ফুলতলায় লকডাউনে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দন্ড

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ করোনা সংক্রমন রোধে খুলনা জেলা প্রশাসন ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের তৃতীয় দিন ফুলতলায় উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারী ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে লকডাউন যথাযথ কার্যকর করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় ফুলতলার বাজারে দোকান খুলে রাখায় জননী ট্রেডার্স এর মালিক আঃ কাউয়ুমকে ৫ হাজার, নিউ সিরাজ ওয়াচ এন্ড ইলেকট্রনিক্স এর বিল্লাল মল্লিককে ২ হাজার ও মাস্ক ব্যবহার না করায় এক ব্যাক্তিকে ১শ’ টাকা এবং এর পূর্বে সকালে শিরোমনি বাজারের এক হার্ডওয়ার ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) রুলী বিশ^াস। এদিকে বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বা¯’্য কমপ্লেক্সে ৬৩ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় ২৭ জনের করোনা পজেটিভ বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

 

আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের নামে প্রতারণা, মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক : আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে চাকরী দেয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারনার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সরোজিৎ বাইন। দায়েরকৃত মামলার পর কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফারুক হোসেন হেমায়েতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে কেএমপির খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন।
খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে(খালিশপুর) দায়েরকৃত একটি মামলায় গত ২৭ মে ওই গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। যার নম্বর খালিশপুর সিআর-৫৯/২১ এবং মামলা নম্বর ৩৫২/২১। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মহেশ^রীপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও নগরীর খালিশপুর থানাধীন বড় বয়রা পালপাড়া রোডের বাসিন্দা বিভুতী ভুষন বাইনের পুত্র সরোজিৎ বাইন এ মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে খুলনা জজকোর্টের আইনজীবী এড. মো: জিল্লুর রহমন খান গত বছর(২০২০) ২৬ নভেম্বর ফারুক হোসেন হেমায়েতের বিরুদ্ধে একটি লিগ্যাল নোটিশ দেন। লিগ্যাল নোটিশ ও মামলার আরজিতে কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফারুক হোসেন হেমায়েতের বিরুদ্ধে বাদীর কাছ থেকে চাকরী দেয়ার নামে সাড়ে তিন লাখ টাকা গ্রহণ এবং নিয়োগ পত্র দেয়ার পরও সংশ্লিষ্ট স্থানে যোগদান করতে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
মামলার আরজিতে বলা হয়, কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লিমিটেড’র আওতায় পিয়ন পদে চাকরীর জন্য বিবাদীর নগরীর খালিশপুর থানাধীন বয়রা জংশনের ৪৮ নম্বর বাড়ির মোল্লা রহিম মঞ্জিলের অফিসে বাদী গেলে চাকরীর সিকিউরিটি হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বাদী সাড়ে তিন লাখ টাকা দিতে রাজী হলে বিবাদী তাকে চাকরী দিতে সম্মত হন। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ জুন বিবাদীর উক্ত ঠিকানায় বসে বাদী সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রদান করেন। এসময় বিবাদীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্যাডে এ ব্যাপারে একটি অঙ্গীকার নামাও প্রদান করেন। একইসাথে ওই বছরের ২ জুলাই কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লি: এর প্যাডে বাদীকে পিয়ন পদে চাকরীর জন্য একটি নিয়োগপত্র দেয়া হয়। বাদী নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট অফিসে চাকরীতে যোগদান করতে গেলে সেখান থেকে বলা হয়, ওই পদে আগে থেকেই লোক আছে। এমনকি তার যোগদানপত্র গ্রহণ না করে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।
উপায় না পেয়ে সরোজিৎ বাইন পরে ফারুক হোসেন হেমায়েতের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তাকে এই বলে আশ^স্ত করেন যে, ‘অসুবিধা নেই, কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে’। এভাবে কয়েক মাস ঘুরানোর পরও তাকে কোন প্রকার চাকরী না দিয়ে ছলচাতুরি করা হয়। এক পর্যায়ে গত বছর ২৬ নভেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে ফারুক হোসেন হেমায়েতকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু ওই লিগ্যাল নোটিশের জবাব না দেয়ায় সর্বশেষ গত ৪ মার্চ তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করা হয় এবং বলা হয় ‘পারলে টাকা আদায় করে নিস’।
এরপর উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতে ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়।
এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার কেএমপির খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্র্জ(ওসি) মো: কামাল হোসেন বলেন, আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা থানায় পৌঁছেছে। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফারুক হোসেন হেমায়েত বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য না। তিনি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেননি।
উল্লেখ্য, কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থায় আউটসোর্সিং হিসেবে কর্মচারী নিয়োগের নামে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিভিল সার্জনের আওতাধীন কয়েকটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আগের ঠিকাদারের নিয়োগকৃত কর্মচারীরা বহাল থাকার পরও তদস্থলে আবারো লোক পদায়ন করা হয়। এ ক্ষেত্রে খুলনার সাবেক সিভিল সার্জনকে ম্যানেজ করে প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই এমনকি সিভিল সার্জনের স্ট্যান্ড রিলিজ থাকাবস্থায় টেন্ডার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। যে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে খুলনার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের একজন সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে একটি টিম তদন্ত করছে বলেও জানা গেছে।
অপরদিকে, আগের ঠিকাদারের নিয়োগকৃত ২১১ জন কর্মচারীও বিগত এক বছর ধরে বেতন বঞ্চিত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ একদিকে বর্তমান ঠিকাদারের নিয়োগকৃত ২১৪ জনেরও বেতন হয়নি আবার পূর্বে নিয়োগকৃত ২১১জনও একইভাবে বেতনবিহীন রয়েছেন।

জামিনে মুক্ত হলেন চট্টগ্রামের তরুণ আইনজীবী পল্টন দাশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম জজ আদালতের তরুণ আইনজীবী এডভোকেট পল্টন দাশের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় বুধবার মহানগর আদালত বাদী ও আসামি উভয় পক্ষের শুনানী শেষে বিচারক শেখ আশফাকুর রহমান জামিন দেন।

মামলার শুনানিতে বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এডভোকেট রানা দাশ গুপ্তের নেতৃত্বে একটি আইনজীবী প্যানেল।

আসামি পক্ষে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি আইনজীবী প্যানেল।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট পল্টন দাশের সাথে ফেইসবুকে  যোগাযোগ হওয়ার পর তরুনী চট্টগ্রাম আদালতে মামলার তদবীরের জন্য আসা-যাওয়ার সুবাধে দেখা হয়। আইনজীবী পল্টন দাশের মাধ্যমে আইনী সংগঠন ও  পেশাজীবী, সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে নিজেই যোগাযোগ রেখে চলেন।

আইনজীবী পল্টন দাশ রাঙ্গুনিয়া আদালত আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট বঙ্কিম দাশের পুত্র।

গত ৬ জুন তরুনী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করে বিয়ের জন্য জোর করেন। আইনজীবী পল্টন দাশ উক্ত মহিলার সাথে শারীরিক সর্ম্পকের বিয়ষটি অস্বীকার করে পেটের বাচ্চার ডিএনএ টেস্ট করার দাবি করলে তরুনী কোন অবস্থাতে ডিএনএ টেস্ট করার জন্য রাজি হয়নি।

ডিএনএ টেস্ট প্রমানিত হওয়ার পর তরুণীকে বিয়ে করার প্রস্তাব করা হলে এতে তরুনী ক্ষিপ্ত হয়ে আইনজীবী পল্টন দাশের বিরুদ্ধে গত ৬ জুন চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানায় ধর্ষনের অভিযোগে মামলা করেন।
গত ১১ জুন এডভোকেট পল্টন দাশকে কৌশলে থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

আদালত মামলার বাদী সঞ্জয়িতা দত্ত পিংকির পেটের বাচ্চার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট ৭দিনের মধ্যে প্রদান করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

গত ১৭ জুন আদালতের নির্দেশ মতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আরাফাত হোসেনের পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন বাদী ৮ মাসের অন্তঃসত্বা হওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষা করাতে অনিহা প্রকাশ করেন। সন্তান ডেলিভারী হওয়ার পর সিআইডির মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষা করবেন বলে বাদী জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য আইনজীবী পল্টন দাশ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও আইনী সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করে আসছে। পল্টন দাশের মামলাটি নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম লইয়ার এন্ড স্টুডেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে গত ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং মামলার বাদী আমেরিকায় পলাতক দেশদ্রোহী প্রিয়া সাহার অন্যতম সহযোগী হিসেবে উল্লেখ  করেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডাভোকেট এ এইচ এম জিয়া উদ্দীন বলেন একজন আইনজীবী যদি হয়রানির শিকার হয় তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কি হবে, যার কারণে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির অধিকাংশ আইনজীবী পল্টন দাশের পক্ষে আদালতে দাড়ান। উক্ত মহিলার ডিএনএ রির্পোট না আসা পর্যন্ত আসামিকে দোষী প্রমাণিত করা সম্ভব নয় বিদায় আদালত আসামিকে জামিন দিয়েছে বলে তিনি জানান।

জামিনে মুক্ত এডভোকেট পল্টন দাশ এর এর পিতা রাঙ্গুনিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট বঙ্কিম চন্দ্র দাশ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সকল সদস্যদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।