদ ভালো নেই। মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাওয়া মাসুদ এখন অন্যকে ব্ল্যাকমেইল করতে মিথ্যা বানোয়াট প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে যাচ্ছে। নিজেকে বাঁচাতে এখন মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। করছে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা। উলটো নিজের নামে নিজে মামলা দিয়ে অন্যকে ফাসানোর অবিরত চেষ্টা করছে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাসুদ নানা অপকর্মের দায়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি পায়। প্রতারণা করতে সে বিদেশি নাম্বার ব্যবহার করেন। ভুয়া স্ক্রিনশট দিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে নিজ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়িয়ে প্রতারনা করার চেষ্টা করছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিজ পরিবারের সদস্যদের নামে করেছেন একের পর এক মিথ্যা মামলা। মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ডজনেরও ঊর্ধ্বে। এমনকি নিজের মা পর্যন্ত মাসুদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন। বোন এবং বোন জামাই হচ্ছেন হয়রানির শিকার।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ২০১৯ সালে নৌবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন। ওই বছর তার বাবা এম.এ. কুদ্দুস এবং আপন ছোট ভাই আব্দুল্লাহ একটি বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজে ব্যস্ত ছিলেন। বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজের কথা শুনে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খুলনা চলে আসেন। তৎকালীন বেসিক ব্যাংক খুলনা শাখা থেকে তার বাবা এবং ছোট ভাই বিল্ডিংয়ের কাজের জন্য একটি ঋণ গ্রহণ করেন। বাড়ির নির্মাণ কাজের সময় আলাউদ্দিন নামে একজন ব্যক্তির সঙ্গে মাসিক পাঁচ লাখ টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে এবং ৭৫ লাখ টাকা জামানতের চুক্তিতে ব্যাবসায়িক চুক্তি করেন মাসুদের বাবা এম.এ. কুদ্দুস। ওই সময় মাসুদ আলাউদ্দিনকে হটিয়ে নিজে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি হোটেল হিসেবে পরিচালনা করার জন্য ফন্দি করেন। মাসুদ প্রতারণা করে আলাউদ্দিনের সমস্ত ফার্নিচার দিয়ে হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। এই সময় সহযোগী হিসেবে তার চাচাতো ভাই মো. পিয়াস হোসেন হোটেলটিতে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের ফার্নিচার আত্মাসাতের ঘটনায় একটি মামলা হয়।
প্রথম দিকে হোটেলের বেচাকেনা একেবারে কম ছিল। দৈনন্দিন ব্যবসার টাকা মাসুদ তার মায়ের কাছে জমা করতেন। একটা পর্যায়ে তার বাবা এম.এ কুদ্দুস শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাসুদ তার বৃদ্ধ বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। একটা সময় তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ওই সময় তার ভাই ও বোন দেশের বাইরে ছিলেন। কিন্তু মাসুদ উন্নত চিকিৎসা না করানোয় ২০২৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তার বাবা মারা যান। আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তার বাবা এম.এ কুদ্দুসের মৃত্যুর পর সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য স্ট্যাম্প এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি চুক্তিনামা পরিবারকে দেখিয়ে সম্পত্তি এককভাবে ভোগ দখলের দাবি করেন।

এ ঘটনায় মাসুদের মা ২০২৪ সালে একটি ক্রিমিনাল মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত মাসুদকে জেল হাজতে পাঠান। মাসুদ উচ্চ আদালত থেকে মায়ের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের জামিন নেন। জামিনে বের হয়েই মাসুদ তার বর্তমান স্ত্রী ফারাহ আজাদ কান্তার সঙ্গে যোগসাজশে আপন ছোট ভাই আব্দুল্লাহর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী জান্নাত ই মিতুর সাথে যোগাযোগ করে। মিতুকে ভয় দেখিয়ে এবং কু-প্ররোচনা দিয়ে মাসুদ নিজের আপন বোন জামাইকে আসামি করে একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মাসুদ নিজ ছোট ভাইয়ের সন্তানদের জিম্মি করে বোন জামাই এবং আপন ছোট ভাই আব্দুল্লাহকে আসামি করে মিতুকে দিয়ে একটি মিথ্যা অপহৃত মামলাও দায়ের করান। তদন্তে বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর অভিযোগটি খারিজ করে দেন আদালত।
কোনো কিছুতে না দমে এরপর মাসুদ সম্পত্তি দীর্ঘদিন সুকৌশলে ভোগ দখলের পাঁয়তারায় একটি সিভিল বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মাসুদের মা এবং ভাই বোন আদালতে রিসিভার নিয়োগের দরখাস্ত করলে আদালত রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন। কোর্টের আদেশ অনুযায়ী খুলনা মেট্রোপিলটন পুলিশ সম্পত্তিটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর মাসুদ পরিবারের সবার বিরুদ্ধে, পুলিশ কমিশনার এবং সোনাডাঙ্গা থানার ওসি সবাইকে বিবাদী করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

সূত্র বলছে, বিভিন্ন ব্যক্তিদের মামলার ফাদে ফেলে, সূত্র ধরে উকিল নোটিশ করে, ভয় দেখিয়ে এবং মিথ্যা অভিযোগ বানিজ্য করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এক ডজনের বেশী মামলা করেছেন নিজ পরিবারের সদস্যদের নামে।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদের মা হোসনেয়ারা বেগম বলেন, মাসুদ ভুয়া ফেসবুকিং করে নিজ বোন ও বোন জামাইকে ফাসানোর চেষ্টা করছে। একের পর এক প্রতারনা সে করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।