খুলনা জেনারেল হাসপাাতালে টেস্টের নামে বাণিজ্যের ফাঁদ!

সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার : ‘খুলনা জেনারেল হাসপাাতালে টেস্টের নামে বাণিজ্যের ফাঁদ!’ (গাইনী ও অবস ) ডা: ফারহানা হকের কাছে শুধু সন্ধানী টেস্টের রিপোর্ট এলাও শীর্ষক শিরোনামে গত ১৫  সেপ্টেম্বর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ঘটনার বিষয়ে তিন সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা জেনারেল হাসপাতাল সিভিল সার্জনের নির্দেশে এই কমিটি গঠন করেন।
জানা যায়, উক্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটিতে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনস্যালটেন্ট (সার্জারি) ডা: রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করা হয়। এছাড়া অন্য দুই সদস্যরা হলেন গাইনী জুনিয়ার কনস্যালটেন্ট ডা: ইসমত আরা ও আরএমও ডা: এস এম এ মুরাদ হোসেন।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা: সুজাত আহমেদ বলেন, ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, খুলনা জেনারেল হাসপাতালে টেস্টের নামে বাণিজ্যের ফাঁদে নেমেছেন কতিপয় চিকিৎসক। তাদের মনোনীত নির্দিষ্ট ডায়াগণস্টিক সেন্টারে রোগীরা টেস্ট করিয়ে না আনলে পুনরায় তাদের মনোনীত ডায়াগণস্টিক সেন্টারের প্রেরণ করছেন। এমন ঘটনা ঘটছে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেনারেল হাসপাতালে (গাইনী ও অবস) মেডিকেল অফিসার ডা: ফারহানা হকের বিরুদ্ধে নগরীর সন্ধানী ডায়াগণস্টিক সেন্টারের টেস্টের রিপোর্ট ছাড়া অন্য কোন মানসম্মত ডায়াগণস্টিক সেন্টারের টেস্ট তার কাছে গ্রহণযোগ্য না। এমনি অভিযোগ করেন গাইনী চিকিৎসা নিতে আসা হোসনেয়ারা। তার এসব বক্তব্য এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। হোসনেয়ারা জানান, তিনি গত কয়েকদিন আগে এই হাসপাতালে বহি: বিভাগের ডা: ফারহানা হকের চিকিৎসা সেবা নিতে আসি। তিনি আমাকে একটা টেস্টে করতে দেন। সেই সাথে আমাকে নগরীর সন্ধানী ডায়াগণস্টিক সেন্টার থেকে টেস্ট করিয়ে আনার জন্য আমাকে নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু আমি তার কথা মতো সন্ধানী ডায়াগণস্টিক সেন্টারে না গিয়ে আমার পরিচিত আত্মীয়র ডায়াগণস্টিক সেন্টার থেকে টেস্ট করিয়ে নেই। সোমবার হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে ওই গাইনী ডাক্তারের কাছে আমার রিপোর্টগুলো নিয়ে হাজির হই। তিনি আমার টেস্টের রিপোর্টগুলো দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। আমার দেয়া ডায়াগণস্টিক সেন্টার থেকে কেন করেনি তার জবাব চাইলে আমি বলি অন্যা জায়গায় করালে ২০০ টাকায় কমে পাবো। আমি গরীব মানুষ তাই যেখানে একটু কম টাকায় করাতে পারবো সেখান থেকেই তো করাবো। তিনি আবার পুনরায় আরেকটি টেস্টে দিয়ে বলেন, এই টেস্ট অবশ্যই সন্ধানী থেকে করিয়ে আনবেন, তা না হলে আমি দেখবো না।  টেস্টের স্লিপে ডাক্তারের দেওয়া একটি নম্বর লিখে দিয়ে বলেন, এই নম্বরের ফোন করবেন। যদি সন্ধানী ডায়াগণস্টিক সেন্টারটা খুঁজে না পান। দরকার হয় আমার কথা বলবেন। একই অভিযোগ রয়েছে ওই হাসপাতালের সহকারি রেজিস্টার (সার্জারী) ডা: গাজী শরিফুর রহমান এর বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার নগরীর ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মো: নাসিম এ প্রতিবেদককে জানান, তার পিতা মোসলেম উদ্দিনকে হার্ণিয়া অপারেশনের জন্য গতকালই সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসকের পরামর্শে ভর্তি করানো হয়। ওয়ার্ডে রাউন্ডে আসলে তার বাবাকে দেখার পর ওই ডাক্তার দুইটি টেস্ট করাতে বলেন। ওই ডাক্তার টেস্টগুলো নগরী সন্ধানী ডায়াগণস্টিক সেন্টার থেকে করানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই সাথে ওই ডায়াগণস্টিক সেন্টারের নম্বরও টেস্টের প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন।

আপনার মতামত জানানঃ