৮৬ হাজার বন্দির জন্য চিকিৎসক মাত্র ১০ জন!

ঢাকা অফিস : দেশে মোট কারাগার ৬৮টি। যার মোট ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার। কিন্তু এর বিপরীতে বন্দির সংখ্যা ৮৬ হাজার। এই বন্দিদের চিকিৎসার জন্য মাত্র ১০ জন চিকিৎসক আছেন। তবে, ৬৮টি কারাগারে চিকিৎসকদের অনুমোদিত পদ আছে ১৪১ টি। ফলে, অসুস্থ হলেই চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় বাইরের চিকিৎসকদের কাছে। আর অ্যাম্বুলেন্স আছে মাত্র ১৫টি। কর্তৃপক্ষ বলছে শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পাঠাতে হয় বাইরের চিকিৎসকের কাছে, কখনও কখনও হাসপাতালে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে এমন পরিস্থিতিতে বন্দির মৃত্যুর মত ঘটনাও ঘটেছে।

আবার চিকিৎসা সংকটের সুযোগ নিয়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ধর্ষ ও ভিআইপি বন্দিরা বিভিন্ন রোগের অজুহাত দেখিয়ে মাসের পর মাস কারাগারের বাইরের হাসপাতালে থাকছেন।

এমন সমস্যা সমাধানে এবার উদ্যোগী হয়েছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা। গঠন করা হচ্ছে একটি চিকিৎসক পুল।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ‘আমরা যেন চিকিৎসক পেতে পারি সে কারণে প্রধানমন্ত্রী একটি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি চিকিৎসক পুল গঠনের জন্য। যাতে করে সে পুল থেকে কারাগারেও চিকিৎসক পেতে পারি এবং সকল কারাবন্দিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা যেতে পারে।’

আর অসুস্থ বন্দিদের হাসপাতলে নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্সও নেই কারাগারগুলোতে। ফলে ভরসা করতে হয় ভাড়া করা গাড়ির ওপর। কর্তৃপক্ষ বলছে অ্যাম্বুলেন্স কেনার জন্য এরই মধ্যে একটি যাচাই-বাছাই কমিটি হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা জানান, চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল মাত্র ১৫টি অ্যাম্বুলেন্স থাকার বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে করেন। পাশাপাশি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কারাবন্দিদের চিকিৎসা-সংকট কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেন কারামহারিদর্শক।

বটিয়াঘাটায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত

বিজ্ঞপ্তি : বায়ু দুষণ রোধ করি, বাসযোগ্য ভবিষ্যত গড়ি এই ম্লোগানকে সামনে রেখে বটিয়াঘাটায় লোকজের উদ্যোগে পালিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৯। মিজরিও-জার্মানী আর্থিক সহায়তায় আজ বুধবার বটিয়াঘাটা টেকনিক্যাল এ্যান্ড বিএম কলেজ মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। লোকজের নির্বাহী পলিচালক দেবপ্রসাদ সরকারের সভাপতিত্ব এবং সমন্বয়কারী পলাশ দাশের সঞ্চালায় অনুষ্ঠিত পরিবেশ দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান দিপ্তী রাণী মল্লিক, মুক্তিযোদ্ধা এস এম দেলোয়ার হোসেন, কবিরাজ আউয়ুব আলী হালদার এবং লোকজের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মিলন কান্তি মন্ডল প্রমুখ:।
আলোচনা সভায় বক্তরা পরিবেশ সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সম্পদের ভোগ ও উপভোগ যাতে পৃথিবীর প্রাণশক্তিকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে এবং প্রকৃতিকে বিরূপ করে না তোলে, সে জন্য এলাকাবাসীকে সচেতন করতেই পরিবেশ দিবসের আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচকরা বলেন, অগণিত মানুষের অনেক স্বপ্ন পূরণের জন্য রয়েছে একটি মাত্র পৃথিবী। তাই এ পৃথিবীকে লালন করতে হবে অনেক যতে্ন পৃথিবীর প্রতিবেশব্যবস্থা এখন সংকটের মুখোমুখি। প্রকৃতির ওপর কৃত্রিম উপকরণ ও অনুপযোগী প্রযুক্তির অত্যধিক প্রয়োগ, বিজ্ঞানের অপব্যবহার, অপরিণামদর্শী উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং যথেচ্ছ প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের ফলে পৃথিবী ক্রমশ নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এখন সময় এসেছে লাগাম টেনে ধরার। এই ধরণীকে রক্ষা করতে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে বছরে পাঁচটি করে গাছ লাগানোর অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

খুলনা সরকারি শিশু পরিবারে (বালক) অনিয়মের অভিযোগ : খাবার নিন্মমানের

খেলতে দেয় না, কাজ না করলে মারধর

কামরুল হোসেন মনি : পরিবারের অনটনের কারণে কিংবা অনাথ হওয়ায় যাদের আশ্রয় হয় সরকারি শিশু পরিবারে। সেখানে বর্তমানে ৮০ জন বালকের ভাগ্যে প্রতিদিনই জুটছে নিন্মমানের খাবার ও পরিমাণও কম। বাবুর্চির সাথে কাজে সহযোগিতা না করলে তাদের ওপর চলে নির্যাতন। কেউ অভিযোগ দিলেই কোনো কারণ ছাড়াই বের করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। উপ-তত্ত্বাবধায়কের কাছে অভিযোগ দিলে উল্টো অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হয়। খুলনা দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা সরকারি শিশু পরিবার (বালক) এই চিত্র।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আয়নাল হক মঙ্গলবার সকালে এ প্রতিবেদককে বলেন, কোনো অনিয়ম হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। খাবার সরবরাহ করা হয় ঠিকাদারের মাধ্যমে। তারা যদি কোনো অনিয়ম করে থাকেন তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ৮০ জন বালক সেখানে রয়েছে। প্রতি মাসে জনপ্রতি বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৬শ টাকা।
খুলনা মহেশ্বরপাশায় সরকারি শিশু পরিবার (বালক) উপ-তত্ত্বাবধায়ক আফরোজা সুলতানা এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, কোনো তথ্য নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আসেন।
গত ৩১ মে এই প্রতিবেদকের সাথে সরকারি শিশু পরিবার (বালক) কয়েকজন এতিম নিবাসীর কথা হয়। কথা বলার আগে তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। মামুন (ছদ্মনাম) ফুলবাড়িগেট সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পড়াশুনা করেন। গাইড বই না থাকার কারণে পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়ছেন। কর্তৃপক্ষকে বললে উল্টো ধমক দিয়ে বলেন বাজেট নেই। বছরের একবার মাত্র এক জোড়া স্যান্ডেল দেন। ছিঁড়ে গেলে খালি পায়ে হাঁটতে হয়। কাপড় চোপড়ও নি¤œমানের। প্রতিদিন সকালে খিচুড়ি। খাবারের তালিকায় ডিম থাকলেও কেউ পায় কেউ পায় না। মুরগি এক পিস (খুব ছোট) দেয়। ১০ বছর হয়েও গেলে অনেক বালককে এখনও ভর্তি করানো হয়নি। অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের জন্য কোনো ব্যক্তি ছাগল কিনে দান করলেও ওই দিন খাওয়ায় না। ওটা রেখে দিয়ে সরকারি বিশেষ দিনে ওটা খাওয়ানো হয়। কর্র্তৃপক্ষ নিজেই কিনেছেন সেই খরচটা দেখিয়ে দেন। সপ্তাহে তিন দিন মুরগি, ২ দিন মাছ ও ২ দিন ডিম (শুধু দুপুরে) দেন। প্রতিদিন সকালে শুধু খিচুড়ি খেতে দেয়।
বিকেলে খেলতে দেয় না, টিভিও দেখতে দেয় না। কোনো কিছু বললে আমাদেরকে মারধর করেন।
বাবুর্চি প্রভাতের সাথে রান্নার সময় কাজ না করলে আমাদেরকে মারধর করেন। অফিস সহকারী দিবাস ছেলেদেরকে মারধর করেন। এক ছেলেকে মাথায় বাড়ি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলো।
তাদের এ সব অভিযোগগুলো সরকারি শিশু পরিবার (বালক) উপ-তত্ত্বাবধায়ক আফরোজা সুলতানাকে বলা হলেও উল্টো বলেন, আমাদের স্টাফদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিবে না, তাহলে বের করে দিবো। ঈদের কয়েকদিন আগে ১০-১২ জনের নাম কেটে দিয়েছে।
এ বিষয়ে গত ৩১ মে স্টাফ বিজন কৃষ্ণ শিকদার এই প্রতিবেদককে বলেন, এক বালকের জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার ৫শ টাকা বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে পোশাকের জন্য প্রতি মাসে ১৬৫ টাকা, খাওয়া বাবদ ২ হাজার টাকা, প্রসাধনী বাবদ ৭০ টাকা, লেখাপড়া বাবদ ২০০ টাকা ও চিকিৎসার জন্য ৬০ টাকা খরচ ধরা হয়। খাবার কম ও নিন্মমানের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার ওয়াহিদের মাধ্যমে খাবার এখানে দেওয়া হয়। মাংসের পরিমাণ কম বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর মাংসের পরিমাণ ছিলো ১১০ গ্রাম এবার ৮৫ গ্রাম করে দিচ্ছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মাংসের পরিমাণ কম বলে তিনি দাবি করেন।
খাবার বাবদ এ শিশু পরিবারের বালকদের মাথাপিছু মাসিক বরাদ্দ ২ হাজার টাকা। কিন্তু তাদের যে মানের খাবার দেওয়া হয়, তাতে বড় জোর বরাদ্দের এক তৃতীয়াংশ টাকা খরচ হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ এতিমখানার একাধিক বালক এ প্রতিবেদককে জানায়, সকালে এক প্লেটের বেশি খিচুড়ি দেওয়া হয় না। অনেকের পেটও ভরে না।