সুন্দরবনের শামুক-ঝিনুক পাচার হয়ে যাচ্ছে কোথায়?

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-২৬ - ১০:৫৭

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : মায়ানমারের সুপারির সাথে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের নৌ রুট দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে হাজার হাজার টন শামুক-ঝিনুক। আর এর সাথে যুক্ত দেশি-বিদেশি স্মাগলাররা রীতিমত আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যাচ্ছে। শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের এ ধারা শুধু বনসম্পদ নয়, দেশের সামগ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুতর হুমকির সৃষ্টি করছে।
সুন্দরবনের গভীর থেকে অবৈধভাবে ঝিনুক সংগ্রহের মহোৎসব চলছে। প্রতিনিয়ত শত শত কেজি ঝিনুক সংগ্রহ করে পাচার করা হচ্ছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। পশুর নদীর চ্যানেল দিয়ে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে বাংলাদেশ কলকাতার নৌরুট ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ স্মাগলাররা পাচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বনসংলগ্ন নদী ও খাল থেকে প্রতিদিন ট্রলার ও নৌকায় ভরে শামুক আহরণ করা হচ্ছে। পরে এসব শামুক সড়কপথে ট্রাকে কিংবা নদীপথে ট্রলারে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অর্থের লোভ দেখিয়ে প্রান্তিক জেলেদের এ কাজে জড়ানো হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েকশ’ মণ শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বনবিভাগের বিশেষ অভিযানে প্রায় এক হাজার ৬০০ কেজি শামুক ও ঝিনুক উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বনবিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবন থেকে ধরে নিয়ে এসব ঝিনুক-শামুক পাচার করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া এসব ঝিনুক ও শামুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী লঞ্চ ঘাট থেকে উদ্ধার করা হয় ৭৫ বস্তা ঝিনুক-শামুক। যেখানে প্রায় এত হাজার কেজি শামুক ছিল। এসময় কওছার গাজী (৪৮) ট্রলার ড্রাইভারকে আটক করা হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১০টার সময় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের অধীন মহসিনের হুলো থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আট বস্তা (৬০০ কেজি) শামুক-ঝিনুক উদ্ধার করা হয়।
শামুক ঝিনুক পাচারে দুইটি সিন্ডিকেট খুব জোরালোভাবে কাজ করছে। একটি গ্রুপ সুন্দরবনের নৌ রুটে স্মাগলিং করছে। অন্য গ্রুপটি সড়ক পথে দালালের মাধ্যমে বস্তায় ভরে পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকা, চিটাগাংসহ বিভিন্ন স্থানে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। এক কেজি ঝিনুক বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিদেশে এর দাম কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় পাচারকারীরা ঝুঁকি নিয়েও প্রতিনিয়ত এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, এভাবে অবাধে ঝিনুক আহরণ করা হলে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। কারণ ঝিনুক নদী ও খালের পানি পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হ্রাস পেলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মাছের প্রজনন কমে যাবে।
স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনের নদীখাল যেমন কুনচিখাল, কাললাট, দলদুলির চর, কাঠেশশ্বর, কাইনমারীর চর, সাপখালির চর, পশুরতলা খাল, কৈখালীর মাদার নদী, জয়াখালী খাল, শাকবাড়িয়া নদী, কয়রা নদী ও কপোতাক্ষ নদসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থান হতে ঝিনুক উত্তোলন করে নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুসারে, নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে শামুক বা ঝিনুক আহরণ ও পরিবহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এ কাজ দ-নীয় অপরাধ।
জলজ প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, শামুক ও ঝিনুক নদীর তলদেশের মাটি ও পানির গুণগত মান বজায় রাখে। এগুলো নদীর প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, দূষণ কমায়, মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং মাছ ও কাঁকড়ার খাদ্যচক্র ধরে রাখে। ব্যাপক নিধন হলে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়বে।
সুন্দরবনের উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বস্তাভর্তি শামুকের স্তূপ। চারপাশে পচা দুর্গন্ধে টেকা দায়। তখনো নারী-পুরুষ ব্যস্ত শামুক তুলতে। আকলিমা খাতুন নামের এক নারী বলেন, ‘গাঙে শামুক কুড়িয়ে দিনে একশ’ কেজির মতো পাই। প্রতি কেজি পাঁচ টাকায় বিক্রি করি।’
কয়রার কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী গোবরা গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান মৃধা বলেন, জেগে ওঠা বালুচর থেকে দিনরাত শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। ট্রলারে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও শামুক একসঙ্গে ওঠানো হয়। পরে পানির স্রোতে বালু ধুয়ে ফেলে শুধু শামুক রাখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে আহরণকারীরা হুমকি দেন।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সদস্য সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শামুক কেবল পরিবেশ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিধন চলতে থাকলে উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর পেছনের ব্যবসায়ী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের সচেতন করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা জরুরি।সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের নতুন কৌশল হিসেবে শামুক নিধন ও পাচার শুরু করেছে একটি অসাধু চক্র। বন সংলগ্ন নদী-খাল থেকে প্রতিদিন ভোর কিংবা গভীর রাতে ট্রলার ও নৌকায় ভরে নির্বিচারে শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে এসব শামুক ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থের লোভ দেখিয়ে এই কাজে জড়ানো হচ্ছে প্রান্তিক জেলেদের। এভাবে কয়েকশো মণ শামুক একদিনেই সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শামুক হচ্ছে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এটি নদী-খালের তলদেশে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ করে পানির গুণগত মান ঠিক রাখে। কিন্তু নির্বিচারে শামুক নিধন করলে শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্যই নষ্ট হবে না, বরং জলজ প্রাণীদের খাদ্যচক্রেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।
‘নদীর পানিতে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরার প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে তাতে ছোট মাছ, চিংড়ির রেণু, কাঁকড়া এবং শামুক একসঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে। এটি শুধু জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ুতেও প্রভাব ফেলবে।’
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, এ পাচারচক্র শুধু শামুকই নয়, চিংড়ি আহরণের সময় বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করছে। মাছের ঝাঁক সহজে ধরতে নদী-খালের পানিতে মেশানো হচ্ছে কীটনাশক জাতীয় রাসায়নিক। এতে কয়েক মিনিটের মধ্যে ছোট মাছ, চিংড়ির রেণু, কাঁকড়া, কই, টেংরা থেকে শুরু করে অন্যান্য জলজ প্রাণী অচেতন হয়ে ভেসে ওঠে। জেলেরা তখন জাল দিয়ে সহজেই সেগুলো ধরে ফেলে। কিন্তু এর ফলে নদীর বাস্তুসংস্থান ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এসব রাসায়নিক পদার্থ শুধু মাছ বা রেণুকেই মারে না, পানির ভেতর থাকা অণুজীব, শৈবাল ও পলি জমাকেও ধ্বংস করে দেয়। ধীরে ধীরে নদীর তলদেশ শক্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, জৈব উৎপাদনশীলতা কমে যায়। এক সময় সেই নদী আর জীববৈচিত্র্য ধারণ করতে সক্ষম হয় না। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়বে সুন্দরবনের ভেতরের খাদ্যচক্র ও বন্যপ্রাণীর ওপরও।
স্থানীয়রা বলছেন, নদী-খালে শামুক কুড়াতে গিয়ে তলদেশ খনন করার কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর সংখ্যাও কমছে। সুন্দরবনের যেসব নদী ও খাল এতদিন স্থানীয় জেলেদের জীবিকার উৎস ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে নিঃশেষ হওয়ার পথে।
‘শামুক নিধন ও পাচার নজরে রয়েছে এবং বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান চলছে। মাঝে মাঝে বিপুল শামুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’
সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ এলাকার জেলে খানজাহান বলেন, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কিছু জেলেকে কাজে লাগাচ্ছে। প্রতিদিন নদী-খাল থেকে শামুক কুড়িয়ে ট্রাকে ভরে পাচার করছে। অথচ আমরা নদী রক্ষায় তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখি, কিন্তু শামুক নিধনের কারণে আমাদের সব পরিশ্রম ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, শামুক শুধু জলাশয়ের পানির গুণগত মান বজায় রাখে না, বরং মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও অপরিহার্য। নির্বিচারে শামুক নিধনের ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং জেলেদের জীবিকা উভয়ই হুমকির মুখে পড়ছে।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. অলিউর রহমান বলেন, শামুক তলদেশের জৈব পদার্থ খেয়ে পানিকে পরিশুদ্ধ রাখে। একইসঙ্গে মাছ, কাঁকড়া ও অনেক জলজ প্রাণীর জন্য এটি প্রধান খাদ্য। কিন্তু নির্বিচারে শামুক নিধন করলে খাদ্যচক্র ভেঙে যাবে, ফলে নদী-খাল উজাড় হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, নদীর পানিতে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরার প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে তাতে ছোট মাছ, চিংড়ির রেণু, কাঁকড়া এবং শামুক একসঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে। এটি শুধু জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ুতেও প্রভাব ফেলবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়বে, জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস হলে কার্বন শোষণের ক্ষমতাও কমে যাবে। তাই এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ভয়াবহ সংকটে পড়বে।
‘সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি পানির দূষণ কমাতে সহায়তা করে এবং মাছ ও কাঁকড়ার জন্য প্রধান খাদ্য।’
স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিডিওর পরিচালক আল ইমরান এ বিষয়ে বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি পানির দূষণ কমাতে সহায়তা করে এবং মাছ ও কাঁকড়ার জন্য প্রধান খাদ্য। শামুক নিধন চলতে থাকলে শুধু পরিবেশ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই এ অপতৎপরতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের স্মার্ট টহল টিমসহ কয়েকটি দল সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। অবৈধ কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাস ধরে শামুক পাচারচক্রের এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সম্প্রতি আমাদের একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ শামুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। শুধু বনাঞ্চলের ভেতরে নয়, পাশের লোকালয়েও পাচারচক্রের সক্রিয়তা রয়েছে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পশ্চিম সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান এই প্রতিবেদক কে বলেন, শামুক নিধন ও পাচার নজরে রয়েছে এবং বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান চলছে। মাঝে মাঝে বিপুল শামুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু শামুক নয়, বিভিন্ন অসাধু চক্র মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ সম্পদও অবৈধভাবে আহরণ করছে। এসব প্রতিরোধে টহল দল প্রতিদিন নদী-খালে নজরদারি করছে। মামলা করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
মশিউর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় জনগণ, বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য। তা না হলে অবৈধ কর্মকাণ্ড জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক নিধন ও পাচার বন্ধ করতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে বন ও পরিবেশ আইনে দ্রুত মামলা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নদী-খাল ও বন সংলগ্ন এলাকায় স্মার্ট টহল জোরদার, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত, স্থানীয় জেলেদের সচেতন করা, দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শামুক নিধনের পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে গবেষণা ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং কিছু অংশ ‘শামুক সংরক্ষণ এলাকা’ ঘোষণা করে সম্পূর্ণ নিধন নিষিদ্ধ করাপ্রতিনিয়ত সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সুন্দরবন থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার টন শামুক ঝিনুক। পাচার হয়ে দেশের চাহিদা মিটে বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে। শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের এ ধারা শুধু বনসম্পদ নয়, দেশের সামগ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুতর হুমকির সৃষ্টি করছে। সংঘবদ্ধের সাথে যারা জড়িত তারা রাতা রাতে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে। উপকূলের অধিকাংশ মানুষই জানে না শামুক ঝিনুক পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী একটি প্রাণী।
সুন্দরবনে ২৬০ প্রজাতির প্রাণী আছে তার মধ্যে শামুক ঝিনুক অন্যতম। প্রতিনিয়ত অবৈধ ভাবে আহরণের কারণে অনেক প্রাণী সুন্দরবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। শামুক ঝিনুক সুন্দরবনের নদীর তলদেশের মাটির ভারসাম্য রক্ষায় সহযোগিতা করে। পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ আশেক এলাহী জানান, শামুক ঝিনুক পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী। শামুকের চলাফেরার কারণে মাটির গুণগত মান বজায় থাকে। মাটির উর্বরতা ঠিক থাকে।
পাশাপাশি সুন্দরবনের নদীতে বসবাসরত মাছের খাদ্য তৈরি কাজে সহায়তা করে। সুন্দরবনে পটাশিয়ামের যোগান দিয়ে থাকে। সুন্দরবনের ভিতরে যা কিছু আছে সব কিছু নিয়েই সুন্দরবন সুতরাং সুন্দরবনকে রক্ষিত রাখতে কোন প্রাণী ধরা ঠিক না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। লেখক গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন শামুক ঝিনুক এরা পানির গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়ক এবং নদীর তলদেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
কিন্তু ব্যাপক হারে এদের নিধন নদী জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে শামুক ও ঝিনুক কুড়িয়ে নেওয়া বা পরিবহন করা নিষিদ্ধ। এসব প্রাণী পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও গাবুরা গ্রামের ইউনুস আলী, রমজান নগর মিঠু, আশারাফ, হানিফ, কৈখালী গ্রামের এশার আলী সহ একাধিক ব্যক্তির নেতৃত্বে সুন্দরবনের পশুরতলা খাল, কৈখালীর মাদার নদী ও জয়াখালীর খাল, সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে।
সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ করে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে নিয়ে আসে। পার্ক এলাকা থেকে নাম প্রকাশ ও অনিচ্ছুক জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে শামুক ঝিনুক নিয়ে এসে পার্কে সে জড়ো করে তারপরে সাইফুলের নেতৃত্বে ১৫ টাকা দরে কিনে ৮০ টাকা দরে পদ্মা হ্যাচারিতে বিক্রি করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে নদী সীমান্ত পথে এসব জলজ প্রাণী ভারতে পাচার করা হয়ে থাকে। এই শামুক ঝিনুক চক্রকে ঠেকাতে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা যায়। আগস্ট মাসের শুরু দিকে পার্ক সংলগ্ন মালঞ্চ নদী থেকে শামুক ও ঝিনুক ভর্তি নৌকা জব্দ করেছে মুন্সিগঞ্জ ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির সদস্য ও নৌ পুলিশ। এর কিছুদিন পরে বন বিভাগের কদমতলা স্টেশন থেকে দশ বস্তা সামুক ঝিনুক উদ্ধার করে নদীতে ছেড়ে দেন।
শ্যামনগর উপজেলার পরিবেশকর্মী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু অভিযান চালিয়ে নৌকা জব্দ করলেই হবে না। এ চক্রের মূলব হোতারা কোথা থেকে পরিচালনা করছে তা খুঁজে বের করতে হবে। সুন্দরবন ও উপকূল রক্ষা করতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে।
এ বিষয়ে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, শামুক ও ঝিনুক কেনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার পাশাপাশি আরো অনেকে কেনেন। এই শামুক গুলো আমরা কিনে পদ্মা হ্যাচারীতে বিক্রি করি। জীবিত শামুক গুলো বেশিরভাগ থাইল্যান্ড, ব্যাংককে যায়। শামুক ঝিনুক ধরার সরকারি অনুমোদন আছে। জেলেরা বিভিন্ন জায়গা থেকে শামুক ঝিনুক ধরে আমাদের কাছে নিয়ে আসে।
এ বিষয়টা নিয়ে বন বিভাগ অনেক আগে ধরার পারমিশন দিত এখন আর দেয় না। পদ্মা হ্যাচারীর দায়িত্ব থাকা মোঃ মিজানুর জানান, শামুক ঝিনুক ধরার সরকারি অনুমোদন আছে সেই অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে শামুক ঝিনুক কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করি। বেশিরভাগ শামুক ঝিনুক সাইফুলের কাছ থেকে নিয়ে থাকি তাছাড়া আরো অনেকেই দেয়। জীবিত শামুক গুলা বিদেশীরা খেয়ে থাকে আর মরা শামুকগুলো চুন তৈরি করে বাংলাদেশে বিক্রি হয়।
শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: তৌহিদ হাসান বলেন, শামুক মৎস্য সম্পদের আওতাভুক্ত তবে কোন সীমাবদ্ধ জায়গা থেকে শামুক ধরার অনুমোদন দেওয়া হয় না। এটি যদি কেউ ধরে তাহলে আইনগতভাবে অপরাধ। আর সুন্দরবন এরিয়া থেকে তো ধরাই যাবে না। জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন জায়গা থেকে যেকোনো প্রাণী ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ। বন বিভাগের অভিযানের ক্ষেত্রে যদি আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন মনে হয় আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করবো।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি । শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ ও পাচার সরাসরি নদী সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া এ ধরণের অপরাধ দমন করতে স্থানীয়দের সহযোগিতাও প্রয়োজন। পাচার চক্রকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বন বিভাগ কাজ করছে।খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাটসহ দেশের দক্ষিণ পশ্চিমঞ্চলের খাল বিলসহ বিশেষ করে সুন্দরবন থেকে শামুক নিধন হচ্ছে সুন্দরবন বিশ্বের জন্য এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি আমাদের জীবনের রক্ষাকবচ, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচায়, আবার মাছ, কাঁকড়া, শামুকসহ অসংখ্য প্রাণীর আশ্রয়স্থল। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এই সুন্দরবনের নদী-খাল থেকে হুড়মুড় করে শামুক সংগ্রহ করে পাচার করা হচ্ছে। দরিদ্র মানুষ অল্প টাকার লোভে যুক্ত হচ্ছে, আর এর সুযোগ নিচ্ছে বড় ব্যবসায়ী আর পাচারচক্র। শামুক কোনো সাধারণ প্রাণী নয়। এটি পানিকে পরিষ্কার রাখে, নদী-খালের ভারসাম্য বজায় রাখে। মাছ, কাঁকড়া ও অনেক জলজ প্রাণীর প্রধান খাবারও হলো শামুক। যদি এভাবে নির্বিচারে শামুক ধরা চলতে থাকে, তবে মাছ ও কাঁকড়ার সংখ্যাও দ্রুত কমে যাবে। এতে জেলেরা জীবিকা হারাবে, নদী-খালের প্রাণ হারাবে আর পুরো সুন্দরবনের পরিবেশ বিপর্যন্ত হবে। আরও বড় ক্ষতি হচ্ছে, অনেকেই শামুক বা মাছ ধরতে বিষ ব্যবহার করছে। এতে একসঙ্গে হাজার হাজার জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। নদীর প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে, যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য ভয়ংকর
সংকেত। কিন্তু সমাধান আছে। সুন্দরবনের ভেতর থেকে শামুক আহরণ না করে উপকূলের চিংড়ি বা মাছের ঘেরে শামুক চাষ করা সম্ভব। বিদেশে শামুকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সঠিকভাবে উদ্যোগ নিলে শামুক চাষ থেকে মৎস্যচাষিরা বাড়তি আয় করতে পারবেন। এতে একদিকে মানুষের জীবিকা টিকবে, অন্যদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে। সরকার যদি এ ধরনের উদ্যোগে সহায়তা দেয়, প্রণোদনা দেয়, তাহলে বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং পাচারচক্রের দৌরাত্ম্যও কমবে।
শামুক পাচার বন্ধ করতে হলে কেবল অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়। পাচারকারীদের আসল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কেবল শ্রমিক পর্যায়ের মানুষ ধরা দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে বোঝাতে হবে, শামুক নিধন মানে নিজেদের ভবিষ্যতের জীবিকা ধ্বংস করা। এজন্য স্কুল-কলেজে সচেতন-তা কর্মসূচি, এনজিও ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রচারণা চালানো দরকার।
সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখা মানে আমাদের নিজেদের জীবনকে টিকিয়ে রাখা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে সুন্দরবনকে বাঁচানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই এখনই সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শামুক নিধন ও পাচার বন্ধ করা শুধু একটি প্রাণীর জীবন রক্ষা নয়, বরং পুরো সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতিকে বাঁচানো। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ রেখে যেতে হলে আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে।বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত হওয়া সত্ত্বে প্রকৃতি যেন নিজেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আরো সৌন্দর্যময় করার চেষ্টায় থাকে সবসময়। তাইতো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ধরে হাটার সময় পর্যটকদের নজর কাড়ে বালিয়াড়িতে পড়ে থাকা বিচিত্রসব রঙিন শামুক-ঝিনুক। সৈকতের পাশে এসব শামুক-ঝিনুককে নিয়ে ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছে শত শত দোকান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে আগে এখানে ৩১৭ প্রজাতির মতো শামুক-ঝিনুকের অস্তিত্ব থাকলেও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এর নির্বিচারে নিধন ও আহরণের ফলে বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৫০ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক।
কক্সবাজার জেলার লাবণী, সী-ইন কলাতলী, হিমছড়ি, এসব এলাকা ছাড়াও মহেশখালী, কুতুবদিয়া , ইনানী, উখিয়া-টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের কূলে শামুক-ঝিনুক দেখা যায়। এই সব শামুক-ঝিনুক দিয়ে তৈরী সামগ্রী গুলো কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের নিকট বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে উদ্বেগের বিষয় এই গভীর সমুদ্রে ব্যাপক হারে শামুক-ঝিনুক আহরণের ফলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ২৭০ প্রজাতির বিরল শামুক-ঝিনুক । সেন্টার ফর কোস্ট ক্লাইমেট এন্ড কমিউনিটিস ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ এর যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বিরল এসব প্রজাতি অবাধে বিক্রি হচ্ছে কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের সমুদ্র সৈকত গুলোতে।
কক্সবাজার আর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সারিসারি দোকান দেখা যায় শামুক,ঝিনুকের । তার মধ্যে চিলশামুক, জলসংখ, নীলসংখ, নকশি ঝিনুক সহ অন্তত পঞ্চাশ প্রজাতির শামুক ঝিনুক প্রজাতি অবাধে বিক্রি হচ্ছে সৈকতে। আর এসব মূল্যবান শামুক ঝিনুক দিয়ে তৈরীকৃত নানারকম শোপিচ,গহনা প্রিয়জনকে উপহার দিতে কিনে নিচ্ছেন কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা।
মেরিন সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর সাইদুর রহমান চৌধুরী জানান, প্রতিবছর গভীর সমুদ্র থেকে মাছ শিকারের সময় অন্তত ১০০০ মেট্রিক টন শামুক ঝিনুক আহরণ করছে জেলেরা। ২০১৪ সালে আমাদের গবেষণায় যেখানে ৩১৭ প্রজাতির শামুক ঝিনুক সন্ধান পাওয়া গেছে এখন সেখানে দেখা মিলছে ৫০ প্রজাতির। এটি রোধ করা না হলে পযর্টন রাজধানী কক্সবাজার আর প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের পুরোটাই পড়বে হুমকির মুখে।
শামুক-ঝিনুক অবৈধ আহরণের সত্যতা নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, শামুক-ঝিনুক পরিবেশ রক্ষার একটি উপাদান। আর রাতের আধাঁরে কিছু অসাধু জেলে অবৈধ ভাবে শামুক-ঝিনুক অহরণ করে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি করছে। গত মাসেও কক্সবাজার রেজুরখাল থেকে থেকে ৯ মেট্রিক টন শামুক-ঝিনুক জব্দ করেছি । এর মধ্যে মামলাও হয়েছে। তবে লোকবলের অভাবে এত বড় উপকূলে পাহারা দেয়া সম্ভব হয় না। তবু যতটুকু সম্ভব নিয়মিত আমরা উপকূলে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাকৃতিক এই সম্পদ রক্ষায় আমরা সদা সচেষ্ট আছি।
কক্সবাজার পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলন কর্মী সাংবাদিক তৌফিক লিপু জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপকূলে শামুক-ঝিনুক আহরণ চলছে নিয়মনীতি তোয়াক্ক করে । মাঝে-মধ্যে ধরপাকড় হয়, যেটা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। একটি সিন্ডিকেট পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে তোয়াক্কা না করে শামুক-ঝিনুক পাচার করে যাচ্ছে। ঝিনুক শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উত্তরণের জন্য সরকারীভাবে একটি নীতিমালা প্রণয়ন, বিলুপ্ত প্রজাতির শামুক ঝিনুক রক্ষায় রক্ষিত জোন সৃষ্টি করা জরুরী। অন্যথায় কক্সবাজার সৈকতে অবাধে শামুক ঝিনুক আহরণ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের হুমকি হবে চরম।