খুলনা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এখন নিজেই অসুস্থ! রোগীরা ভোগান্তিতে 

গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে বছর ধরে চিকিৎসক নেই :  জিন-এক্সপার্ট ল্যাবের এসি নষ্ট

কামরুল হোসেন মনি : খুলনার বক্ষব্যাধি (টিবি) ক্লিনিকে বছর খানিক ধরে প্রধান দুটি পদে নেই কোনো চিকিৎসক। একমাত্র এক্সরে-যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে আছে দুই যুগ উপরে। হাসপাতালের জুনিয়র নার্স ও কর্মচারীদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ক্লিনিকের কার্যক্রম। অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট ও মেডিকেল অফিসার না থাকায় সেবা নিতে আসা রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে অবসরে গেছেন জুনিয়র কনসালট্যান্টে। মেডিকেল অফিসার পদটি দুই বছরেও পুরন হয়নি। এর বাইরেও আরো পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘ বছর ধরে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছর পার হলেও সরকারি এ চিকিৎসাকেন্দ্রের কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে অনেকটা দায়সারা গোছে চলছে কার্যক্রম। এখানে দুটি মাইক্রোস্কোপ মেশিন ও একটি জিন এক্সপার্ট মেশিন রয়েছে। গত ২০১৮ সালের এসি ঠিক হওয়ার ৭ দিনের মাথায় পুনরায় নষ্টো হয়ে যায়। দীর্ঘ দিন ধরে এসি না থাকার কারণে জি এক্সপার্ট মেশিনের পুরো মডিউল যে কোন মুহুর্তে নষ্টো হওয়ার আশংকা রয়েছে।  ইতিমধ্যে অতিরিক্ত তাপে দুইটি মউিউল নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এই মেশিনে এক সাথে ৪ জনের টেস্টে করা হলেও এখন দুই জনের টেস্ট হচ্ছে।
গত শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আধা-পাকা ভবনটি সংস্কারের কাজ চলছে। জুনিয়র কনস্যালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসের কক্ষ রুম ফাকা। কয়েকজন সেবিকা এক সাথে খোশ গল্পে মজে আছেন। নেই কোন রোগীর আনাগোনা। চিকিৎসক আছে এমন প্রশ্ন করা হলে একজন সহকারি সেবিকা বলেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন মাঝে মধ্যে আসেন। কোন কনস্যালট্যান্ট ও মেডিকেল অফিসার নেই।
না প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, দিনকে দিন দুর-দুরান্ত থেকে আসা মানুষ এখানে এসে সঠিক সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। জিন-এক্সপার্ট ল্যাব মেশিনের এসি নষ্ট বছরখানিক হবে। মেশিন চালালে অতিরিক্ত গরম হয়। যার কারণে এসি না থাকায় ওই মেশিনের ৪টি মডিউলের মধ্যে এখন দুটি নষ্টো হয়ে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার এই বাবলু রেজা নামে এক ব্যক্তি পরামর্শের জন্য এই চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন। তিনি তার সমস্যার জন্য ডাক্তারের খোজাখুজি করেন।  ওই দিন তাকে একজন সেবিকা বলেন, চিকিৎসক নেই। আমরাই চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। কিন্তু অভিজ্ঞ কোন চিকিৎসক না থাকার কারণে তিনি ফিরে আসেন।
ক্লিনিক সূত্র জানা যায়, এখানে ১৭টি পদের মধ্যে ৫টি শূন্য। এর মধ্যে প্রধান দুটি পদ কনসালট্যান্ট ও মেডিক্যাল অফিসার বর্তমানে নেই। হাসপাতালের জুনিয়র নার্স ও কর্মচারীদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ক্লিনিকের কার্যক্রম। তাদের ব্যবহারও কারণে অনেক সময় আগত রোগীরা অসন্তোষ্ট প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রাজ্জাককে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: আতিয়ার রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, খ্বু তারাতারি এখানে চিকিৎসক  দেয়া হবে। বর্তমানে এখানে কোন চিকিৎসক না থাকায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে এখানে অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জিন-এক্সপার্ট মেশিনের জন্য এসি মেরামত করার জন্য ঢাকা স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় যোগাযোগ করা হয়েছে। আশাকরি খুব দ্রুতসব  সমস্যার সমাধান হবে।