খুলনায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে বেড়েছে শীতের তিব্রতা : বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ

শিশু হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৪ শিশু ডায়ারিয়া সেবা নিচ্ছে

কামরুল হোসেন মনি : গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে খুলনা, যশোর, পাইকগাছা, তেরখাদায়সহ দেশের বরিশাল, ঢাকা ও চট্রগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে ২-১ জায়গায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এ দিন দেশের সর্বন্মিন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেতুলিয়ায় ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াস এবং খুলনা বিভাগের মধ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শুক্রবার বিকেলের মধ্যে মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে জানুয়ারীতে প্রথম সপ্তাহে দেশে আরেকটি শৈত্য প্রবাহ সম্ভবনা রয়েছে।
পৌষের মাঝের দিকে এসে খুলনায় দুপুর ১২টা থেকে থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে শীতের তিব্রতা  যেনো আরো বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় দিনে বেলাতেও আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবাড়নের চেষ্টা করে ছিন্নমুল মানুষগুলো। ঠান্ডার প্রকোট হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্যাডেল চালিত রিক্সাসহ খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
এদিকে অক্টোবর ও নভেম্বর গত দুই মাসে খুলনা ৯ উপজেলাসহ আইডি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল মিলে ডায়ারিয়া আক্রান্ত সংখ্যা দাড়িয়েছে সাড়ে ৯ হাজার। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। চলতি মাসে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনা শিশু হাসপাতালে ৩৬৩ শিশু ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। সে হিসেবে গড়ে এ হাসপাতালে প্রতিদিন ১৪ শিশুকে ডায়ারিয়ার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
খুলনা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ প্রতিবেদককে বলেন, দুপুর ১২টার দিকে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২-১ জায়গায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত হয়। এর মধ্যে খুলনাঞ্চলে পাইকগাছা, তেরখাদায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া যশোর, বরিশাল, ঢাকা ও চট্রগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় বৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, দেশের সর্বনি¤œ গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেতুলিয়ায় ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা বিভাগের মধ্যে কুর্ষ্টিয়া কুমারখালীতে সর্বন্মিন তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার দেয়া তথ্য মতে, এ দিন খুলনায় সর্বন্মিন তাপমাত্রা ছিলো ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ছিলো ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিলো ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৪ ডিসেম্বরে সর্বনি¤œ ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২৩ ডিসেম্বর  ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শুক্রবার বিকেলের মধ্যে মেঘ কেটে গেলে আবহাওয়া স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসার সম্ভবনা রয়েছে বলে খুলনার ওই আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন। এছাড়া আগামী জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহের দিকে শৈত্যপ্রবাহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে  শীতের তিব্রতায় খুলনায় ঠান্ডাজনিত রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়াতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বয়স্করাও ডায়রিয়াসহ নানা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। খুলনা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ও আরএমও ডাঃ মাহবুবুর রহমান গতকাল দুপুরে এ প্রতিবেদককে বলেন, ঠান্ডাজনিত কারণে খুলনা জেলায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। ওষুধ ও খাবার স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে কোন ঘাটতি নেই। খুলনা সদর হাসপাতালে আলাদাভাবে কোন ডায়রিয়া ওয়ার্ড চালু নেই। কোন ডায়ারিয়া রোগীর আসলে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মীরের ডাঙ্গাস্থ আই ডিয়াল হাসপাতালে রেফার্ড করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর ও নভেম্বর এই দুই মাসে খুলনায় ৯ উপজেলায়সহ আইডিয়াল ও শিশু হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ৯ হাজার ৫২১ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিেেয়ছেন। এর মধ্যে গত নভেম্বর মাসে ৪ হাজার ৬৮১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদান করা হয়। দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৩৯ জন, বটিয়ঘাটায় ৫৫৭ জন, রূপসায় ৪২৩ জন, তেরখাদায় ৬১৭ জন, দিঘলিয়ায় ৪৬৫ জন, ফুলতলায় ২১৯ জন, ডুমুরিয়ায় ৫৩৫ জন, পাইকগাছা ৫৭৭ জন ও কয়রা উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ৩৩০ জন ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে মীরেরডাঙ্গা আইডিয়াল হাসপাতালে ২৭৩ জন এবং নগরীর শিশু হাসপাতালে ৩৪৬ শিশুকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এর আগে মাসে অক্টোবরে ৪ হাজার ৮৪০ জন সেবা প্রদান করা হয়। যার  মধ্যে আইডিয়াল হাসপাতালে ২৪০ জন ও শিশু হাসপাতালে ২৮৯ জন সেবা প্রদান করা হয়। এর বাাইরে চলতি ডিসেম্বর মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত নগরীর শিশু হাসপাতালে ৩৬৩ শিশু ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
নগরীর তেতুলতলা মোড় এলাকার রিক্সা চালক জিন্নাত আলী জানান, খুব সকালে তিনি যখন রিকশা নিয়ে বের হন, তখন কুয়াশারসহ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিলো। দুপুর ১২ দিনে ফোটা ফোটা পানি পড়ছিলো। তিনি ভেবেছিলেন, শিশির পড়ছে। তাই বৃষ্টির কোন প্রস্তুতি নেননি। এখন ঠান্ডার তিব্রতা বেড়ে যাওয়ায় রোডেঘাটে যাত্রী কম পাওয়া যাচ্ছে। এখন পেটের দায়ে এমন অবস্থায় রিক্সা চালাতে তাকে।