সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সুন্দরবনে বনদস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধ, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় রোধ এবং জেলে-বাওয়ালিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে জেলে ও বনজীবীরা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটনের নেতৃত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে জেলে-বাওয়ালিদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরে এসব অপরাধ বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলের হাজারো মানুষের জীবিকা এই বনের ওপর নির্ভরশীল। মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা। কিন্তু বনদস্যুদের ভয়ে তাঁরা এখন নিরাপদে বনে যেতে পারছেন না। অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় অনেক পরিবার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম মানসিক উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বক্তারা সুন্দরবনের নদী ও খালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার, বনদস্যুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং বনজীবীদের সুরক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে কার্যকর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান তাঁরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, বনদস্যুদের নির্মূল এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এর আগেও পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এবার ঘোষিত সাত দিনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে। এরপরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জেলে ও বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে উপকূলের মানুষের নিরাপদ জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।