খুলনার প্রান কেন্দ্রে তাঁত বস্ত্র মেলা : উচ্চ শব্দে বিপাকে পরিক্ষার্থীরা

আজগর হোসেন ছাব্বির : এস এস সি পরিক্ষার মধ্যেই নগরীর প্রান কেন্দ্রে মেলা। আবাসিক এলাকার মাঝে অবস্থিত মেলা প্রাঙ্গনে সার্বক্ষনিক উচ্চ শব্দের গানবাজনায় শব্দ দুষনে এসএসসি পরিক্ষার্থীরা বিপাকে। অতিষ্ঠ নগরবাসীর মেলা বন্ধের দাবী। খুলনা পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) আয়োজনে চলমান তাঁত বস্ত্র ও হস্ত কুটির শিল্প মেলার কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম মোড় পুলিশ ক্লাব মাঠে গত ১০ ফেব্রুয়ারী হতে শুরু হয়েছে তাঁত বস্ত্র ও হস্ত কুটির শিল্প মেলা। পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি(পুনাক) এই মেলার আয়োজক। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মেলাটি চলবে বলে জানা গেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এর মেয়াদকাল বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। মেলা পরিচালনা কমিটির সাথে কথা বলে জানা যায় মোট ৪৭ টি ষ্টল আছে মেলায়। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলে মেলা। বিভিন্ন ষ্টল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় সকালে শুরু হলেও মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভীড় শুরু হয় বিকাল থেকে। এখানে কসমেটিকস, জুতা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, গার্মেন্টস, বাচ্চাদের খেলনা, গৃহস্থলির আসবাবপত্র, ক্রোকারিজের সামগ্রী বেচা বিক্রি বেশী হচ্ছে। এ ছাড়া এখানে আছে নানা বয়সিদের জন্য রাইড ম্যাজিক নৌকা, ট্রেন, ঘোড়া, এবং এয়ারগান শুটিংয়ের ব্যবস্থা। আগত ক্রেতা দর্শনার্থীদের কথা হলে তারা জানায়, এখানে জায়গাটি ছোট হওয়ায় প্রত্যাশা অনুযায়ী ষ্টল সংখ্যা কম, তাছাড়া মেলায় তেমন ডিসকাউন্ট ও দেখছিনা। তারপর ও যতটুকু আছে তারা খুশী। তবে মেলার সময়টি এসএসসি পরিক্ষার আগে অথবা পরে হলে ভাল হত বলে তারা মনে করে। বিভিন্ন ষ্টল মালিকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন বেচা কেনা যা হচ্ছে সেটাতে খুব বেশী না হলেও মোটামুটি খারাপ বলা যাবেনা। আয়োজক কমিটি পুনাকের পরিচালিত দোকানে মিলছে ওয়ানপিচ টুপিচ, শাড়ী, বেডকভার, ব্যাগ, এসি ফ্রিজ ও রাইচ কুকারের কাভারসহ নানা সামগ্রী। সেখানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান বলেন প্রতিদিন ৫/৬ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে তাদের দোকানে। এদিকে নগরীর প্রান কেন্দ্রে ঘনবসতিপূর্ন আবাসিক এলাকার মাঝে চলমান এই মেলা এবং মেলার পরিবেশ নিয়ে জনসাধারনের মাঝে নীতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে এস এস সি ও সমমানের পরিক্ষা চলাকালীন মেলায় দিনরাত উচ্চ শব্দে চলা সাউন্ডে আশ পাশের পরিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বিঘœ ঘটছে। এ ব্যাপারে কথা হয় মেলা পরিচালনা কমিটির প্রধান মোঃ রাসেল মিয়ার সাথে। শব্দ দুষনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, পরিক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে খুব কম সাউন্ডে বাজানো হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে তিনি বলেন প্রচার স্বল্পতাসহ নানা কারনে প্রথম দিকে মেলা ঠিক জমেনি। তবে ধীরে ধীরে ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে। সুতরাং সার্বিক বিষয়গুলি অনুকুলে থাকলে মেলার মেয়াদকাল বাড়লেও বাড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক এস এস সি পরিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা অভিযোগ করে বলেন, চারিপাশে আবাসিক ভবন পরিবেষ্টিত এলাকায় পরিক্ষার মাঝে এমন মেলা আয়োজনে তারা হতভাগ। মেলার জন্য বিকাল থেকে ওই সড়কে যানযট লেগেই থাকে। মুজিব বর্ষে সরকার যেখানে শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, সেখানে উচ্চ শব্দের গানবাজনাসহ পরিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মারাতœক প্রতিবন্ধক এই মেলা বন্ধের জোর দাবী জানান তারা।

আপনার মতামত জানানঃ