পাইকগাছায় পৌরসভার রাস্তা কেটে মাটি ফেলে গাছ রোপণ; চলাচলে চরম দুর্ভোগ

প্রকাশঃ ২০২৬-১০-২৭ - ১৮:২৮
পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি সরকারি ইটের সোলিং রাস্তা জবরদখল করে ইট তুলে মাটি দিয়ে গাছ লাগানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ ও ক্ষোভের মধ্যে পড়েছেন স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পৌরসভার প্রশাসকের দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আইন উদ্দীন গাজী ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে পৌরসভার তৈরি পাকা ইটের সোলিং রাস্তার একটি অংশের ইট সরিয়ে সেখানে মাটি ফেলেন এবং পরবর্তীতে গাছ রোপণ করেন। এর ফলে জনবহুল রাস্তাটির প্রশস্ততা অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকাবাসী এই স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্ণপাত না করে উল্টো তাদের নানাভাবে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান। ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি নিজের জায়গা পেয়েও থাকেন, তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে যখন রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন তিনি কোথায় ছিলেন? কেন তখন তিনি কোনো বাধা দেননি? কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর কয়েক বছর পর এভাবে জোরপূর্বক রাস্তা কেটে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও আইনবিরোধী বলে দাবি করেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আইন উদ্দীন গাজী নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “রাস্তাটি কি সম্পূর্ণ আমার জায়গার ওপর দিয়ে করা? তাছাড়া আমার পাশের জমিওয়ালা ইসার উদ্দিনের ভেতরেও আমার জায়গা আছে। আমি আগেও বাধা দিয়েছি; আমি ইউএনও অফিস, এসিল্যান্ড অফিস, পৌরসভাসহ সবখানে অভিযোগ করেছি কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি, তাই বাধ্য হয়ে এটা করেছি। ওই রাস্তার বিপরীত পাশের মালিক যদি এক হাত দেয়, আমি দুই হাত দেব। আমিও আমার জমির সমাধান চাই।”  ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ বলেন, “আমিও এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এটি পৌরসভার তৈরি করা একটি ইটের সোলিং রাস্তা। সেখানে ইট তুলে মাটি দিয়ে গাছ লাগানোর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা মাটি তুলে গাছ লাগিয়েছেন, তাদের ডেকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম- আপনারা কি এটা ঠিক করেছেন? উত্তরে তারা বলেছেন, ‘রাস্তার ভিতরে আমরা জায়গা পাবো তাই মাটি দিয়ে গাছ লাগিয়েছি।’” তিনি দ্রুত এই অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লালু সরদার জানান, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পর পৌর প্রশাসক স্যারের নির্দেশনায় সেখানে গিয়ে সরেজমিনে সবকিছু দেখে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে স্যারকে অবহিত করে দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে দ্রুত এর একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারি।” এদিকে রাস্তাটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় এলাকার নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনস্বার্থে দ্রুত এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে রাস্তাটি পূর্বের প্রশস্ততায় ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।