রাজিব-দিয়া মামলা: দুই চালক ও এক হেলপারের যাবজ্জীবন

ঢাকা অফিস : রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিমের মৃত্যুর মামলায় জাবালে নূর বাসের দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের হোসেন এবং সহকারি কাজী আসাদকে যাবজ্জীবন সাজার রায় দিয়েছে আদালত।
একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে। বাস মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন ও চালকের সহকারী এনায়েত হোসেনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি বাস মালিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও হেলপার মোহাম্মদ আসাদ কাজী এখনো পলাতক। আরেক আসামি বাস মালিক শাহদাত হোসেন আকন্দের অংশের বিচার হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৫শে অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৮ সালের ২৯শে জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের দুইটি গাড়ি বেপরোয়া ভাবে চালিয়ে একটি বাস রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীর উপর তুলে দিলে দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজীব নিহত হয়। এর প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা। স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর যান চলাচল।

বিয়ে করতে পরীক্ষায় পাস করতে হবে

আন্তর্জাতিক : ‘পরীক্ষায় ফেল করলে বিয়ে দিয়ে দিবো’- এমন কথা আমাদের দেশে প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায় দেখা যাবে ভিন্ন চিত্র। সেখানে বিয়ে করতে হলে পরীক্ষায় পাস করতে হবে।
পরীক্ষায় পাস করলে সরকার থেকে দেয়া হবে প্রশংসাপত্র। আর সেটা পাওয়ার পরই বিয়ের অনুমতি পাওয়া যাবে।

জানা গেছে, ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে পাস করতে হবে তিন মাসের প্রি ওয়েডিং কোর্স। শুধু কোর্স করলেই হবে না, নির্দিষ্ট নম্বরও পেতে হবে। ২০২০ থেকে এই নিয়ম চালু করতে চলেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে দেশে ক্রমশ বাড়তে থাকা বিবাহবিচ্ছেদ আটকাতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিভাবে সংসারের দৈনন্দিন কাজ সামলে দাম্পত্য জীবন সুখের করে তোলা করা যায়, এমন প্রশিক্ষণও থাকছে।

এছাড়াও, সরকারের এই প্রি-ওয়েডিং কোর্সের পাঠক্রমে থাকছে বেশ কিছু রোগ এবং তার প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা। এমনকি যৌন শিক্ষা, সন্তান কীভাবে মানুষ করবেন তার প্রশিক্ষণও।

সম্প্রতি সে দেশের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স কো-অর্ডিনেটিং মন্ত্রী মুহাদজির এফেন্দি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, নব দম্পতিরা যাতে শান্তিতে সংসার করতে পারেন, সে কারণেই প্রি-ওয়েডিং কোর্সের ভাবনা।

রাজিব-দিয়ার মৃত্যুর মামলার রায় আজ

ঢাকা অফিস : বাসচাপায় রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজিব-দিয়ার মৃত্যুর মামলার রায় আজ।  রবিবার বিকেলে ঢাকার মহানগর সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে এই রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। এরপর আত্মপক্ষ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য হয়।

এই মামলায় জাবালে নূরের বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ, হেল্পার মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন ও চালক মোহাম্মদ জোবায়ের সুমন কারাগারে আছেন। অপর দুই আসামি বাস মালিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও হেল্পার মোহাম্মদ আসাদ কাজী এখনো পলাতক আছে। আর মামলার আরেক আসামি বাস মালিক শাহদাত হোসেন আকন্দের অংশের বিচার হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে।

২০১৮ সালের ২৫শে অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৮ সালের ২৯শে জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের দুইটি গাড়ি বেপরোয়া ভাবে চালিয়ে একটি বাস রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীর উপর তুলে দিলে দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজীব নিহত হয়। এর প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা। স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর যান চলাচল।

খুলনায় প্রশিক্ষণহীন ইজিবাইক চালকরা বেপরোয়া!

কামরুল হোসেন মনি : সম্পুর্ণ প্রশিক্ষণহীন ইজিবাইক চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত নগরীতৈ দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চললেও চালকদের জন্য নেই কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এ অবস্থায় চালকদের নিবন্ধন ও তথ্য সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নগরবাসী।
এ যানটির কোনো নাম্বার প্লেট না থাকার কারণে প্রশাসনও কিছুই করতে পারছে না। পাশাপশি ভুক্তভোগীরাও সুনির্দিষ্ট যানটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও দিতে পারছেন না। ফলে কেসিসি’র অনুমোদনহীন ইজিবাইকগুলো দিনকে দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
সম্প্রতি নগরীর শিববাড়ি মোড়ে ইজিবাইকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহি মোঃ শফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তিনি পেশায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের খুলনা জেলা সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োজিত। অফিসের কাজে তিনি শিববাড়ি মোড় পার হওয়ার সময় একটি ইজিবাইক হঠাৎ করে মোড় ঘুরিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে মোঃ শফিকুল ইসলামের (হিরো এইচ এফ ডিলাক্স ঢাকা মেট্রো হ-৩৪-৫৬০০) মোটরসাইকেলের সাথে সংঘর্ষ হয়। এ সময় তিনি চলন্ত গাড়ি নিয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়ে হাঁটু, ঘাড় ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। কিন্তু ওই ইজিবাইকটি চলাচলে কেসিসি’র অনুমোদন ছিলো না।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)র সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার ফারুক হোসেন তালুকদার মঙ্গলবার এ প্রতিবেদককে বলেন, নির্ধারিত সময়ে প্রতিটি ফরম ৫শ টাকার বিনিময়ে মোট ৮ হাজার ২২২টি ফরম বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে জমা পড়ে ৭ হাজার ৮৮৮টি। যাচাই-বাছাই শেষে ৭ হাজার ৭৯২টি আবেদন সঠিক বলে সনাক্ত হয়েছে। বাকিগুলো বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে আবেদনকারী ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা পে-অর্ডার গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, অবৈধ ইজিবাইক বন্ধে ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটু সময় লাগবে। লাইসেন্স প্রদানের জন্য প্রতিটি ইজিবাইক সবুজ ও লাল রঙ করা এবং ডানপাশ দিয়ে যাত্রী ওঠানামা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে রড লাগানোর জন্য শর্ত দিয়েছে কেসিসির লাইসেন্স শাখা। যাদের কাছে মানি রিসিট রয়েছে ওই সব ইজিবাইকগুলো কেসিসি’র অনুমোদিত বাকিরা সবাই অবৈধ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কেসিসি’র অনুমোদনহীন অবৈধ ইজিবাইকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিববাড়ি মোড়, নগরীর গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, শান্তিধামের মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, পিকচার প্যালেস, সাত রাস্তার মোড়, পিটিআই মোড়, রেলস্টেশন রোডে রাস্তার ওপর যেখানে সেখানে যানবাহন রাখা। এছাড়া যাত্রীবাহি ইজিবাইক থেকে যেখানে-সেখানে যাত্রী-ওঠানামা করছে করছে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নগরবাসী।
জানা গেছে, সময়ের ব্যবধানে নগরীতে ইজিবাইক সংখ্যা বেড়ে এখন ২০-২৫ হাজার দাঁড়িয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক দায়িত্ব নেওয়ার পর শহর যানজট মুক্ত রাখতে কেসিসি’র আওতাধীন স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইজিবাইক চলাচলের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেন। সে হিসেবে বর্তমানে কেসিসি’র অনুমোদিত শহরে চলাচলে ইজিবাইক সংখ্যা ৭ হাজার ৭৯২টি। কিন্তু এর বাইরে বিভিন্ন উপজেল থেকে আসা ইজিবাইকের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার রয়েছে। এসব ইজিবাইক চালকদের নেই কোনো তথ্য। প্রতিদিন এসব অবৈধ যানবাহন কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরজুড়ে। এসব যানবাহনের নেই বৈধ কাগজপত্র। চালকদেরও কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। নেই কোনো নাম ঠিকানাও। ফলে অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া চলাচলের কারণেই প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। অনেকে আবার আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, কেউ বা মারাও যাচ্ছেন।
খুলনা কেএমপি’র (ট্রাফিক) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল ইসলাম সম্প্রতি এ প্রতিবেদকে বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন অনুমোদন ছাড়াই শহরের মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় ইজিবাইক চলাচল করছে। তিনি বলেন, কোনো সাধারণ জনগণ যদি কোনো যানবাহন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তারা যদি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করেন তাহলে সেই ব্যক্তি আইনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন। এছাড়া অবৈধভাবে চলাচলরত ইজিবাইক সিটি কর্পোরেশন নির্মূলের জন্য তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন সেক্ষেত্রে আমাদের পুলিশের ফোর্স সহযোগিতা করবে।
ইজিবাইক চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকেই নগরীতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল শুরু হয়। ওই সময় একাধিক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে এর আমদানি শুরু করে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা অল্প বয়সী বেকার যুবক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নি¤œ আয়ের মানুষ ইজিবাইক কিনে বা ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছে। এদের ৯০ শতাংশের গাড়ি চালানোর ন্যূনতম ধারণা নেই। ফলে প্রায়ই কোনো না কোনো জায়গায় ঘটছে দুর্ঘটনা ও সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।