১৭ লক্ষ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট অর্থনীতি সমিতির

ঢাকা অফিসঃ ২০২১-২২ সালের জন্য উন্নয়ন ও পরিচালন মিলিয়ে ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, যা সরকারের বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটের ৩ দশমিক ০৩ গুণ বেশি। সরকারের উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় বাজেটের বর্তমান অনুপাত যেখানে ৩৮:৬২, সেখানে সমিতির এবারের বিকল্প বাজেটে তা ৬৯:৩১।

রাজস্ব বাড়ানোর নতুন ২৮টি উপায় দেখিয়ে কোভিড-১৯ মহামারির বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে আজ মঙ্গলবার এক ভারচ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিকল্প বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত।

আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের খসড়া বাজেট প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবে আয়

কভিড-১৯ ও আর্থ-সামাজিক মন্দা থেকে উত্তরণে সমিতির এবারের সামাজিক মন্দা থেকে করোনাভাইরাসের অভিঘাত মোকাবিলা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সরকারের আয় বাড়াতে হবে এবং সম্ভাব্য কীভাবে তা বাড়তে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ২৮টি নতুন উৎসের কথা বলেছে। অর্থমন্ত্রী কর্তৃক পেশকৃত চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মোট রাজস্ব ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৩ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি থেকে আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরে এই আয় ৩ দশমিক ৩ গুণ বেশি বৃদ্ধি করে ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা প্রস্তাব করেছে। সুযোগ থাকার পরও সরকার নজর না দেওয়া তিনটি খাত— অতিরিক্ত মুনাফা, কালো টাকা ও অর্থ পাচার থেকে সমিতি সবচেয়ে বেশি আয় (৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা) দেখিয়েছে।

অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবে ব্যয়

সমাজ ও অর্থনীতির কোন কোন খাত ও ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে এবং পেছনের যুক্তি কী তা তুলে ধরে সমিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে বলেছে, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ২ লাখ ২ হাজার ১২৪ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১২৪ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন বরাদ্দ দিয়ে ‘গণপরিবহণ ও গবেষণা ও বিচ্ছুরণ’ নামে দুটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২ লাখ ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অধ্যাপক বারকাত বলেন, “আমাদের প্রস্তাবনায় বাজেটের ব্যয় বরাদ্দ কাঠামোতে গুণগত রূপান্তর ঘটবে। উন্নয়ন বাজেট হবে পরিচালন বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি, যা এখন ঠিক উল্টো। এখন উন্নয়ন-পরিচালন বাজেট বরাদ্দের অনুপাত ৩৮:৬২, যা আমাদের প্রস্তাবিত বাজেটে হবে ৬৯:৩১। চলতি অর্থবছওে সরকারের মোট আয় (প্রাপ্তি) ছিল ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৩ কোটি টাকা। পক্ষান্তরে বিকল্প বাজেটে এই প্রাপ্তি প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬ লাখ ৩ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ে প্রত্যক্ষ কর অনুপাত ৪৮: ৫২ শতাংশের বিপরীতে সমিতির বাজেটে তা ৮৪: ১৬ শতাংশ।

সমিতির বাজেটে নতুন খাত/ উপখাত সংযোজন করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো— দুটি মন্ত্রণালয় গণপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং গবেষণা ও বিচ্ছুরণ মন্ত্রণালয়। ১০টি নতুন বিভাগের অন্যতম হলো স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রবীণ হিতৈষী বিভাগ, দরিদ্র-বিত্তহীন-নিম্নবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জীবন কুশলতা উন্নয়ন বিভাগ, গ্রামীণ নারী-দরিদ্র- বিত্তহীন-নিম্নবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত নারীপ্রধান খানার জীবন কুশলতা উন্নয়ন বিভাগ ।

অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা ২০১৫ সাল থেকে এই বিকল্প বাজেট দিয়ে আসছি, এটা আমাদের সপ্তম বাজেট। আশা করি সরকার আমাদের এই বাজেট প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখবে।”

মোংলায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলা পৌর মহিলা কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র যুবলীগ নেত্রী শিউলী আকন এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেনের মালিকানাধীন মেসার্স ইকবাল এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবীর এ অভিযোগ উঠে। চাঁদার ইস্যুতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর সভার প্যানেল মেয়র পরস্পর বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। আর এ ঘটনাটি পৌর শহর জুড়ে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। এদিকে চাঁদা দাবীর অভিযোগ তুলে মেসার্স ইকবাল এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মোঃ লিটন মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মোংলা থানায় জমা দেয়া লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, পৌরসভার মার্কেট র্নিমাণসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়নমুলক কাজ করছে এ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৬ জানুয়ারী পৌর নির্বাচনে যুবলীগ নেত্রী শিউলী আকন সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে প্যানেল মেয়র মনোনীত হন। পরবর্তীতে শিউলী আকনের স্বামী হাসান আকন ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। আর চাহিদার এ টাকা না দিলে পৌরসভার কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে জানান। এক পর্যায় গত ১১ মে ঈদুল ফিতরের আগে হাসান আকনকে ৫০ হাজার টাকা দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে নারী কাউন্সিলরের স্বামী ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ইকবাল হোসেনের কাছে আরও ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করাসহ তাকে নানাভাবে হুমকি দেয়। পরবর্তিতে এ বিষয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়।
এ বিষয় মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার লিটন চাঁদা দাবীর অভিযোগ তুলে পৌর কাউন্সিলর শিউলী ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া কাউন্সিলর শিউলী আকন মারধরের ঘটনা উল্লেখ করে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পাল্টা লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরস্পর বিরোধী অভিযোগ দুইটি পুলিশ তদন্ত করছে। এদিকে নেতা ও নেত্রীর পরস্পর বিরোধী অভিযোগ ও অবস্থান নেয়ার বিষয়ে শহরে জুড়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে ছড়াচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে পাল্টা-পাল্টি লেখালেখীর আক্রমণ।
এ ব্যাপারে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, তাকে ব্যবসায়ীক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে কাউন্সিলর শিউলী আকন ও তার স্বামী হাসান আকন তাদের দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত আর অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আর এর নেপথ্যে তার প্রতিপক্ষ একটি প্রভাবশালী মহল নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
অপরদিকে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে পৌর কাউন্সিলর শিউলী আকন বলেন, স্বামীসহ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

দাকোপে গো খাদ্য ও শিশু খাদ্য বিতরন

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোপে করোনা ও ঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে গো খাদ্য ও শিশু খাদ্য বিতরন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ^াস ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সকল সামগ্রী বিতরন করেন। বিতরনকৃত গো খাদ্যের মধ্যে ছিল পরিবার প্রতি ২০ কেজি কুড়া, ২০ কেজি ভূষি, ১ কেজি চিটা গুড় এবং ২ কেজি খৈল। এ ছাড়া শিশু খাদ্যের মধ্যে ছিল ডাল, খেজুর, বাদাম, বিস্কুট, ছুপ, নুডুলস, সাবান, তৈল, চিনি ও সুজি। অনুষ্ঠানে ৩ শ’ পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য এবং ৫০ পরিবারের মাঝে গো খাদ্য বিতরন করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের, মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুরাইয়া সিদ্দিকা এবং প্রাণী সম্পদ অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন।

দাকোপে স্কুল ছাত্রীকে অপহরন ও ধর্ষন অভিযােগে যুবক আটক

আজগর হোসেন ছাব্বির : দাকোপের কৈলাশগঞ্জ থেকে ৮ম শ্রেনীর এক মুসলিম ছাত্রীকে অপহরন করে একই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবক সঞ্জয় মন্ডল ওরফে আকাশ। ঢাকার কদমতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় রেখে ভয় দেখিয়ে মাসের পর মাস তাকে জোর পূর্বক ধর্ষন করা হয়। ৯৯৯ নাম্বারে কিশোরীর ফোন পেয়ে কদমতলী ও দাকোপ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ভিকটিমসহ আসামীকে গ্রেফতার করে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও দাকোপ থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, দাকোপের কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের রামনগর বিনাপানি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর এক মুসলিম ছাত্রীকে একই এলাকার মৃঃ উপেন মন্ডলের বখাটে পুত্র সঞ্জয় মন্ডল ওরফে আকাশ (২০) গত ১৭ নভেম্বর ২০২০ অপহরন করে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে খুলনায় এরপর ঢাকার কদমতলী থানাধীন পোস্তগোলা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে আটকে রাখে। এ সময় ভিকটিমকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। গত ০৯ মে ২০২১ উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত সঞ্জয় তাকে জিম্মি করে অমানুষিক নির্যাতন এবং ধর্ষন করে। দীর্ঘ ৬ মাস ২২ দিন পর কদমতলী থানা পুলিশের সহায়তায় দাকোপ থানার এস আই মল্লিক আঃ হালিম ঢাকা পোস্তগোলার ভাড়া বাসা থেকে কিশোরী ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরনকারী সঞ্জয়কে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। জানা যায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর ৮ম শ্রেনীর ওই ছাত্রী হটাৎ নিখোজ হয়ে গেলে তার পিতা সিরাজুল ইসলাম মেয়ে হারিয়ে গেছে মর্মে দাকোপ থানায় একটি অভিযোগ ও সাধারন ডায়েরী করে। এরপর পুলিশ ও পরিবার কিশোরীর সন্ধান করতে থাকে। জানা গেছে ঘটনার দিন সঞ্জয় তাকে জোর পূর্বক মোটর সাইকেল যোগে তুলে নিয়ে প্রথমে খুলনা শহরে এরপর ঢাকার পোস্তগোলায় নিয়ে যায়। সর্ব শেষ গত ৯ মে ভিকটিম গোপনে সেখানকার প্রতিবেশী এক নারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ৯৯৯ নাম্বারে পুলিশের কাছে ফোনে তার জিম্মিদশার কথা জানিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায়। এরপর দাকোপ থানা পুলিশ এবং কদমতলী থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরনকারী সঞ্জয় মন্ডল ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করে দাকোপে নিয়ে আসে। ভিকটিমের পিতা সিরাজুল ইসলাম মোড়ল বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় সঞ্জয়ের নাম উল্লেখসহ আরো ২/৩ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করেন। যা দাকোপ থানার মামলা নং ১০ তাং ১০/০৫/২০২১। ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা করালে সেখানে ধর্ষনের প্রমান মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ দিকে গত ১২ মে আসামী সঞ্জয় ঘটনা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। একই দিন ভিকটিম ২২ ধারায় আসামীর বিরুদ্ধে ঘটনার বিবরন দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আঃ হালিম জানিয়েছেন তদন্ত শেষে আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এলাকাবাসী এই জঘন্য ঘটনার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্থি কামনা করেছে।

করোনায় মোংলা বন্দরে আটকা ৮৬ কন্টেইনার পণ্য

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : করোনা প্রার্দুভাবে ভারতে রপ্তানি আদেশ বন্ধ থাকায় মোংলা বন্দরে কাঁচামাল পণ্য নিয়ে ৮৬টি কন্টেইনার আটকে আছে। গত সপ্তাহে আমদানি হওয়া এসব কন্টেইনারে মোংলা ইপিজেডের ভিআইপি নামক উৎপাদনকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল রয়েছে।
ভিআইপি’র বাংলাদেশের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মোঃ মিজানুর রহমান খাঁন বুধবার জানান, সময় মত এসব কন্টেইনারে আটকে থাকা পণ্য উৎপাদনকারী কাঁচামাল ছাড়িয়ে না নিলে তাদের জরিমানা গুনতে হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে আগামী রবিারের মধ্যে এসব পণ্য সরিয়ে নেওয়ার আদেশ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
করোনার ভয়াবহ সংকটে ভারতে রপ্তানি আদেশ বন্ধ থাকায় সেদেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারছেনা মোংলা ইপিজেডের ভারতীয় ফ্যাক্টরী ভিআইপি কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ১৫ দিনের জন্য তাদের ফ্যাক্টরী সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তাই পণ্য রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভারত থেকে কন্টেইনারে আসা পণ্য উৎপাদনকারী কাঁচামাল মোংলা বন্দরের জেটিতে পড়ে আছে। পণ্যই যখন উৎপাদন করা যাবে না, সে ক্ষেত্রে এসব কাঁচামাল দিয়ে কী হবে বলেও জানান মিজানুর রহমান। ভারতে পণ্য রপ্তানি আদেশ শিথিল হলে এসব পণ্য ছাড় করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার (কন্টেইনার) মোঃ শামিম হাওলাদার বলেন, বন্দরে আসা ইপিজেডের ভিআইপি ফ্যাক্টরীর ৮৬ কন্টেইনারের মধ্যে ২০ ফিট কন্টেইনার প্রতি প্রথম ১০ দিন তিন ডলার এবং ১০ দিনের পর অবশিষ্ট দিনগুলোর জন্য আট ডলার ট্যারিফ চার্জ (বন্দর মাশুল) দিতে হবে। আর ৪০ ফিট কন্টেইনার প্রতি দিতে হবে প্রথম ১০ দিন আট ডলার এবং অবশিষ্ট দিনের জন্য ১৬ ডলার ট্যারিফ চার্জ।

চট্টগ্রাম ডিএনসি’র অভিযানে ২১ লাখ টাকার ইয়াবাসহ আটক ৪

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র পৃথক অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৪০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক পাচারকারীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে সীমা বেগম  (৩৩), মোঃ আব্দুল করিম (৪২), মোঃ শামীম শেখ(২৭) এবং মোঃ আবু সরোয়ার(২১)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা বর্তমানে বাজার দাম ২১ লাখ টাকা। এছাড়া ভ্রম্যমান আদালতে অভিযান চালিয়ে ২২ মাদক সেবীকে আটক করেছেন। আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। বুধবার (২ জুন)  চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বিজ্ঞ নির্বাহী মাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াসমিন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র সূত্র মতে, ২ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্বাবধানে ও কোতোয়ালি  সার্কেল  পরিদর্শক ও পাঁচলাইশ সার্কেল পরিদর্শক  এ নেতৃত্বে কোতোয়ালি  সার্কেল পরিদর্শক মোঃ মোজাম্মেল হক চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন  স্টেশন রোডস্থ নতুন রেলওয়ে স্টেশন  এর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপন সিকদারের স্ত্রী  সীমাকে ৫৯০ পিস ইয়াবাসহ  গ্রেফতার করে বন্দর সার্কেল উপপরিদর্শক মোঃ ফাহিম রাজু  বাদী হয়ে কোতয়ালী  থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।  অপর অভিযানে কোতোয়ালি সার্কেল পরিদর্শক মোঃ মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্বে সন্ধ্যায়  কোতোয়ালি  থানাধীন পুরাতন ফিসারী ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আলী আহমেদ এর পুত্র মোঃ আব্দুল করিমকে ৩ হাজার পিস ইয়াবা এবং তার সঙ্গী মো: রঞ্জন শেখের পুত্র মোঃ শামীম শেখকে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার   করে কোতোয়ালি সার্কেলের উপ পরিদর্শক  মোঃ ফাহিম রাজু    বাদী হয়ে কোতয়ালী   থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী  একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। অপর অভিযানে পাচলাইশ সার্কেল পরিদর্শক তপন কান্তি শর্মা বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কস্থ পাবলিক টয়লেট এর পাশে অভিযান পরিচালনা করে মো: শামসুল আলম এর পুত্র মোঃ আবু সরোয়ারকে ১ হাজার ৯৫০পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে বাকলিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।  এছাড়া চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মেট্রো কার্যালয়ের সকল সার্কেল ও বিজ্ঞ নির্বাহী মাজিস্ট্রেট  সুরাইয়া ইয়াসমিন এর নেতৃত্বে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় টাস্ক ফোর্সের  অভিযান পরিচালনা করে ২২ জন মাদক সেবী কে গ্রেফতার করেন। বিজ্ঞ নির্বাহী মাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াসমিন গ্রেফতার কৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থ দন্ড প্রদান করেন।

মীরের ডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ৫৩ বছরেও  বাড়েনি শয্যা সংখ্যা

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা মহানগরীর মীরের ডাঙ্গায় অবস্থিত সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। (মার্চ থেকে মে পর্যন্ত) গত তিন মাসে ওই হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৯ জন। প্রতিদিন গড়ে ১১ জনের বেশি ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন। বেড স্বল্পতার কারণে ডায়রিয়া রোগীরা মেঝেতেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দিনকে দিন গরমের তিব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কিছুটা গরম কাটলেও ভ্যাপসা গরম রয়েই গেছে। সংক্রমক ব্যধি হাসপাতালে ডায়রিয়া চিকিৎসার পাশাপাশি টিটেনাস, লিওমেটাল টিটেনাস, জলবসন্ত, হাম, জলাতঙ্কসহ অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ওই তিন মাসে টিটেনাস ও লিওমেটাল টিটেনাস আক্রান্ত একজন করে রোগী মারা যান। এছাড়া জল বসন্ত আক্রান্ত হয়ে ২ জন রোগী মারা গেছেন।
এদিকে গত ৫৩ বছর পাড় হলেও বাড়েনি সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে বেড সংখ্যা। পাশাপাশি লোকবল সংকট রয়েই গেছে। বাড়ছে দিনকে দিন রোগীর চাপ। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ চিঠি চালাচালির মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সূত্র মতে, চলতি মাসে মার্চ মাস থেকে ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, মার্চ মাসে ডায়রিয়া রোগী আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৯৪ জন। এপ্রিল মাস থেকে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এই মাসে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ছিলো ৩১৯ জন। মে মাসে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৯৬ জন। এই হিসেবে দিনকে দিন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত সংখ্যা রোগী বাড়লে ডায়রিয়া রোগীদের বেড সংখ্যা বৃদ্ধি পাইনি। মাত্র ২০ শয্যা বেড নিয়ে ওই হাসপাতাল পরিচালনা হচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া রোগীর বেড রয়েছ ১০টি। এছাড়া টিটিনাস ও হামবসন্ত রোগীদের জন্য ৫টি করে মোট ১০টি বেড রয়েছে। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও সংস্কারের জন্য চিঠি চালাচালি করলেও ওই সংকট রয়েই গেছে।
আল আমিন নামে এক ব্যক্তি ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই ব্যক্তির মা সালমা বেগম জানান, গত সপ্তাহ তার ছেলের ডায়ারিয়ার পাশা পাশি বমি হচ্ছে। এখন একটু পায়খানা কম হলেও বমির ভাবটা কমেনি। যা খাচ্ছে, তাই বমি করে দিচ্ছে। তিনি দিঘলিয়া উপজেলার এলাকার বাসিন্দা।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (এমও) ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান মঙ্গলবার এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে ডায়ারিয়া রোগীর ভিড় বাড়ছে। দিনে-রাতে আসছে এসব রোগী। হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় ১ বছরের নিচে শিশুরা ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হচ্ছে। ডায়ারিয়া রোগীর পরিস্থিতি বুঝে একজন রোগীর পেছনে প্রতিদিন ২ থেকে ৩টি স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে ৫টি স্যালাইনও দেয়া লাগছে। শিশুদের হাত মুখে দেয়ার কারণে হাত পরিস্কার রাখার পরামর্শ দেন। কারণ হাতের ঘামের সাথে ময়লাগুলো শিশুদের পেটে যাওয়ায় ডায়ারিয়া সম্ভবনা থাকে। চলতি পথে রাস্তার ধারে শরবত না খাওয়ার জন্য শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কদের পরামর্শ দেন । হাসপাতালে বেড স্বল্পতার কারণে তিনি বলেন, প্রতি মাসেই মাসিক প্রতিবেদনের সাথে বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবনের সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হচ্ছে। আমার জানা নেই কবে এই সংকট দুর হবে। আমাদের প্রয়োজন তাই আবেদন করেই যাচ্ছি।
হাসপাতালে সূত্র মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ডায়রিয়া, টিটেনাস, হাম, জলাতঙ্কসহ সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় জন্য ১৯৬৮ সালে খুলনার মীরেরডাঙ্গায় ভৈরব নদীর পাশে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। ৪ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা হাসপাতালটি ২০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ৫৩ বছর পার হলেও বেড সংখ্যা বাড়েনি। বদলায়নি হাসপাতালের চিত্র। বাড়েনি হাসপাতালের জনবল। কিন্তু রোগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। অর্ধশত বছর আগের তৈরি করা হাসপাতাল ভবনটি এখন জরাজীর্ণ। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার ও নার্সদের আবাসিক ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কর্মচারীদের জন্য দুটি ডরমেটরি ভবনও বসবাসের অনুপযোগী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন কর্মচারী পরিবার নিয়ে বসবাস করছে।

আনোয়ারায় জন্ম নিবন্ধন করতে ভোগান্তি, অতিরিক্ত “ফি” আদায়ের অভিযোগ

এম.এম.জাহিদ হাসান হৃদয়:(আনোয়ারা,চট্টগ্রাম): শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটেল জন্ম নিবন্ধন সনদ চাওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে অভিভাবক আর শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। কারো প্রয়োজন ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ আবার কারো প্রয়োজন সংশোধিত জন্ম নিবন্ধন সনদ। এসব সনদ নিতে কোন প্রকার রশিদ ছাড়া সরকারি নির্ধারিত “ফি” এর তুলনায় বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে।

আর সনদ গ্রহীতাদের স্বাস্থ্য বিধি মানতে বা মানাতে দেখা যায়নি কাউকে।

বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৭ এর বিধি ২৩ এর উপবিধি ৭ এ বলা হয়েছে জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম বা মৃত্যু সনদের জন্য কোনো “ফি” নেওয়া হবেনা, ৪৫ দিন থেকে ৫বছর পর্যন্ত যে কোনো ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু সনদের ক্ষেত্রে ২৫ টাকা এবং ৫ বছর পর থেকে ৫০ টাকা করে “ফি” নির্ধারিত থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নে নিজেদের ইচ্ছে মত “ফি” আদায় করতেছে।
উপজেলার ১০ নং হাইলধর ইউনিয়নে হুমড়ি দিয়ে আছে অনেক অভিভাবক আর শিক্ষার্থী। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছোট হোক বড় হোক যে কারো জন্মনিবন্ধনের আবেদনের জন্য ১০০ টা ” “ফি” দিতে হয়। আর একজনের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে গেলে তার পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধনসহ ৩টি জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে হয়। এবং প্রত্যেক জনের জন্ম নিবন্ধনের জন্য ১০০ টাকা করে ৩০০ টাকা দিতে হয়। আর এসব টাকার কোনো রসিদ ও দেওয়া হচ্ছে না।
উপজেলার ৬নং বারাখাইন ইউনিয়নে স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ না থাকায় জন্ম নিবন্ধন গ্রাহকদের ভোগান্তি মাত্রাটা দ্বিগুণ। উপজেলার সদরে প্রগতী কম্পিউটারে এসে সব ধরনের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে হয়। আর এই সুযোগে গ্রাহকদের থেকে ইচ্ছে মতো “ফি” আদায় করার অভিযোগও উঠেছে প্রগতী কম্পিউটারের মালিক রবিনের বিরুদ্ধে।
উপজেলার ৭নং সদর ইউনিয়নে দেখা যায়,নতুন জন্মনিবন্ধন করতে লাগছে নানা কাগজ পত্র । হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে ঝামেলা তো আছেই । এক সপ্তাহের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার কথা বলে ২৫ দিনেও পাওয়া যায়না বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেক ভুক্তভোগী। তারা অভিযোগ করে বলেন বয়সভিত্তিক জন্মনিবন্ধন “ফি” হলেও ছোট বড় সবার দিতে হয় ৮০টাকা করে ।
উপজেলার ১নং বৈরাগ ইউনিয়নেও একটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য ১০০/১৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এইভাবে উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে রশিদ বিহীন অতিরিক্ত “ফি” আদায়ের এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন করতে আসা একজন শিক্ষার্থী জানায়,স্কুল থেকে ডিজিটাল জন্ম সনদ চাওয়া পরে সব ডকুমেন্টস নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আসলাম। এসে দেখি আমার জন্ম সনদ টা অনলাইন করার আগে না-কি আমার আব্বু-আম্মুর টা করতে হবে। তাই আমার আর আব্বু-আম্মুসহ তিন জনের জন্ম নিবন্ধনের জন্য ১০০ টাকা করে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে।

এই সব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জুবায়ের আহমেদ বলেন, যে সব ইউনিয়নে সরকারি নির্ধারিত “ফি” এর তুলনায় বাড়তি “ফি” আদায় করতেছে সেসব ইউনিয়নের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নামঃ এম.এম.জাহিদ হাসান হৃদয়
(আনোয়ারা,চট্টগ্রাম)
মোবাইলঃ ০১৮৪৮-১৩৪৯২৭