ফুলতলায় করোনা সংক্রমন উর্দ্ধমুখী আওয়ামীলীগ নেতা তুষারের মৃত্যু

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ফুলতলা উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। গত এক সপ্তাহে ৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ ব্যক্তির করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। এছাড়া দুই দিনের ব্যবধানে করোনার উপসর্গ নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা আইসোলেশন ভর্তি থাকা ফুলতলার ২ ব্যাক্তির মৃত্যু ঘটে। মঙ্গলবার সকালে বেনেপুকুর গ্রামের বাসিন্দা ও দামোদর ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি তুষার কান্তি সরকার ওরফে তুষার আমিন (৫৮) মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে বরণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও দামোদর ১নং ওয়ার্ড সদস্য কায়েস সরদারের পিতা আলহাজ¦ ওসমান গনি সরদার ওরফে ওসমান কবিরাজ (৯০) মারা যান। এ নিয়ে গত দু’দিনের ব্যবধানে করোনাক্রান্ত হয়ে ২ ব্যাক্তির মৃত্যু ঘটে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে ৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ ব্যক্তির করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। তবে মঙ্গলবার প্রাপ্ত তথ্যে ৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩ ব্যক্তির করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। ফলে ফুলতলা উপজেলা এলাকায় শনাক্তের হার ৪১ শাতাংশ হওয়ায় এলাকাবাসী শংকিত। তবে প্রশাসনিকভাবে লকডাউন বা স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতায় নেই কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ। উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জেসমিন আরা বলেন, ফুলতলা উপজেলায় দিন দিন করোনা আক্রান্ত’র হার বেড়েই চলেছে। এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরী সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ফুলতলার গাড়াখোলা ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং বেনেপুকুর গ্রামের বাসিন্দা তুষার কান্তি সরকার (৫৮) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। তিনি ঐ গ্রামের মৃতঃ মতিলাল সরকারের পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসহ বহু আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে যান। সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলতলা ক্যাশখোলা মহাশ্মশানে তার শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়। এদিকে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ দামোদর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামীলীগ নেতা তুষার কান্তি সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন পরিষদের উপজেলা শাখার সভাপতি প্রভাষক গৌতম কুমার কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক সনজিৎ বসু, মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ কুমার বসু, তাপস বোস, চন্দন কুন্ডু, দূর্গাপদ রায়, শক্তিপদ রাহা, দীপ্তি রানী দত্ত, পরিমল কান্তি বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ মন্ডল, পরিমল দাস, প্রসেজিৎ হালদার, অশোক মন্ডল, বিশ্বজিৎ রায় প্রমুখ।

ডুমুরিয়ায় গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

বিজ্ঞপ্তি : খুলনা জেলা ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডুমুরিয়া থেকে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ রাসেল গাজী (২২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে।
জেলা ডিবি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসানের দিক-নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা, খুলনার অফিসার ইনচার্জ জনাব উজ্জ্বল কুমার দত্ত এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক, এসআই (নিঃ) বিষ্ণুপদ হালদার সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ একটি টীম ডুমুরিয়া থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ বিবিধ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রানই গ্রামের ইসরাফিল গাজী ও লাকী বেগমের পুত্র রাসেল গাজী (২২) কে ২শ’ গ্রাম গাঁজা সহ গেফতার করা হয়। আসামীর বিরুদ্ধে এসআই (নিঃ) বিষ্ণুপদ হালদার বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় মামলা নং- ০৮, তারিখ- ০৮/০৬/২০২১ খ্রিঃ, ধারা- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১) সারণির ১৯ (ক) দায়ের করেন।

বটিয়াঘাটায় ৩ গরু চোর আটক

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : অবশেষে গভীর রাত্রে বটিয়াঘাটা থানা টহল পুলিশের বিশেষ অভিযানে হাতেনাতে আটক হলো আন্তঃ গরু চোর চক্রের তিন সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে, গত পরশু সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নের গাওঘরা টু সুখদাড়া সড়কের পাশে সরদার বাড়িতে গরু চুরির প্রাক্কালে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে জেলার ফুলতলা উপজেলার ডাইকোনা গ্রামের মোঃ সবুর সর্দারের পুত্র শাহিন সরদার (২৯) ও একই উপজেলার পিপরাইল ফুলতলা এলাকার রমেশ দাস এর পুত্র বিজয় দাস( ২৬) এবং কেএমপি’র সোনাডাঙ্গা সবুজবাগ এলাকার হিরু মোল্লার পুত্র গোলাম রাব্বী (২৬) ব্লু রংয়ের নাম্বার বিহীন একটি লুনু পিকআপ যোগে উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নের গাওঘরা সরদার বাড়ীর লুৎফর রহমান সরদার এর গোঁয়ালে থাকা একটি এঁড়ে গরু পিকআপে তুলতে থাকে। এদিকে পূর্ব থেকে টহলে ওৎ পেতে থাকা থানার ওসি মোঃ রবিউল কবিরের নেতৃত্বে এসআই মোঃ নুর ইসলাম এএসআই মোঃ রাসেল সহ সঙ্গীয় ফোর্স চোর চক্রের পিঁছু নেয়। পুলিশ এ সময় উক্ত চোর চক্রের ৩ সদস্য ও পিকআপসহ হাতেনাতে আটক করে মালিকের নিকট গরুটি হস্তান্তর করে ধৃতদের কোর্টে সোপর্দ করে। এ ব্যাপারে থানায় আজ মঙ্গলবার ৮ নং মামলা দায়ের হয়েছে।

শরণখোলায় ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

শরণখোলা প্রতিনিধি : বাগেরহাটের শরণখোলায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে (১১) যৌন হয়রানীর অভিযোগে শহিদুল হাওলাদার (৪৫) নামে এক প্রধান শিক্ষক নামে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮জুন) সকালে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী-চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত আ. কাদের হাওলাদারের ছেলে অভিযুক্ত শহিদুল হাওলাদার ওই ইউনিয়নের ৪৭নম্বর শরণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে।
ভিকটিমের বাড়িও একই ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনারদিন সকালে ফোন করে প্রধান শিক্ষক শহিদুল হাওলাদার পঞ্চম শ্রেণির রেজিষ্ট্রেশনের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ ও মা-বাবার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি নিয়ে স্কুলে যেতে বলেন ছাত্রীকে। তখন ওই ছাত্রী কাগজপত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে বসে মেয়েটিকে একা পেয়ে যৌন হয়রানী করেন। পরে মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি তার মা-বাবাকে জানায়।
এর পর অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করে। কিন্তু ভিকটিমের পরিবার তাতে রাজি না হওয়ায় ঘটনার পাঁচদিন পর মামলা দায়ের হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরণখোলা থানার উপপরিদর্শক স্বপন কুমার সরকার জানান, যৌন হয়রানীর অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল হাওলাদারকে প্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া, জবানবন্দির জন্য আভিকটিমকেও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে পঠানো হয়েছে।

বটিয়াঘাটায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালক (অনূর্ধ্ব- ১৭)- ২০২১ ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট,বালিকা( অনূর্ধ্ব -১৭)-২০২১ এর উপজেলা পর্যায়ের উদ্বোধনী খেলা মঙ্গলবার সকাল দশটায় স্থানীয় বটিয়াঘাটা উপজেলা টিডিসি ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। খেলার শুভ উদ্বোধন করেন টুর্নামেন্ট সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম।বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিকী সহকারীকমিশনার (ভুমি), জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ হালদার, ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় নিতাই গাইন ভাইস ও চঞ্চলা মন্ডল,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এমদাদুল হক, ওসি (তদন্ত) মোল্যা মোঃ খালিদ হোসেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ,ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন মন্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আফজাল হোসেন, বীর মুক্তিযুদ্ধা বিনয় কৃষ্ণ সরকার। উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষা অফিসার নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোনায়েম খান এর যৌথ সঞ্চালনায় ও ধারা বিবরণীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত খেলায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশিকুজ্জামান আশিক, অধ্যাপক পার্থপ্রতিম মন্ডল, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সমীর কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান মন্ডল, সহকারী শিক্ষক রঞ্জন কুমার রায়, সমাজসেবক অনুপম মন্ডল, সাংবাদিক ইমরান হোসেন, ইউপি সদস্য বিপ্রদাস টিকাদার কার্তিক সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, দর্শনার্থী বৃন্দ। খেলায় বালক (অনূর্ধ্ব -১৭) তে ১নং জলমা ইউনিয়ন , ৪নং সুরখালী ইউনিয়নকে ১ -০ গোলে হারিয়ে বিজয়ী হয়। খেলা পরিচালনা করেন কেডিএস এর রেফারি জাহিদুর ইসলাম। সহকারীর দায়িত্ব পালন করেন জাহিদুল ইসলাম ও তৌহিদুল ইসলাম।চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক পার্থপ্রতিম মন্ডল। আগামী ১০ জুন বিকাল চারটায় ওই একই ময়দানে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনায় গত ৬৮ দিনে করোনা উপসর্গে মৃত্যু ৮৪ জন, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৩৭৬

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংলগ্ন ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে আইসোলেসন ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ৬৮ দিনে ( এপ্রিল- ৭ জুন সকাল ৮টা) পর্যন্ত মারা গেছে ৮৪ জন। ওই ওয়ার্ড চালুর পর থেকে সোমবার ( ৭ জুন) সকাল পর্যন্ত করোনার উপসর্গে রোগী মারা গেছে ৩৭৬ জন আর করোনায় মারা গেছে ২৮৬ রোগী। সে হিসেবে খুলনা করোনার উপসর্গে রোগীর মৃত্যু সংখ্যা বেশি। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে যারা ডায়াবেটিকস, কিডনী, হার্টের সমস্যাসহ যারা জটিল রোগে ভুগতিছেন করোনায় তারাই মারা যাচ্ছেন বেশি বলে চিকিৎসকদরে অভিমত। করোনার প্রতিদিন মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ছাড়াও চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরএমও ও করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা: সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, কাগজ-কলমে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে ১০০ শয্যা বেড চালু আছে। বর্তমানে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য জায়গা থেকে আরও ৩০টি বেড সংযুক্ত করে চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসা নিতে অধিকাংশই জ্বর ও শ্বাষকষ্টের রোগী বেশি। পাশাপাশি তারা অন্যান্য জটিলরোগে আগে থেকে ভুগছিলেন।
ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের সূত্র মতে, আইসোলেসন ওয়ার্ডে গত এপ্রিল মাসে করোনার উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হয়েছে ৬৪১ জন। এর মধ্যে পুরষ ছিলো ৩৬২ জন ও মহিলা ছিলো ২৭৯ জন। এ সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষের মৃত্যু হয় ২৪ জন ও মহিলা ১৫ জন। একই মাসে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ছিলো ১ হাজার ২৪০ জন। মারা যায় ৫৫ জন। এর মধ্যে পুরষের মৃত্যু হয় ৩৪ জনের। মে মাসে গিয়ে দেখা গেছে, আইসোলেসন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলো ৬১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৫৭ জন, বাকিরা মহিলা রোগী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষের মৃত্যু হয় ২৪ জনের। আর করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলো ১ হাজার ৩৭৮ জন। এর মধ্যে পরুষ ৭৪৭ জন ও মহিলা ছিলো ৪৪৮ জন। মারা ৩৫ জন করোনা রোগী। যার মধ্যে পুরুষের মৃত্যু হয় ২৮ ও মহিলা ৭ জন। চলতি মাসে গতকাল সোমবার (৭ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত। করোনা উপসর্গে নিয়ে ভর্তি রোগী মারা যায় ৬ জন আর করোনায় রোগী মারা যায় ২০ জন। ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল চালুর পর থেকে ৭ জুন পর্যন্ত করোনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ২৮৬ জন এবং উপসর্গে নিয়ে মারা গেছে ৩৭৬ জন। গত দুই মাসে দেখা গেছে এপ্রিলের থেকে মে মাসে করোনা উপসর্গ নিয়ে রোগী বেশি মারা গেছে। জুন মাসে প্রথম দিকে আবার করোনা রোগী বেশি মারা যাচ্ছে। গতকাল সোমবার ( রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) গত ২৪ ঘন্টায় ডেডিকেটেড করোনা হাসাপাতালে মোট রোগী ভর্তি ছিলো ১১৯ জন। এর মধ্যে রেডজোনে ছিলো ৫৭ জন, ইয়েলোজোনে ২৫ জন, এইচডিইউতে ১৮ জন ও আইসিইউতে ছিলো ১৯ জন রোগী। এ সময়ের মধ্যে ভর্তি হয় রেডজোনে ২০ জন, ইয়েলোজোনে ২১ জন। ছাড়পত্র দেওয়া হয় রেডজোনে ২১ ও ইয়েলোজোনে ২৬ জন। এছাড়া এইচডিইতে ভর্তি করা হয় ১৮ জন এবং আইসিইউতে ভর্তি রেডজোনের ১৯ রোগী। এদিকে খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র মতে, গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা জেলায় করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয় ৭৯ জন। এর মধ্যে খুলনা শহরে রয়েছে ৫৬ জন। এছাড়া দাকোপে ১ জন, রূফসায় ৩ জন, তেরখাদায় ৫ জন, দিঘলিয়ায় ৪ জন, ফুলতলায় ৫ জন, ডুমুরিয়ায় ১ জন এবং পাইকগাছা উপজেলায় ৪ জন করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হন। মারা যায় ২ জন। তারা একজন নগরীতে অপরজন ডুমুরিয়ার বাসিন্দা।
হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন, মৃদু মাঝারি ও তীব্র উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হন। তীব্র উপগর্স থাকা ব্যক্তির মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে গত বছরের চেয়ে এবার তীব্র উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেশি।

ডুমুরিয়ার ৭৭৪জন জেলে পাচ্ছেন মানবিক সহায়তা

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : সমুদ্র জলসীমায় মৎস্য শিকারে যাওয়া ডুমুরিয়া উপজেলার ৭৭৪ জন জেলে পাচ্ছেন মানবিক সহায়তা। মানবিক সহায়তা কর্মসুচীর আওতায় বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে তারা প্রত্যেকে পাচ্ছেন ৫৬ কেজি ভিজিএফের চাল। ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এ প্রথা চালু হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা মতে, বছরের (২০মে হতে ২৩জুলাই) ৬৫দিন দেশের সমুদ্র জলসীমায় সকল প্রকার মাছ শিকার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে এই সময়টা মৎস্য আহরণের সাথে সংশ্লিষ্ট জেলেরা এক প্রকার বেকারত্ব জীবন-যাপন করেন। তাই তাদের সাহায্যর্থে বর্তমান সরকার বিশেষ সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল বিতরণ কর্মসুচী গ্রহন করেন। কিন্তু এ সহায়তা দেশের অন্যান্য এলাকায় প্রচলন থাকলেও ডুমুরিয়া উপজেলার জেলেরা ছিল বঞ্চিত। উপজেলা মৎস্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় এবারই প্রথম এ কর্মসুচী চালু হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আবুবকর সিদ্দিক বলেন, সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্য আহরণে যাওয়া জেলেদের সহায়তা হিসেবে চাল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ডুমুরিয়ায় এই সুযোগটা ছিল না। অফিসিয়ালি ভাবে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে বরাদ্দটা পেয়েছি। ফলে এবার থেকে এই উপজেলায় সমুদ্রগামী জেলেরা এ সুযোগটা পাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে আমরা যাচাই-বাছাই করে মোট ৭৭৪ জনকে সনাক্ত করেছি। তারমধ্যে খর্ণিয়া ইউনিয়নে আছেন ৪২জন, আটলিয়ায় আছেন ১৬৬জন, শোভনায় আছেন ৬১জন, শরাফপুরে আছেন ২৭০জন, সাহসে আছেন ১০৪জন, ভান্ডারপাড়ায় ১১জন, ডুমুরিয়া সদরের ৮১জন ও মাগুরখালীতে আছেন ৩৯জন। নির্ধারিতরা তাদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ চাল গ্রহন করবেন।

ফুলতলায় গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

বিজ্ঞপ্তি : খুলনা জেলা ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফুলতলা থানা এলাকা হতে ৪০০ গ্রাম মাদকদ্রব্য গাঁজাসহ এক মাদক ব্যসায়ী গ্রেফতার হয়েছে।
জেলা ডিবি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, খুলনা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান এর দিক-নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা, খুলনার অফিসার ইনচার্জ উজ্জ্বল কুমার দত্ত এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) সৌরভ কুমার দাস সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ একটি টীম ফুলতলা থানা এলাকায় গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪০০ গ্রাম মাদকদ্রব্য গাঁজাসহ যশোর জেলার আভয়নগর থানার বারান্দি এলাকার মৃত খোরশেদ আলী বিশ্বাস ও মৃত মাজু বিবির পুত্র খতম আলী বিশ্বাস (৬০) কে গ্রেফতার করে। আসামীর বিরুদ্ধে এসআই (নিঃ) সৌরভ কুমার দাস, জেলা ডিবি, খুলনা বাদী হয়ে ফুলতলা থানায় মামলা নং- ০৫, তারিখ- ০৭/০৬/২০২১ খ্রিঃ, ধারা- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১) সারণির ১৯ (ক) দায়ের করেন।

মোংলায় ৩০ জনের করোনা সনাক্ত, সনাক্তের হার ৬১ ভাগ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলায় বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ ও সনাক্তের হার। মঙ্গলবার ৪৯ জনের মধ্যে ৩০ জনের করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবারের সনাক্তের হার প্রায় ৬১ ভাগ। এর আগে সোমবার এর হার ছিল ৫৪ ভাগ এবং রবিবার ছিল ৫৩ ভাগ।
মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৯ জন করোনা পরীক্ষার নমুনা দেন। তাদের মধ্যে র‌্যাপিড এ্যান্টিজেন টেস্টে ৩০ জন করোনা সনাক্ত হয়েছেন। হঠাৎ করে সংক্রমণ বাড়াতে গত ৩০ মে থেকে পৌর এলাকা জুড়ে করোনার কঠোর বিধি নিষেধ জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। ৩০ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত এখানে করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন ২৩৫ জন। এরমধ্যে সনাক্ত হয়েছেন ১৪১ জন।
বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা: কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমানে মোংলায় করোনা সনাক্তের হার শতকরা ৬০ ভাগ। তিনি বলেন, আগের তুলনায় সনাক্তের হার কমেছে, কারণ এর আগে ৭১ ভাগ পর্যন্তও সনাক্তের হার ছিল। আশা করছি চলতি এ সপ্তাহের মধ্যে সনাক্তের হার আরো কমে আসবে। মুলত চলতি সপ্তাহ গেলে বুঝা যাবে এখানকার প্রকৃত অবস্থা, কমছে নাকি বাড়ছেই। না কমলেও তার কারণ কি হতে পারে সেটি আমরা খুঁজে বের করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এদিকে চলমান কঠোর বিধি নিষেধের ১০ম দিনেও পৌর শহরের প্রবেশ মুখগুলোতে লোকসমাগম ও যান চলাচল ঠেকাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। পৌর শহরে ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্ট, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও আনসারের টহল থাকায় শহর এলাকায় বিধি নিষেধ কিছু মানা হলেও মুলত তা মানা হচ্ছেনা উপজেলার বাকী ৬টি ইউনিয়নে। ইউনিয়নগুলোতে বিধি নিষেধের তেমন কোন বালাই নেই। পৌর শহরের প্রবেশমুখ কলেজ রোড, কুমারখালী ও কাইনমারী এলাকা দিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন ও গাড়ী অবাদে চলাচল করছে। চলমান বিধি নিষেধ না মানায় এ কয়দিনে ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৪৯টি মামলায় ৫৫ জনকে ৩২ হাজার ১শ টাকা নগদ জরিমানা করা হয়েছে।
বিধি নিষেধের মধ্যেও স্বাভাবিক রয়েছে মোংলা বন্দরের সকল কার্যক্রম। মঙ্গলবার বন্দরে থাকা ৯টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য ওঠানামা ও পরিবহণের কাজ চলেছে। বন্দরের পাশাপাশি বন্দর সংশ্লিষ্ট কাস্টমসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুনামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ডুমুরিয়া দল

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুনামেন্ট (অনুর্ধ্ব-১৭) -’২১ সম্পন্ন হয়েছে। চুড়ান্ত পর্যায়ে ডুমুরিয়া সদর দল ২-০ গোল ব্যবধানে সাহস ইউনিয়ন দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুনামেন্ট অনুর্ধ্ব-১৭ শুরু হয়। গত ৫ই জুন শনিবার থেকে এ টুনামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তবে চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে লীগ পর্যায়ে ও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলাগুলো পৃথক পৃথক ভেন্যু হিসেবে শাহপুর কলেজ মাঠ, চুকনগর কলেজ মাঠ, নোয়াকাঠির মাঠ ও ডুমুরিয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল খেলাগুলো ডুমুরিয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ডুমুরিয়া কলেজ মাঠে চুড়ান্ত পর্যায়ের খেলায় ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়ন দল বনাম সাহস ইউনিয়ন দল অংশ গ্রহন করে। খেলায় ডুমুরিয়া দল ২-০ গোল ব্যবধানে সাহস দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে শিরোপা তুলে দেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মনিরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা সমবায় অফিসার জাহিদুর রহমান, উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র দাস, উপজেলা নির্বাচন কমিশন কল্লোল বিশ্বাস, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার সুব্রত বিশ্বাস ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান।