ডেস্ক রিপোর্ট : ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনে ইসরায়েলি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কারচুপি ও চুরির যে অভিযোগ তুলেছিল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল লিকুদ পার্টি, সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে পুলিশ।
একাধিক হিব্রুভাষী সংবাদমাধ্যমকে ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, “এবারের নির্বাচনে অনিয়ম খুব কম ঘটেছে। এমনকি আগের নির্বাচনগুলোর তুলনাতেও এবারে নির্বাচনে অনিয়ম বা এ জাতীয় ঘটনা অনেক কম।”
ইসরায়েলি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির যে অভিযোগ লিকুদ পার্টি তুলেছে, সে সম্পর্কে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, “এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে এমন দাবির পক্ষে তদন্তমূলক কিংবা গোয়েন্দাভিত্তিক কোনো তথ্য প্রমাণ আমরা এখনও পাইনি।”
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ২৬তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গতকাল। আর এবারের নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে ইসরায়েলি আরব দলগুলো। এই প্রথম তারা তারা নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে। এর আগে কোনো নির্বাচনে এত সংখ্যক আসনে জয়ী হয়নি ইসরায়েলি আরব দলগুলো।
এই উত্থানকে স্বাভাবিক কারণেই ইতিবাচকভাবে নেয়নি লিকুদ পার্টি। আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে ২৮ ফেব্রুয়ারি লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েলের নির্বাচন আরব দলগুলো হাতে চুরি হয়েছে—যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেয় এবং গুরুতর দুর্নীতি, হুমকি, সহিংসতা, মিথ্যাবাদের মাধ্যমে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে নির্মূল করতে চায়। তারা নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভোটারদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা এসবের প্রমাণ কর্তৃপক্ষকে প্রদান করছি।”
নির্বাচনে গৃহীত ভোটের প্রায় সবই বেশি ইতোমধ্যে গণনা করা হয়ে গেছে। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ১২০ আসনের মধ্যে ৫৩টিতে জয়ী হয়েছে লিকুদ পার্টি এবং তার নেতৃত্বাধীন জোটের রাজনৈতিক দলগুলো এবং ৪৮টি আসনে জয়ী হয়েছে গাদি আইজেনকোটের রাজনৈতিক দল ইয়াশার ও তার নেতৃত্বাধীন জোট।
অর্থাৎ এককভাবে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এই পরিস্থিতি এ দুই জোটের কোনো একটি যদি সরকার গঠন করতে চায়, তাহলে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।