মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় ৫ জনের প্রাণহানি

প্রকাশঃ ২০২৬-১১-০১ - ১৭:৪৯

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়েছে একাধিক গোষ্ঠী। জাতিগত সংঘাতকবলিত রাজ্যটিতে পৃথক দুটি ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজ্যটির পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার রাজ্যের ননি জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে কুকি সম্প্রদায়ের তিনজন পুরুষ নিহত হয়েছেন।

আরেক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করার পর রোববার সকালে কাংপোকপি জেলা থেকে একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হয়েছিলেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুকি সম্প্রদায়ের একটি শীর্ষ সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে দায়ী করেছে। সংগঠনটি ঘটনাটিকে ‘তাদের মাতৃভূমিতে সরাসরি ও বিনা উসকানিতে হামলা’ বলে বর্ণনা করেছে।

কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের শনিবার রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।

মণিপুরে প্রধানত খ্রিস্টান কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে ভূমির মালিকানা ও নিজস্ব ভূখণ্ডের দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের লোকজনের হাতে এক নাগা ব্যক্তি হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে তিনজন কুকি যাজক নিহত হন। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সাম্প্রতিক কুকি-নাগা সংঘর্ষ মণিপুরের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। রাজ্যটিতে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে কুকি ও প্রধানত হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত চলছে। অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ নিয়ে বিরোধ থেকে ওই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

চলমান এসব সংঘাতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের অনেকে এখনও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।