ডুমুরিয়ায় গৃহবধূ হুমাইয়ারা’র মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) : ডুমুরিয়ার পল্লীতে কথিত বিষপানে নিহত গৃহবধু হুমাইয়ারা বেগমের মৃত্যু’র বিষয়টি কোন ভাবেই মানতে পারছে না তার পরিবার। স্বামী ফরহাদ ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর নির্যাতনেই সে মারা গেছে বলেই অভিযোগ করছে স্বজন ও প্রতিবেশীরা। যা নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক তোলপাড়।
নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের বৃত্তি ভুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান শেখের মেয়ে হুমাইয়ারা বেগমের (২৫) মৃত্যু নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। গত ৩রা এপ্রিল শনিবার রাতে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। তবে তার এই মৃত্যু’কে কোন ভাবেই মানতে পারছে না তার পরিবার। ক্রমেই ফুঁসে উঠছে স্বজনসহ প্রতিবেশীরা। স্বামী ফরহাদ ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর বিচারের দাবিতে হয়ে উঠছে সোচ্ছার। এ বিষয়ে নিহত হুমাইয়ারা বাবা আব্দুর রহমান শেখ বলেন, প্রায় ১০ বছর পূর্বে প্রতিবেশী সুফি সরদারের ছেলে ফরহাদ সরদারের (৩০) সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে ওদের মধ্যে প্রেমজ সম্পর্ক থাকায় ওই বিয়েতে আমি রাজি হই। ওদের দাম্পত্য জীবনও ছিল বেশ সুখের। সাভারের নবীনগর-চারাবাগ এলাকায় একটি গার্মেন্টসে দু’জনে কাজ করতো। ওদের কোল জুড়ে ফাহমিদা (৯) নামের একটি মেয়েও আছে। সবকিছু নিয়ে মুটামুটি ভাবে চলছিল ওদের সংসার। কিন্তু সমস্যা বাধে জামাই ফরহাদের চলাফেরায়। বছর তিনেক আগে সে অন্য আরেকটি নারীর সাথে প্রেমজ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি হুমাইয়ারা টের পেয়ে যায়। তখন ফরহাদ কৌশল করে করোনার কথা বলে ওদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সেই থেকে প্রায় ১১ মাস ধরে ওরা এখানে আছে। কিন্তু এরমধ্যে ফরহাদ বাড়িতে আসে না। অনেক বার তাকে ফোন করেছি, মেয়েটিও তাকে বার বার অনুরোধ করেছে তাও আসেনি। এক পর্যায়ে গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় সে বাড়িতে আসে। তার বাড়ি আসাতে ভেবেছিলাম এবার হয়তো মেয়েটি সুখের সংসার করতে পারবে না। কিন্তু তা আর হল না। ওদের অত্যাচারে মেয়েটি অবশেষে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলো। ঘটনার বর্ণনা করে তিনি বলেন, সেদিন ছিল শনিবার। রাত ৯টার পরেই শুরু হয় নির্যাতন। ফরহাদ ও তার বাবা সুফি, মা রনজিদা বেগম পর্যায়ক্রমে করে মারপিট। রাত সাড়ে ১১টায় শুনতে পাই হুমাইয়ারা বিষ খেয়েছে। ছুটে গিয়ে দেখি সে উঠানে পড়ে আছে। তারপর গাড়িতে করে প্রথমে ডুমুরিয়ায় ও পরে খুলনার হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত দুইটার দিকে ডাক্তার বলে সে মারা গেছে। পরদিন মরদেহ বাড়িতে এনে আমাদের পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করি।
এ বিষয়ে নিহতের চাচা আবদুল্লাহ বলেন, নিহত হুমাইয়ারাকে গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাটি দেওয়ার সময়ও তাদের পাওয়া যায়নি। হুমাইয়ারার মৃত্যু’র খবর পেয়ে ফরহাদ ও তার পিতা সুফি সরদার গা ঢাকা দিয়েছে। সবকিছু ভেবে, এখন আমরা নিশ্চিত তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান খান বলেন, হুমাইয়ারার মৃত্যুটা বিষপানে হয়েছে এটা বলা যাচ্ছে না। ওদের কার্য কালাপে বোঝা যাচ্ছে, তাকে নির্যাতন করে মেরে মুখে বিষ তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় একটি অপমৃত্যু’র জিডি করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে ডুমুরিয়ায় থানায় এখনো পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ কনিরি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মতামত জানানঃ